দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

দীর্ঘ ১৭ বছরের নির্বাসিত জীবন শেষে রাজকীয় প্রত্যাবর্তন হয়েছে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের। মঙ্গলবার (২৫ ডিসেম্বর) বেলা পৌনে ১২টায় ঢাকার শাহজালাল বন্দেরে পৌঁছান তিনি।
এদিন বিমানবন্দরে পৌঁছার পর তাকে উষ্ণ অভ্যর্থনা দেওয়া হয়। এরপর বেলা সাড়ে ১২টা থেকে সোয়া ৩ ঘণ্টায় নেতাকর্মীদের ভালোবাসায় সিক্ত হয়ে বিমানবন্দর থেকে ৩০০ ফিটের সংবর্ধনা সমাবেশস্থলে পৌঁছান তিনি। সেখানে বক্তৃতা করে এভারকেয়ার হাসপাতালে মাকে দেখে পৌঁছান গুলশানের ১৯৬ নম্বর বাড়িতে।
এদিকে স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের পাশাপাশি তারেক রহমানের স্বদেশ প্রত্যাবর্তনের খবর গুরুত্ব দিয়ে প্রকাশ করেছে আন্তর্জাতিক বিভিন্ন গণমাধ্যম। সেই তালিকায় বাদ যায়নি বার্তা সংস্থা রয়টার্স। বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানকে ‘সম্ভাব্য প্রধানমন্ত্রী’ উল্লেখ করে সংবাদ প্রকাশ করেছে লন্ডনভিত্তিক আন্তর্জাতিক এ সংবাদ সংস্থা।
নির্বাচনের আগে নির্বাসন থেকে ফিরলেন বাংলাদেশের সম্ভাব্য প্রধানমন্ত্রী শিরোনামে ওই প্রতিবেদনে বলা হয়, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান প্রায় ১৭ বছরের নির্বাসন শেষে বৃহস্পতিবার দেশে ফিরেছেন। দলটির প্রত্যাশা তার এই প্রত্যাবর্তন সমর্থকদের উজ্জীবিত করবে এবং ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে তিনি প্রধানমন্ত্রী হওয়ার দৌড়ে এগিয়ে রয়েছেন।
ঢাকার বিমানবন্দর থেকে গণসংবর্ধনাস্থল পর্যন্ত সড়কের দু’পাশে লাখো সমর্থক জড়ো হন। তারা দলীয় পতাকা নাড়ান, প্ল্যাকার্ড, ব্যানার ও ফুল নিয়ে তারেক রহমানকে স্বাগত জানিয়ে স্লোগান দেন। কড়া নিরাপত্তার মধ্যে বিএনপির শীর্ষ নেতারা বিমানবন্দরে তাকে স্বাগত জানান।
৬০ বছর বয়সী তারেক রহমান সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার ছেলে। খালেদা জিয়া বর্তমানে অসুস্থ। ২০০৮ সাল থেকে লন্ডনে বসবাস করা তারেক রহমান ২০১৮ সাল থেকে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান হিসেবে দলের নেতৃত্ব দিয়ে আসছেন।
রয়টার্স বলছে, তার প্রত্যাবর্তন এমন এক সময়ে হলো, যখন প্রায় ১৭৫ মিলিয়ন জনসংখ্যার মুসলিম-প্রধান বাংলাদেশ নোবেলজয়ী মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারের অধীনে নাজুক নির্বাচনী সময়ে প্রবেশ করেছে। এই নির্বাচনকে প্রায় দুই বছরের অস্থিরতার পর রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
সরকার অবাধ ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচনের প্রতিশ্রুতি দিলেও, সাম্প্রতিক সময়ে গণমাধ্যমে হামলা ও বিচ্ছিন্ন সহিংসতার ঘটনা উদ্বেগ বাড়িয়েছে। ফলে তারেক রহমানের প্রত্যাবর্তন বিএনপি ও দেশের নাজুক রাজনৈতিক রূপান্তরের জন্য এক গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত হয়ে উঠেছে বলে মনে করছে রয়টার্স।
‘প্রিয় বাংলাদেশ’
সাদা শার্টের ওপর হালকা ধূসর ব্লেজার পরিহিত তারেক রহমান বিমানবন্দর থেকে বেরিয়ে জুতা খুলে খালি পায়ে বাংলাদেশের মাটিতে পা রাখেন এবং প্রতীকীভাবে একমুঠো মাটি হাতে তুলে নেন—যা ছিল তার স্বদেশে ফেরার প্রতীকী ইঙ্গিত।
পরে সংবর্ধনা কেন্দ্রে উচ্ছ্বসিত জনতার উদ্দেশে বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি শুরু করেন— ‘প্রিয় বাংলাদেশ।’ তিনি বলেন, ‘আমরা এমন একটি বাংলাদেশ গড়ব, যা একজন মা স্বপ্ন দেখে,’ এবং মুসলমান, হিন্দু, বৌদ্ধ ও খ্রিস্টান—সব ধর্মের মানুষকে একসঙ্গে নিয়ে একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক দেশ গড়ার আহ্বান জানান তিনি।
তিনি ঘোষণা করেন, ‘আমার একটি পরিকল্পনা আছে—আমার দেশের মানুষের জন্য, আমার দেশের জন্য।’ সবার সহযোগিতার মাধ্যমে গণতান্ত্রিক ও অর্থনৈতিকভাবে শক্তিশালী বাংলাদেশের স্বপ্ন বাস্তবায়ন সম্ভব বলে তিনি জোর দেন এবং পুনরায় বলেন, ‘আমরা দেশে শান্তি চাই।’
এবি/