দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

পশ্চিমা দেশগুলো ফিলিস্তিন রাষ্ট্রকে স্বীকৃতি দিলেও গাজার মানুষের দুঃসহ জীবন থেমে নেই। মঙ্গলবার (২৩ সেপ্টেম্বর) ইসরায়েলি সেনারা ট্যাংক নিয়ে গাজার ঘনবসতিপূর্ণ এলাকাগুলোতে প্রবেশ করে। একইদিন গাজায় ইসরায়েলি হামলায় অন্তত ২২ জন নিহত হয়েছে বলে জানিয়েছে স্থানীয় স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ। এর মধ্যে ১৮ জনের মৃত্যু হয়েছে গাজা শহরে।
গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, কয়েক দিনের মধ্যে জ্বালানি ফুরিয়ে গেলে হাসপাতালগুলো অচল হয়ে পড়বে এবং বহু রোগীর জীবন ঝুঁকিতে পড়বে।
মঙ্গলবার গাজা শহরের সাবরা ও তেল আল-হাওয়া এলাকায় ইসরায়েলি বাহিনী বিস্ফোরকভর্তি গাড়ি উড়িয়ে দেয়। এতে বহু ঘরবাড়ি ও সড়ক ধ্বংস হয়ে যায়। স্থানীয়রা জানান, বোমা বিস্ফোরণের শব্দে শিশুদের পাশাপাশি বড়রাও আতঙ্কে কাঁপছেন। এক বাসিন্দা বলেন, ‘বিশ্ব যখন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র স্বীকৃতি উদ্যাপন করছে, তখন আমাদের শহর ধ্বংস করে মানুষ হত্যা করা হচ্ছে।’
ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ সোমবার সৌদি আরবের সঙ্গে বৈঠক শেষে ফিলিস্তিন রাষ্ট্রকে আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি দেন। তবে ইসরায়েল এটিকে ‘শত্রুতাপূর্ণ সিদ্ধান্ত’ বলে মন্তব্য করেছে। ১৯৯৩ সালের অসলো চুক্তির পর থেকে দুই রাষ্ট্র সমাধানকে শান্তি প্রক্রিয়ার মূল ভিত্তি ধরা হলেও, এখন তা কার্যত মৃতপ্রায়। ইসরায়েল জানিয়েছে, হামাসকে নির্মূল না করা পর্যন্ত তারা যুদ্ধ থামাবে না এবং ফিলিস্তিন রাষ্ট্রের অস্তিত্ব মেনে নেবে না।
গাজা স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষের হিসাবে, চলমান যুদ্ধে এখন পর্যন্ত ৬৫ হাজারেরও বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন।
অনেক গাজাবাসীর মতে, রাষ্ট্র স্বীকৃতির চেয়ে জরুরি হলো যুদ্ধবিরতি। আবু মুস্তাফা নামের এক বাসিন্দা বলেন, ‘আমরা এখন কি ফিলিস্তিন রাষ্ট্রের নাগরিক হিসেবে মারা যাচ্ছি? আমাদের দরকার যুদ্ধ থামানো, শুধু ঘোষণা নয়।’
অন্যদিকে ৬০ বছর বয়সী আবু মুহরান সালমা বলেন, ‘দেশগুলোর স্বীকৃতির কোনো মূল্য নেই। আমাদের আশা শুধু যুদ্ধ বন্ধ হওয়া।’
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প মঙ্গলবার জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে ভাষণ দেবেন এবং মুসলিম বিশ্বের নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করবেন। ওয়াশিংটন চাইছে, আরব ও মুসলিম দেশগুলো গাজায় শান্তিরক্ষী সেনা পাঠাক এবং পুনর্গঠন প্রক্রিয়ার অর্থায়নে অংশ নিক। তবে এর আগে ট্রাম্পের প্রস্তাবিত ‘গাজা দখল ও ফিলিস্তিনিদের স্থায়ী উচ্ছেদ’ পরিকল্পনা আন্তর্জাতিকভাবে নিন্দিত হয় এবং ‘জাতিগত নিধন’ হিসেবে আখ্যায়িত হয়।
এই কূটনৈতিক তৎপরতার মাঝেই গাজার মানুষ জীবন বাঁচাতে মরিয়া। ছয় সন্তানের জনক মোহাম্মদ আল-বায়ারি জানান, ‘পরিবারকে নিরাপদ জায়গায় নিতে টানা ১৪ ঘণ্টা ধরে মালপত্র টেনে হাঁটছি। প্রতি ১০-১৫ মিনিট পরপর আধা ঘণ্টা বিশ্রাম নিতে হচ্ছে।’
সূত্র: রয়টার্স
এমএস/