দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

তাইওয়ান চীনের বাড়তি চাপের মধ্যে নিজেদের প্রতিরক্ষা আরও জোরদার করতে অতিরিক্ত ৪০ বিলিয়ন ডলারের প্রতিরক্ষা বাজেট নেওয়ার পরিকল্পনা ঘোষণা করেছে। বুধবার প্রেসিডেন্ট লাই ছিং-তে বলেন, এই বাজেট দেশের আত্মরক্ষার দৃঢ়তা তুলে ধরবে।
চীন বহুবার দাবি করেছে যে গণতান্ত্রিকভাবে পরিচালিত তাইওয়ান তাদেরই অংশ। গত পাঁচ বছরে বেইজিং সামরিক ও রাজনৈতিকভাবে চাপ বাড়িয়েছে, যা তাইপে দৃঢ়ভাবে প্রত্যাখ্যান করে আসছে। যুক্তরাষ্ট্রও তাইওয়ানকে প্রতিরক্ষায় বেশি ব্যয় করার আহ্বান জানিয়ে আসছে।
লাই জানান, টিএস ১.২৫ ট্রিলিয়ন (প্রায় ৩৯.৮৯ বিলিয়ন ডলার) মূল্যের এই প্যাকেজ দেশের নিরাপত্তাকে ‘অব্যবহারযোগ্য’ বলে ঘোষণা করবে। তিনি বলেন, ‘আগ্রাসনের মুখে সমঝোতার চেষ্টা ইতিহাসে কখনও কোনো ফল দেয়নি, বরং দাসত্ব ডেকে আনে। জাতীয় নিরাপত্তার প্রশ্নে কোনো ছাড় নেই।’
প্রতিরক্ষা মন্ত্রী ওয়েলিংটন কু জানান, ২০২৬ থেকে ২০৩৩ সাল পর্যন্ত কার্যকর এই বাজেটে ক্ষেপণাস্ত্র, ড্রোন এবং নতুন ‘টি-ডোম’ আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা অন্তর্ভুক্ত থাকবে।
লাই বলেন, এটি মূলত ‘গণতান্ত্রিক তাইওয়ানকে রক্ষা’ বনাম ‘চীনের তাইওয়ান হয়ে যাওয়ার’ প্রশ্ন—শুধু মতাদর্শগত বিরোধ নয়। যুক্তরাষ্ট্রের তাইপে প্রতিনিধি রেমন্ড গ্রিন বলেন, ওয়াশিংটন তাইওয়ানের ‘দ্রুত গুরুত্বপূর্ণ প্রতিরক্ষা সক্ষমতা অর্জনকে’ সমর্থন করে।
চীনের তুলনায় অনেক ছোট সামরিক বাহিনী থাকার কারণে তাইওয়ান সাম্প্রতিক বছরগুলোতে অসম যুদ্ধ কৌশল গ্রহণ করছে—যাতে কম সম্পদেও দ্রুত ও কার্যকর প্রতিরোধ গড়া যায়। ২০২৬ সালে প্রতিরক্ষা ব্যয় দাঁড়াতে পারে টিএস ৯৪৯.৫ বিলিয়ন (৩০.৩ বিলিয়ন ডলার), যা জিডিপির ৩.৩২ শতাংশ।
তবে বাজেট অনুমোদনের জন্য যেতে হবে বিরোধী দল–নিয়ন্ত্রিত পার্লামেন্টে। প্রধান বিরোধী দল কুওমিনতাঙের চেয়ারপারসন চেং লি-উন আগে থেকেই অতিরিক্ত প্রতিরক্ষা ব্যয়ের বিরোধিতা করেছেন। বুধবার তিনি বলেন, তাইওয়ান যুদ্ধ নয়, শান্তি চায় এবং ‘যুদ্ধের আগুন থেকে দূরে থাকতে চায়’।
ঘোষণার দিনই চীন–জাপান উত্তেজনার প্রসঙ্গ ফিরে আসে। জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানা তাকাইচি বলেছেন, তাইওয়ানে চীনের হামলা হলে জাপান সামরিকভাবে প্রতিক্রিয়া জানাতে পারে। এ বিষয়ে লাই বলেন, ‘নিরাপত্তা বিষয়ে প্রতিবেশী দেশগুলোর প্রতি বহুমুখী হুমকি দেওয়া কোনো দায়িত্বশীল শক্তির আচরণ নয়।’
অন্যদিকে বেইজিংয়ের তাইওয়ান বিষয়ক দপ্তর অভিযোগ করেছে, তাইপে ‘বাহ্যিক শক্তির’ নির্দেশে চলছে। মুখপাত্র পেং ছিংইন বলেন, ‘এই বিপুল অর্থ মানুষের জীবনমান উন্নয়নে ব্যয় করা যেত, কিন্তু তা অস্ত্র কেনায় নষ্ট করা হচ্ছে। এতে তাইওয়ান আরও বিপদে পড়বে।’
যুক্তরাষ্ট্র আইনগতভাবে তাইওয়ানকে প্রতিরক্ষায় সহায়তা দিতে বাধ্য, যদিও দুই দেশের আনুষ্ঠানিক কূটনৈতিক সম্পর্ক নেই। তবে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দায়িত্ব নেওয়ার পর এখন পর্যন্ত মাত্র একটি নতুন অস্ত্র বিক্রয় প্যাকেজ অনুমোদন করেছে—৩৩০ মিলিয়ন ডলারের বিমান যন্ত্রাংশ।
ওয়াশিংটন আরও বেশি অস্ত্র বিক্রির পরিকল্পনা করছে, যা ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদের তুলনায় বেশি হতে পারে। লাই বলেন, ট্রাম্প প্রশাসনের ‘বল প্রয়োগে শান্তি’ নীতি আন্তর্জাতিক নিরাপত্তাকে শক্তিশালী করেছে।
তিনি আরও বলেন, তাইওয়ান–যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্ক ‘অটুট’, এবং তাইওয়ানের ভবিষ্যত নির্ধারণের অধিকার একমাত্র তাইওয়ানবাসীরই। বেইজিং তাঁকে ‘বিচ্ছিন্নতাবাদী’ আখ্যা দিয়ে আলোচনার প্রস্তাব বারবার প্রত্যাখ্যান করেছে।
সূত্র: রয়টার্স
এমএস/