দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

ইরানে ছড়িয়ে পড়া বিক্ষোভের প্রেক্ষাপটে যুক্তরাষ্ট্র যেন হামলা না চালায়—এমন সতর্কবার্তা দিয়েছে ইরান। এদিকে ওয়াশিংটন কী প্রতিক্রিয়া দেখাবে তা নিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বিভিন্ন বিকল্প বিবেচনা করছেন। আগামীকাল মঙ্গলবার ট্রাম্পকে সামরিক হামলা, গোপন সাইবার অস্ত্র ব্যবহার, নিষেধাজ্ঞা বাড়ানো এবং সরকারবিরোধী অনলাইন তৎপরতায় সহায়তাসহ বিভিন্ন বিকল্প নিয়ে ব্রিফ করা হবে।
এদিকে বিক্ষোভে নিহতের সংখ্যা শতাধিক ছাড়িয়েছে বলে জানা গেছে। যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক মানবাধিকার সংগঠন হিউম্যান রাইটস অ্যাক্টিভিস্টস নিউজ এজেন্সির তথ্য অনুযায়ী, বিক্ষোভসংক্রান্ত সহিংসতায় অন্তত ৫৩৮ জন নিহত হয়েছে, যার মধ্যে ৪৯০ জনই বিক্ষোভকারী। সংগঠনটি আরও জানায়, ইরানি কর্তৃপক্ষ ১০ হাজার ৬০০–এর বেশি মানুষকে গ্রেপ্তার করেছে। খবর দ্য গার্ডিয়ান
আরেকটি মানবাধিকার পর্যবেক্ষক সংস্থা, নরওয়ে–ভিত্তিক ইরান হিউম্যান রাইটস রোববার জানায়, অন্তত ১৯২ জন বিক্ষোভকারী নিহত হয়েছে। ইন্টারনেট বন্ধ থাকায় ইরানের ভেতরে মানুষের সঙ্গে যোগাযোগে সমস্যার কারণে বিভিন্ন সংস্থার হিসাব ভিন্ন ভিন্ন। তবে সবাই মনে করছে এই সংখ্যাগুলো প্রকৃত সংখ্যার চেয়ে কম। সরকার নিজস্ব কোনো সংখ্যা দেয়নি এবং এগুলো যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
প্রতিবাদের দ্বিতীয় সপ্তাহে কর্তৃপক্ষ দমন–পীড়ন জোরদার করায় মৃত্যুর সংখ্যা হঠাৎ বেড়ে গেছে। দেশজুড়ে সম্পূর্ণ ইন্টারনেট বন্ধ থাকায় মানবাধিকার সংগঠনগুলো যোগাযোগে হিমশিম খাচ্ছে এবং সতর্ক করেছে যে নিহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে।
এই কঠোর দমন–পীড়নে যুক্তরাষ্ট্রের হস্তক্ষেপের আশঙ্কা বেড়েছে। ট্রাম্প বলেছেন, ইরানি সরকার যদি বিক্ষোভকারীদের হত্যা করে, তবে তিনি তাদের ‘উদ্ধার’ করবেন। শনিবার রাতেও তিনি হস্তক্ষেপের হুমকি পুনর্ব্যক্ত করেন। ট্রুথ সোশ্যাল প্ল্যাটফর্মে তিনি লেখেন, ‘ইরান সম্ভবত আগে কখনো না দেখা স্বাধীনতার দিকে তাকিয়ে আছে। যুক্তরাষ্ট্র সাহায্য করতে প্রস্তুত!!!’
ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল জানিয়েছে, মঙ্গলবার ট্রাম্পকে সামরিক হামলা, গোপন সাইবার অস্ত্র ব্যবহার, নিষেধাজ্ঞা বাড়ানো এবং সরকারবিরোধী অনলাইন তৎপরতায় সহায়তাসহ বিভিন্ন বিকল্প নিয়ে ব্রিফ করা হবে। যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য হামলার খবরে ইরানি কর্মকর্তারা ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছেন। পার্লামেন্টের স্পিকার সতর্ক করে বলেছেন, ওয়াশিংটন হামলা চালালে মধ্যপ্রাচ্যে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থ ‘বৈধ লক্ষ্য’ হবে।
ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ–বাঘের ঘালিবাফ বলেন, ‘ইরানে হামলা হলে দখলকৃত ভূখণ্ডসহ এই অঞ্চলে সব মার্কিন সামরিক কেন্দ্র, ঘাঁটি ও জাহাজ আমাদের বৈধ লক্ষ্য হবে।’
ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান অস্থিরতার জন্য যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলকে দায়ী করে বলেন, তারা ‘সন্ত্রাসী’ ঢুকিয়েছে যারা সরকারি সম্পত্তিতে হামলা চালাচ্ছে। টিভি সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ‘পরিবারগুলোর প্রতি আমার আহ্বান: আপনারা আপনাদের অপ্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের দাঙ্গাবাজ ও সন্ত্রাসীদের সঙ্গে যেতে দেবেন না, যারা মানুষের শিরশ্ছেদ করে ও অন্যদের হত্যা করে।’ এতে তিনি বিক্ষোভের বিরুদ্ধে আরও কঠোর অবস্থান নিয়েছেন বলে মনে হয়েছে।
রোববার সন্ধ্যায় ইরান সরকার দুই সপ্তাহের প্রতিবাদে নিহত নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যসহ ‘শহীদদের’ স্মরণে তিন দিনের জাতীয় শোক ঘোষণা করে, জানায় রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন। পেজেশকিয়ান সোমবার দেশজুড়ে ‘জাতীয় প্রতিরোধ মিছিল’-এ অংশ নিতে জনগণকে আহ্বান জানান, যাতে সহিংসতার নিন্দা করা হয়।
এবি/