দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

মধ্যপ্রাচ্যের সমুদ্রসীমায় প্রবেশ করেছে মার্কিন নৌবহর ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন। সঙ্গে রয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ডের অধীন কিছু গাইডেড-মিসাইল ডেস্ট্রয়ার।
সোমবার (২৬ জানুয়ারি) ইউএস সেন্ট্রাল কমান্ড এক্স (সাবেক টুইটার)-এ দেওয়া এক পোস্টে জানায়, লিংকনের স্ট্রাইক গ্রুপটি ইতোমধ্যে ওই অঞ্চলে পৌঁছেছে এবং জাহাজগুলো ‘আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা জোরদার করতে মধ্যপ্রাচ্যে মোতায়েন’ রয়েছে। খবর টিআরটি ওয়ার্ল্ড
খবরে বলা হয়, এতে ইরানের সম্ভাব্য মার্কিন হামলা নিয়ে উদ্বেগ বেড়েছে। তবে ইরান জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের যেকোনো আগ্রাসনের জবাবে তারা পাল্টা প্রতিক্রিয়া জানাতে প্রস্তুত।
এর আগে গত সপ্তাহে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছিলেন, ‘যদি প্রয়োজন হয়’ সেই বিবেচনায় ওয়াশিংটন একটি ‘বিশাল নৌবহর’ পাঠাচ্ছে।
ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন-এর ক্যারিয়ার স্ট্রাইক গ্রুপের এই মোতায়েন অঞ্চলটিতে মার্কিন সামরিক শক্তি উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি করেছে।
যুক্তরাষ্ট্র ইসরায়েলের পক্ষে সমর্থন দিয়েছিল এবং জুন মাসে ইরানের সঙ্গে ইসরায়েলের ১২ দিনের যুদ্ধে সংক্ষিপ্ত সময়ের জন্য সরাসরি যুক্তও হয়েছিল। যদিও ট্রাম্প গত সপ্তাহে নতুন সামরিক হামলার হুমকি থেকে কিছুটা সরে এসেছেন বলে মনে হয়েছিল, তবু তিনি কখনোই সেই বিকল্প পুরোপুরি নাকচ করেননি।
অতীতেও উত্তেজনার সময় যুক্তরাষ্ট্র মধ্যপ্রাচ্যে অতিরিক্ত সামরিক শক্তি মোতায়েন করেছে, যা প্রায়ই প্রতিরক্ষামূলক পদক্ষেপ ছিল। তবে গত বছর ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচিতে জুন মাসে চালানো হামলার আগে যুক্তরাষ্ট্র বড় ধরনের সামরিক সমাবেশ করেছিল।
ক্যারিয়ার ও যুদ্ধজাহাজ ছাড়াও পেন্টাগন মধ্যপ্রাচ্যে নিয়মিত যুদ্ধবিমান এবং আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা পাঠাচ্ছে।
এদিকে গত সপ্তাহে এক জ্যেষ্ঠ ইরানি কর্মকর্তা বলেন, যেকোনো হামলাকে তেহরান ‘সর্বাত্মক যুদ্ধ’ হিসেবে বিবেচনা করবে।
সোমবার ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ও সেই সতর্কবার্তা পুনর্ব্যক্ত করে জানায়, যেকোনো আগ্রাসনের জবাবে কড়া জবাব দেওয়া হবে।
মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘায়ি বলেন, ইরান নিজেদের সক্ষমতার ওপর আত্মবিশ্বাসী।
লিংকনের প্রতি ইঙ্গিত করে তিনি আরও বলেন, ‘এ ধরনের একটি যুদ্ধজাহাজের আগমন ইরানের দৃঢ়তা ও সার্বভৌমত্বে কোনো প্রভাব ফেলবে না।’
এদিকে সংযুক্ত আরব আমিরাত সোমবার জানিয়েছে, তারা তাদের আকাশসীমা, ভূখণ্ড বা আঞ্চলিক জলসীমা ইরানের বিরুদ্ধে কোনো শত্রুতামূলক সামরিক কর্মকাণ্ডে ব্যবহার করতে দেবে না।
এছাড়া সোমবার হিজবুল্লাহ প্রধান নাইম কাসেম বলেন, তাদের পৃষ্ঠপোষক তেহরানের ওপর যেকোনো হামলা হিজবুল্লাহর ওপর হামলার শামিল হবে এবং ইরানের বিরুদ্ধে নতুন কোনো যুদ্ধ পুরো অঞ্চলকে অগ্নিগর্ভ করে তুলবে।
ইরানের প্রতি সংহতি জানিয়ে আয়োজিত এক সমাবেশে সমর্থকদের উদ্দেশে টেলিভিশনে দেওয়া ভাষণে কাসেম বলেন, ‘যে আগ্রাসন আমাদের মধ্যে কোনো পার্থক্য করে না, তার মুখে আমরা সবাই লক্ষ্যবস্তু—এবং আমরা আত্মরক্ষায় দৃঢ়প্রতিজ্ঞ।’
তিনি সতর্ক করে বলেন, ‘এবার ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ হলে তা পুরো অঞ্চলকে জ্বালিয়ে দেবে।’
এবি/