দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

গাজা সিটির মেয়র ইয়াহিয়া আল-সাররাজ জানিয়েছেন, ইসরায়েলের আরোপিত ভারী যন্ত্রপাতি ও নির্মাণসামগ্রী প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা গাজা সিটির ধ্বংসাবশেষ অপসারণ এবং গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো পুনর্নির্মাণের প্রচেষ্টাকে মারাত্মকভাবে ব্যাহত করছে।
রোববার (২৬ অক্টোবর) এক সংবাদ সম্মেলনে মেয়র বলেন, “গাজা সিটির পানি সরবরাহ নেটওয়ার্ক মেরামত ও নতুন কূপ নির্মাণের জন্য অন্তত ২৫০টি ভারী যানবাহন এবং এক হাজার টন সিমেন্ট প্রয়োজন।” কিন্তু এত বিপুল চাহিদার বিপরীতে এখন পর্যন্ত মাত্র ছয়টি ট্রাক এলাকায় প্রবেশ করতে পেরেছে বলে জানান তিনি।
মেয়র আল-সাররাজ আরও বলেন, গাজা উপত্যকাজুড়ে কয়েক হাজার টন অবিস্ফোরিত ইসরায়েলি বোমা ছড়িয়ে আছে, যা সাধারণ মানুষের জীবনের জন্য মারাত্মক হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে।
আল জাজিরার সাংবাদিক হিন্দ খুদারি, গাজার আজ-জাওয়াইদা এলাকা থেকে জানিয়েছেন, এখনও অন্তত ৯,০০০ ফিলিস্তিনি ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়ে আছেন। কিন্তু নতুন যন্ত্রপাতিগুলো মূলত ইসরায়েলি বন্দিদের মৃতদেহ উদ্ধারের কাজে ব্যবহার করা হচ্ছে, ফিলিস্তিনিদের প্রিয়জনদের সন্ধানে নয়।
তিনি বলেন, ফিলিস্তিনিরা মনে করছেন, যতক্ষণ না সব ইসরায়েলি বন্দির মৃতদেহ উদ্ধার করা যায়, ততক্ষণ যুদ্ধবিরতির কোনো বাস্তব অগ্রগতি হবে না।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা গেছে, ইসরায়েলি বন্দিদের অবস্থান নির্ধারণে সহায়তার জন্য হামাসের সশস্ত্র শাখা আল-কাসসাম ব্রিগেডের সঙ্গে বৈঠকের পর আন্তর্জাতিক রেড ক্রসের গাড়ি রাফাহর দক্ষিণাঞ্চলে পৌঁছেছে।
ইসরায়েলি সরকারের এক মুখপাত্র জানিয়েছেন, বন্দিদের মৃতদেহ অনুসন্ধানের জন্য রেড ক্রস ও মিশরীয় উদ্ধার দলকে যুদ্ধবিরতির “হলুদ রেখা” অতিক্রমের অনুমতি দেওয়া হয়েছে। এই রেখার মধ্য দিয়ে ইসরায়েল বর্তমানে গাজা উপত্যকার প্রায় ৫৮ শতাংশ অঞ্চলের ওপর নিয়ন্ত্রণ বজায় রেখেছে।
আম্মান থেকে আল জাজিরার নূর ওদেহ জানিয়েছেন, দুই সপ্তাহ ধরে ইসরায়েল দাবি করে আসছিল যে হামাস জানে সব বন্দির মৃতদেহ কোথায় রয়েছে। “দুই সপ্তাহ পর এখন ইসরায়েল মিশরীয় দল ও ভারী যন্ত্রপাতিকে গাজা উপত্যকায় প্রবেশের অনুমতি দিয়েছে বিশাল ধ্বংসাবশেষ সরাতে, সেই টানেল বা ভবনের নিচে পৌঁছাতে যেখানে বন্দিদের রাখা হয়েছিল ও নিহত হয়েছিল,” বলেন ওদেহ।
তিনি আরও জানান, ইসরায়েলি বোমাবর্ষণের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত টানেলগুলোতে গত দুই সপ্তাহ ধরে প্রবেশ করতে পারেনি হামাস। “এই নীতির পরিবর্তন ইসরায়েলের পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা ছাড়াই এসেছে।
বর্তমানে রেড ক্রস ও হামাস—উভয়কেই ধ্বংসস্তূপের নিচে সম্ভাব্য কবরস্থান শনাক্তে সহায়তার অনুমতি দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।
সূত্র - আল জাজিরা
জে আই