দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

গাজায় যাওয়া মানবিক সহায়তা বহর আটকানোর প্রতিবাদে ইউরোপজুড়ে ফিলিস্তিনপন্থি বিক্ষোভ হয়েছে।
বৃহস্পতিবার বিভিন্ন শহরে বিক্ষোভকারীরা সড়ক অবরোধ করেছেন এবং দোকানপাট ও রেস্তোরাঁ ভাঙচুর করেছেন।
ইসরায়েলি সেনারা প্রায় ৪০টি জাহাজে অভিযান চালিয়ে ৪০০-র বেশি বিদেশি কর্মীকে আটক করার পর এ বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। আটক ব্যক্তিদের মধ্যে সুইডিশ জলবায়ু কর্মী গ্রেটা থানবার্গও ছিলেন। ঘটনাটি আন্তর্জাতিক নিন্দার মুখে ফেলেছে ইসরায়েলকে।
বার্সেলোনায় বিক্ষোভকারীরা বিভিন্ন দোকান ও রেস্তোরাঁয় হামলা চালায়। স্টারবাকস, বার্গার কিং ও ক্যারিফোর সুপারশপসহ অনেক প্রতিষ্ঠানের কাচ ভেঙে ফেলা হয় অথবা জানালায় ইসরায়েলবিরোধী স্লোগান স্প্রে-পেইন্ট করা হয়। বিক্ষোভকারীরা অভিযোগ করেন, এসব প্রতিষ্ঠান গাজায় ইসরায়েলি অভিযানে পরোক্ষভাবে সহযোগিতা করছে।
একজন বিক্ষোভকারী আকরাম আজাহোমারাস বলেন, ‘এই বিক্ষোভই আমাদের একমাত্র পথ। তবে দোকান ভাঙচুর করে আমি মনে করি সঠিক পথে এগোনো হচ্ছে না। আমাদের শান্তিপূর্ণভাবে, কথার মাধ্যমে প্রতিবাদ করতে হবে, কাজের মাধ্যমে নয়।’
ইতালিতে শিক্ষার্থীরা মিলানের স্টাতালে ও রোমের লা সাপিয়েঞ্জা বিশ্ববিদ্যালয় দখল করে নেয়। বোলোনিয়ার বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রবেশপথ গাড়ির টায়ার দিয়ে অবরোধ করা হয়। তুরিন শহরের রিং রোডেও শত শত মানুষ সড়ক অবরোধ করে।
রোমে চিকিৎসক, নার্স ও ফার্মাসিস্টরা একটি ফ্ল্যাশ মবের আয়োজন করেন। তারা মোবাইলের ফ্ল্যাশলাইট জ্বালিয়ে গাজায় নিহত ১ হাজার ৬৭৭ জন স্বাস্থ্যকর্মীর নাম পাঠ করেন। ইতালির শ্রমিক ইউনিয়নগুলো গাজা সহায়তা বহরের সমর্থনে সাধারণ ধর্মঘটের ডাক দিয়েছে। দেশজুড়ে ১০০-র বেশি সমাবেশ ও বিক্ষোভ হওয়ার কথা রয়েছে।
তবে ইতালির প্রতিরক্ষামন্ত্রী গুইডো ক্রোসেত্তো এসব বিক্ষোভে অসন্তোষ প্রকাশ করেন। তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে লিখেছেন, ‘কেউ কি সত্যিই মনে করে ইতালিতে স্টেশন, বিমানবন্দর, মহাসড়ক অবরোধ বা দোকান ভাঙচুর করলে ফিলিস্তিনিদের কষ্ট লাঘব হবে?
ডাবলিন, প্যারিস, বার্লিন ও জেনেভায় হাজারো মানুষ বিক্ষোভ করেছেন। ইউরোপের বাইরে বুয়েনস আইরেস, মেক্সিকো সিটি ও করাচিতেও বিক্ষোভ হয়।
তুরস্কের ইস্তাম্বুলে ইসরায়েলি দূতাবাসের সামনে জড়ো হওয়া জনতা ব্যানারে লিখেছেন, ‘ইসরায়েল গাজায় নয়, মানবতাকে হত্যা করছে। চুপ করে বসে থেকো না, উঠে দাঁড়াও।’
প্যালেস্টাইন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, গাজায় চলমান যুদ্ধে এখন পর্যন্ত ৬৬ হাজারের বেশি মানুষ নিহত হয়েছে।
২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের নেতৃত্বে ইসরায়েলে হামলায় প্রায় ১,২০০ মানুষ নিহত হয় এবং আরও ২৫১ জনকে জিম্মি করে গাজায় নিয়ে যাওয়া হয়। এর পর থেকেই ইসরায়েল গাজায় বড় ধরনের সামরিক অভিযান চালিয়ে আসছে।
সূত্র: রয়টার্স
এমএস/