দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

ইরানের সরকারকে দেওয়া প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ‘হুমকি’ অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়ে নিতে সতর্ক করেছেন ফক্স নিউজের সিনিয়র কৌশলগত বিশ্লেষক ও যুক্তরাষ্ট্রের অবসরপ্রাপ্ত জেনারেল জ্যাক কিয়েন। তার মতে, ৪৫ বছরে ইরান এখন ‘সবচেয়ে দুর্বল’ অবস্থায় রয়েছে।
তিনি ফক্স নিউজের ‘স্পেশাল রিপোর্ট’-এ আগামী শুক্রবার কী হতে পারে সে বিষয়ে ইঙ্গিত দেন। কিয়েন সতর্ক করে বলেন, ‘আমি যদি ইরানি সরকারের অংশ হতাম, তাহলে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে এখানে একেবারে সিরিয়াসলি নিতাম।’
শুক্রবার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ট্রুথ সোশালে এক পোস্টে সতর্ক করে বলেন, ইরানি সরকার যদি বিক্ষোভকারীদের গুলি করে হত্যা করে, তাহলে যুক্তরাষ্ট্র ‘লকড অ্যান্ড লোডেড’—অর্থাৎ প্রস্তুত অবস্থায় রয়েছে।
ফক্স নিউজের প্রতিবেদনে বলা হয়, এই বার্তাটি এসেছে এমন সময়ে, যখন সরকারবিরোধী বিক্ষোভ দ্বিতীয় সপ্তাহে প্রবেশ করেছে এবং ন্যাশনাল কাউন্সিল অব রেজিস্ট্যান্স অব ইরানের তথ্য অনুযায়ী, ইরানি নিরাপত্তা বাহিনীর হাতে অন্তত ৪৪ জন বিক্ষোভকারী নিহত হয়েছে।
কিয়েন ঘোষণা করেন, ‘ইরানি সরকার গত ৪৫ বছরে তাদের সবচেয়ে দুর্বল অবস্থানে রয়েছে এবং এ থেকে উত্তরণের কোনো সম্ভাবনা নেই।’
‘কোনো ধরনের অস্পষ্টতা ছাড়াই’ ট্রাম্প সতর্কবার্তা দিয়েছেন উল্লেখ করে কিয়েন আগের বিক্ষোভগুলোর তুলনায় বর্তমান সরকারবিরোধী আন্দোলনে যে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ পার্থক্য তিনি দেখছেন, সেগুলো তুলে ধরেন।
কিয়েন যোগ করেন, ‘রাজনৈতিকভাবে, (ইরানি সরকার) জনগণের সামাজিক, রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক আকাঙ্ক্ষা পূরণ করতে পারছে না। অর্থনৈতিকভাবে তারা নিশ্চিতভাবেই ধ্বংসস্তূপে, এবং ঘুরে দাঁড়ানোর কোনো সম্ভাবনা নেই।’
‘আর সামরিকভাবে, তারা সদ্য একটি যুদ্ধে হেরেছে। তারা সিরিয়ায় তাদের অবস্থান হারিয়েছে। তাদের প্রক্সি বাহিনীগুলো মোটামুটি ধ্বংস বা প্রায় নিশ্চিহ্ন হয়ে গেছে,’ তিনি বলেন। ‘এসবের ফল হলো, তারা মৌলিকভাবে একটি দুর্বল অবস্থানে রয়েছে, এবং এটি সরকারের জন্য অত্যন্ত গুরুতর।’
“এমন পরিস্থিতি তৈরি হলে অসন্তোষ বাড়ে এবং আস্থা ও ঐক্য ভেঙে পড়ে, কারণ মানুষ নিজেদের টিকে থাকা নিয়েই ভয় পেতে শুরু করে,’ তিনি ব্যাখ্যা করেন।
ফক্স নিউজের উপস্থাপক ব্রেট বেয়ার যখন কিয়েনকে জিজ্ঞেস করেন, সরকারবিরোধী বিক্ষোভকারীদের সমর্থনে যুক্তরাষ্ট্র বা ইসরায়েলের পক্ষ থেকে শিগগিরই ‘কোনো ধরনের হামলা’ হওয়ার সম্ভাবনা তিনি কীভাবে দেখছেন, তখন কিয়েন কোনো চূড়ান্ত উত্তর দেননি।
‘আমি বলব, প্রেসিডেন্টকে (ডোনাল্ড ট্রাম্প) সিরিয়াসলি নেওয়া উচিত,’ তিনি বলেন। ‘তারা কী ভাবছে সে সম্পর্কে আমার কোনো অন্তর্দৃষ্টি নেই, তবে আমি তারা যা বলছে তা শুনছি। আর তিনি একেবারে সিরিয়াস।’
নিজের বক্তব্য জোরালো করতে গিয়ে কিয়েন সম্ভবত ২০২৫ সালে ইরানের পারমাণবিক সমৃদ্ধকরণ স্থাপনাগুলো ধ্বংসে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযানের প্রসঙ্গ টানেন। ‘এই মুহূর্তে, গত এক বছরে যা ঘটেছে তারপরও, কেউ যদি প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এমন কিছু বললে তাকে সিরিয়াসলি না নেয়, তাহলে তা নিঃসন্দেহে বেপরোয়া ও দায়িত্বজ্ঞানহীন,’ তিনি জোর দিয়ে বলেন।
এবি/