দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠিত আফগান পররাষ্ট্রমন্ত্রী আমির খান মুত্তাকির একটি প্রেস কনফারেন্স নিয়ে তীব্র বিতর্ক ও ক্ষোভের সৃষ্টি বিশ্বজুড়ে। তবে এই বির্তক সৃষ্টি হওয়ার পেছনে কোন কূটনৈতিক চুক্তি কিংবা রাজনৈতিক বার্তা কারণ নয়। মূল কারণ হচ্ছে, ওই প্রেস ব্রিফিংয়ে কোনো নারী সাংবাদিককে ঢুকতেই দেয়া হয়নি।
ভারতের স্থানীয় গণমাধ্যম, এনডিটিভির একটি প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, বহু আলোচিত এই ঘটনাটি ১০ অক্টোবর ভারতে অবস্থিত আফগানিস্তান দূতাবাসে ঘটে। যেখানে নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা কর্মীরা এনডিটিভিসহ আরও একাধিক সংবাদমাধ্যমের নারী প্রতিনিধিদের প্রবেশে বাধা দেয়। অথচ সব নারী সাংবাদিকই পেশাগত ড্রেস কোড মেনে, প্রেস মিটে অংশগ্রহন করতে সেখানে গিয়েছিলেন।
এই ঘটনার পরপরই সোশ্যাল মিডিয়ায় ক্ষোভের আগুন ছড়িয়ে পড়ে ব্যাপকভাবে। অনেক সাংবাদিক এই বৈষম্যমূলক আচরণের তীব্র প্রতিবাদ জানান। তবে ভারত সরকারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, নিজেদের সম্পূর্ণরূপে এই ঘটনার দায় থেকে সরিয়ে নিয়ে জানায়, ওই প্রেস কনফারেন্সের আমন্ত্রণপত্র পাঠিয়েছিল মুম্বাইয়ে নিযুক্ত আফগান কনসুল জেনারেলের দফতর। এছাড়া অনুষ্ঠানটি হয়েছিল এমন এলাকায় যা ভারত সরকারের এখতিয়ারের বাইরে।
তবে এই ঘটনার জেরে ভারতের রাজনৈতিক মহলেও চরম প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী সরাসরি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে উদ্দেশ্যে, সামাজিক মাধ্যমে লিখেছেন, একজন নারী সাংবাদিককে যদি কোনও উন্মুক্ত মঞ্চ থেকে বাদ পড়তে দেওয়া হয়, তবে দেশের প্রতিটি নারীকে একটি বার্তা দেয়া হচ্ছে যে, নারীদের পক্ষে দাঁড়ানোর মতো শক্তি প্রধানমন্ত্রীরও নেই।
অন্যদিকে প্রিয়াঙ্কা গান্ধীও এবিষয়ে প্রধানমন্ত্রী মোদীকে প্রশ্ন করেছেন, কীভাবে ভারতের মাটিতে এমন একজন দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে জায়গা দেওয়া হলো, যার সরকারের নীতিই হলো নারীদের দমন করা।
অন্যদিকে এই ঘটনায়, সাবেক কেন্দ্রীয় মন্ত্রী পি. চিদাম্বরম প্রশ্ন তোলেন, পুরুষ সাংবাদিকেরা কেন প্রতিবাদস্বরূপ প্রেস কনফারেন্স ছেড়ে বেরিয়ে এলেন না। তার মতে, যেখানে নারী সাংবাদিকদের ঢুকতেই দেওয়া হয়নি, সেখানে পুরুষ সাংবাদিকদের উচিত ছিল প্রতিবাদ করে সেখান থেকে বেরিয়ে আসা।
সবচেয়ে অবাক করার বিষয়টি হচ্ছে, চলমান এই বিতর্কের মধ্যেই আফগান পররাষ্ট্রমন্ত্রী আমির খান মুত্তাকি, ভারত-আফগান সম্পর্ককে আরও গভীর করার বার্তা দিয়েছেন। এছাড়া ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস. জয়শঙ্করের সাথে একটি বৈঠকের পর, সরকারী ঘোষণা আসে কাবুলে ভারতের কারিগরি মিশনকে এবার পূর্ণাঙ্গ দূতাবাসের মর্যাদা দেয়া হবে। এসবকিছুর পর একটি প্রশ্নই থেকে যায়, ভারতের মাটি কিংবা বিশ্বের বৃহত্তম গণতন্ত্রের দেশে, কীভাবে এমন একটি রাষ্ট্রের প্রতিনিধি, নারী সাংবাদিকদের বঞ্চিত করে প্রকাশ্যে বক্তব্য রাখলেন। এখন দেখার বিষয় ভারত সরকার আগামীতে এবিষয়ে কী বক্তব্য দেয়।
কে