দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

ইসলাম ধর্মের সবচেয়ে পবিত্রতম স্থান সৌদি আরবের মক্কায় অবস্থিত কাবা শরীফ, যেখানে প্রতিদিন তাওয়াফ, নামাজে মগ্ন থাকেন বিশ্বের লাখো মুসলমান। ফলে এমন একটি পবিত্র স্থানে, যেখানে সামান্য বিশৃঙ্খলাও অপ্রত্যাশিত, সেখানে ঘটে যাওয়া একটি অস্বাভাবিক ঘটনা এবার মুহূর্তেই বিশ্বজুড়ে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার (২৫ ডিসেম্বর) মক্কার পবিত্র প্রাঙ্গণে ঘটেছে অকল্পনীয় ঘটনা।
এসময় মসজিদুল হারামের ভেতরে এক ব্যক্তি আত্মহননের চেষ্টা করলে মুহূর্তের মধ্যেই উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। কাবা শরিফ ঘিরে তাওয়াফে যখন ব্যস্ত ছিলেন অসংখ্য মুসল্লি, তখনই দায়িত্বে থাকা নিরাপত্তা বাহিনীর এক সদস্য অসাধারণ সাহসিকতার পরিচয়ও দেন। জীবনের ঝুঁকি নিয়ে তিনি দ্রুত এগিয়ে যান এবং শেষ মুহূর্তে হস্তক্ষেপ করে একটি প্রাণ বাঁচাতে সক্ষম হন।
সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, মসজিদুল হারামের ঘটে যাওয়া ওই ঘটনার ভয়াবহতা। মূলত সেখানে উপস্থিত থাকা এক ব্যক্তি মসজিদ কমপ্লেক্সের ৩ তলা থেকে হঠাৎ লাফ দিয়ে নিজের প্রাণনাশের চেষ্টা করেন। আর ওই মুহূর্তেই সেখানে থাকা নিরাপত্তা কর্মীরা তাকে থামাতে এগিয়ে যান। এমন অবস্থায় তিন তালা থেকে লাফ দিয়ে দেওয়া ব্যক্তিকে প্রাণে বাঁচাতে গিয়েই এক নিরাপত্তা কর্মকর্তা আহত হন।
এই ঘটনার পর সৌদি আরবের পাবলিক সিকিউরিটি ডিরেক্টরেট, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম জানান, নিরাপত্তা কর্মীদের দ্রুত পদক্ষেপের কারণেই বড় ধরনের বিপর্যয় এড়ানো সম্ভব হয়েছে। যদিও ওই ব্যক্তি এবং সাহসী নিরাপত্তা কর্মকর্তা দুজনই আহত হন এবং তাদের হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে।
অন্যদিকে এই ঘটনার পরপরই মসজিদে জরুরি নিরাপত্তা প্রটোকলও সক্রিয় করা হয়। আর অল্প সময়ের মধ্যেই পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে আসাতে, ইবাদত-বন্দেগিতে বড় ধরনের ব্যাঘাত ঘটেনি।
এছাড়া সৌদি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, চাঞ্চল্যকর ওই ঘটনায় সব আইনগত ও প্রশাসনিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়েছে এবং তদন্ত চলছে। তবে অভিযুক্ত ব্যক্তির পরিচয় বা জাতীয়তা সম্পর্কে কোনো তথ্য এখনো প্রকাশ করা হয়নি, ব্যক্তিগত গোপনীয়তার কথা বিবেচনায় করে।
ইসলামি শরিয়াহ অনুযায়ী আত্মহনন যেখানে কঠোরভাবে নিষিদ্ধ, তারপরও সবচেয়ে পবিত্রতম স্থানে এমন কর্মকাণ্ড নিয়ে আলোচনা বিশ্বজুড়ে। তবে সৌদি নিরাপত্তা বাহিনীর প্রস্তুতি ও দ্রুত প্রতিক্রিয়া কতটা কার্যকর, তা এই ঘটনার মাধ্যমে পুরো বিশ্ব আবারও দেখলো। এক মুহূর্তের সাহসিকতা যে কীভাবে অগণিত মানুষের শান্তি ও একটি প্রাণ রক্ষা করতে পারে তা মসজিদুল হারামে ঘটে যাওয়া এই কাণ্ডের মাধ্যমে আবারও যেন প্রমাণিত হলো।
এবি/