দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

ইরানের ৩১টি প্রদেশের মধ্যে অন্তত ১৭টি প্রদেশে সরকারবিরোধী বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে। বিশ্লেষণে দেখা গেছে, ২০২২ সালের পর এটি দেশটির ধর্মীয় শাসনব্যবস্থার জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। যাচাই করা ভিডিও ফুটেজের ভিত্তিতে এই তথ্য পাওয়া গেছে। তবে প্রকৃত বিক্ষোভের সংখ্যা আরও বেশি হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। আরও ১১টি প্রদেশে বিক্ষোভের খবর পাওয়া গেছে।
গত ২৮ ডিসেম্বর থেকে বিক্ষোভের এই ঢেউ দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। শুরুতে রাজধানী তেহরানে ক্ষোভের বিস্ফোরণ ঘটে, যখন ডলারের বিপরীতে ইরানের মুদ্রার বড় ধরনের অবমূল্যায়ন হয়। এরপর কয়েক দিনের মধ্যেই দেশের বিভিন্ন শহর ও জনপদে মানুষ রাস্তায় নামতে শুরু করে।
শেষ ১০ দিনের যাচাই করা ভিডিওতে দেখা গেছে, দেশজুড়ে অন্তত ৫০টির বেশি শহর ও এলাকায় সরকারবিরোধী সমাবেশ ও বিক্ষোভ হয়েছে। এর মধ্যে এমন কিছু অঞ্চলও রয়েছে, যেগুলোকে আগে সরকারপন্থী বলে মনে করা হতো। কুম ও মাশহাদেও বিক্ষোভের চিত্র মিলেছে, যেখানে সাধারণত ইসলামিক প্রজাতন্ত্রের প্রতি মানুষের আনুগত্য বেশি।
জর্জ ওয়াশিংটন বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যপ্রাচ্য অধ্যয়ন কর্মসূচির পরিচালক অধ্যাপক সিনা আজোদি বলেন, এসব শহরে অস্থিরতা খুবই তাৎপর্যপূর্ণ। এতে বোঝা যাচ্ছে, অর্থনৈতিক সংকটে সরকারের সমর্থক গোষ্ঠীরাও ভুগছে।
এর আগে ২০২২ সালে মাহসা আমিনির মৃত্যুকে কেন্দ্র করে হওয়া বিক্ষোভ দমনে নিরাপত্তা বাহিনীর অভিযানে পাঁচ শতাধিক মানুষ নিহত হয় বলে মানবাধিকার সংগঠনগুলোর দাবি। সাম্প্রতিক বিক্ষোভে শুরুতে পুলিশের ভূমিকা কিছুটা সংযত মনে হলেও, শনিবার থেকে বলপ্রয়োগ বাড়ানোর প্রমাণ মিলেছে।
এই পরিবর্তনের সময়েই সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি প্রথমবারের মতো প্রকাশ্যে প্রতিক্রিয়া জানান। তিনি বলেন, ‘দাঙ্গাকারীদের যথাস্থানে রাখা হবে’। এর পর বিচার বিভাগের প্রধান গোলামহোসেইন মোহসেনি এজেই জানান, জীবিকা ও সামাজিক-অর্থনৈতিক সমস্যা নিয়ে যাদের যৌক্তিক অভিযোগ আছে, সরকার তাদের কথা শুনবে। তবে যারা পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি ও নিরাপত্তা ক্ষুণ্ন করবে, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
বিবিসি পারসি এখন পর্যন্ত অন্তত ১১ জনের মৃত্যুর তথ্য নিশ্চিত করেছে। মানবাধিকার সংগঠন এইচআরএএনএ বলছে, নিহতের সংখ্যা অন্তত ৩৫ জন, যার মধ্যে নিরাপত্তা বাহিনীর দুই সদস্যও রয়েছে। পশ্চিম ইলাম প্রদেশের মালেকশাহিতে সবচেয়ে সহিংস দমন অভিযান হয়েছে বলে জানা গেছে।
বিক্ষোভের শুরুতে মূলত অর্থনৈতিক দুরবস্থার বিরুদ্ধে ক্ষোভ থাকলেও, সাম্প্রতিক দিনগুলোতে আন্দোলন সরাসরি সরকার ও সর্বোচ্চ নেতার বিরুদ্ধে রূপ নিয়েছে। বিভিন্ন জায়গায় আয়াতুল্লাহ খামেনির বিরুদ্ধে স্লোগান দেওয়া হয়েছে। কোথাও কোথাও সাবেক শাহর ছেলে রেজা পাহলভির পক্ষে স্লোগানও শোনা গেছে।
তেহরান বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীরা ‘স্বৈরশাসকের মৃত্যু হোক’ স্লোগান দেন। সিস্তান ও বালুচিস্তান প্রদেশের ইরানশাহরে খামেনি ও ১৯৭৯ সালের বিপ্লবের নেতা আয়াতুল্লাহ রুহুল্লাহ খোমেনির ভাস্কর্যে আগুন দেওয়া হয়।
ওয়াশিংটন ইনস্টিটিউটের গবেষক হলি ডাগরেস বলেন, ২০২২ সালের আন্দোলন থেকে ইরান সরকার খুব কমই শিক্ষা নিয়েছে। তার মতে, সমস্যার মূল কারণ একই রয়ে গেছে—ব্যবস্থাপনাগত ব্যর্থতা, দুর্নীতি ও দমননীতি।
তবে অধিকাংশ বিশ্লেষকের মতে, এই মুহূর্তে বিক্ষোভগুলো রাষ্ট্রের অস্তিত্বের জন্য তাৎক্ষণিক হুমকি নয়। নিরাপত্তা বাহিনী এখনো সরকারের প্রতি অনুগত রয়েছে এবং বিক্ষোভকারীদের পক্ষ থেকে সরকার পতনের জন্য কোনো সুস্পষ্ট কৌশল দেখা যাচ্ছে না।
সূত্র: বিবিসি
এমএস/