দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

ভারতের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্যিক উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে কংগ্রেস নেতা পৃথ্বীরাজ চবানের এক মন্তব্য দেশটির রাজনীতিতে নতুন বিতর্ক তৈরি করেছে। ভেনেজুয়েলায় যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযানের প্রসঙ্গ টেনে তিনি প্রশ্ন তুলেছেন, ‘ভেনেজুয়েলায় যা হয়েছে, ভারতের ক্ষেত্রেও কি তেমন কিছু হতে পারে। ট্রাম্প কি আমাদের প্রধানমন্ত্রীকে অপহরণ করবেন?’
মঙ্গলবার এই মন্তব্য সামনে আসার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক সমালোচনা ও ব্যঙ্গের শিকার হন পৃথ্বীরাজ চবান। অনেকেই তার বক্তব্যকে অবাস্তব ও হাস্যকর বলে আখ্যা দেন।
জম্মু ও কাশ্মীরের সাবেক শীর্ষ পুলিশ কর্মকর্তা এসপি বৈদ মন্তব্যটিকে ‘পুরো দেশের জন্য অপমানজনক’ বলে সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, ‘ট্রাম্প ভেনেজুয়েলা ও মাদুরোর সঙ্গে যা করেছেন, সেটি ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ক্ষেত্রেও হতে পারে— এমন চিন্তা পুরো দেশের জন্য লজ্জার। কথা বলার আগে অন্তত ভাবা উচিত। নাকি এটিই এখন কংগ্রেসের প্রকৃত আদর্শ।’
দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে মহারাষ্ট্রের মুখ্যমন্ত্রী ও কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করা পৃথ্বীরাজ চবান যুক্তরাষ্ট্রের আরোপিত উচ্চ শুল্ক নিয়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সমালোচনা করতে গিয়ে এই মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, ‘৫০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করা হলে বাণিজ্য কার্যত অসম্ভব হয়ে পড়ে। এতে ভারত-যুক্তরাষ্ট্র বাণিজ্য, বিশেষ করে ভারতের রপ্তানি কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে।’
চবান আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্রে রপ্তানি করে ভারতীয় ব্যবসায়ীরা যে মুনাফা করতেন, তা আর পাওয়া যাবে না। বিকল্প বাজার খুঁজতে হবে এবং সেই উদ্যোগ ইতিমধ্যে শুরু হয়েছে। এর পরই তিনি ভেনেজুয়েলার প্রসঙ্গ তুলে যুক্তরাষ্ট্রের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন।
এই মন্তব্য আসে কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গের একদিন পর দেওয়া বক্তব্যের পর। খাড়গে যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের একটি মন্তব্য উদ্ধৃত করে প্রধানমন্ত্রী মোদিকে কটাক্ষ করেন। তিনি বলেন, রাশিয়া থেকে তেল আমদানি নিয়ে ট্রাম্পের বক্তব্যে বোঝা যায়, মোদি তাকে সম্মান করেন এবং তার কথা শোনেন। খাড়গের ভাষায়, ‘এর মানে মোদি তার নিয়ন্ত্রণে রয়েছেন।’
খাড়গে আরও বলেন, ‘আমি আজ একটি অডিও শুনেছি, যেখানে ট্রাম্প বলেছেন, মোদি তাকে খুশি করতে চেয়েছেন। এটা শুনে মনে পড়ে গেল সিনেমার সংলাপ— ‘মোগ্যাম্বো খুশ হুয়া’।’
এর মধ্যেই বাণিজ্য পরিসংখ্যান বলছে, শুল্ক বৃদ্ধির পরও যুক্তরাষ্ট্রে ভারতের রপ্তানি বেড়েছে। টানা দুই মাস নেতিবাচক প্রবৃদ্ধির পর গত নভেম্বর মাসে যুক্তরাষ্ট্রে ভারতের পণ্য রপ্তানি ২২ দশমিক ৬১ শতাংশ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৬ দশমিক ৯৮ বিলিয়ন ডলারে। চলতি অর্থবছরের এপ্রিল থেকে নভেম্বর পর্যন্ত সময়ে যুক্তরাষ্ট্রে ভারতের মোট রপ্তানি বেড়ে হয়েছে ৫৯ দশমিক শূন্য ৪ বিলিয়ন ডলার, আর আমদানি বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩৫ দশমিক ৪ বিলিয়ন ডলারে।
সূত্র: এনডিটিভি
এমএস/