দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

ভারত ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে মঙ্গলবার দিনব্যাপী বাণিজ্য বৈঠক শুরু হয়েছে। এ নিয়ে আশা করা হচ্ছে, থেমে থাকা দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য চুক্তির আলোচনা আবার শুরু হতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য আলোচক ব্রেনডান লিঞ্চের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধি দল দিল্লিতে ভারতের বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করছে।
ভারত বলেছে, এটি এখনো আনুষ্ঠানিক আলোচনার ধাপ নয়, বরং কেবল কীভাবে সমঝোতায় পৌঁছানো যায় সে বিষয়ে প্রাথমিক আলোচনা।
ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রেসিডেন্সির সময় ভারতীয় পণ্যের ওপর ৫০% শুল্ক আরোপের পর আলোচনা থেমে যায়। কারণ হিসেবে ট্রাম্প প্রশাসন দিল্লির রাশিয়া থেকে তেল ও অস্ত্র কেনার বিষয়টি উল্লেখ করেছিল। ভারত এটিকে ‘অন্যায়’ বলে সমালোচনা করে। তারা জানায় এটি দেশের জ্বালানি নিরাপত্তার জন্য জরুরি।
উচ্চ শুল্কের কারণে যুক্তরাষ্ট্রে ভারতের পোশাক, চিংড়ি, হীরা ও গহনার রপ্তানি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এতে উৎপাদন ও কর্মসংস্থানেও চাপ পড়েছে। ফলে মঙ্গলবারের বৈঠক নিয়ে ব্যবসায়ী মহলে আগ্রহ তৈরি হয়েছে।
ভারতের পক্ষে আলোচনায় নেতৃত্ব দেওয়া রাজেশ আগরওয়াল স্থানীয় সংবাদমাধ্যমকে বলেছেন, ‘এটি আনুষ্ঠানিক রাউন্ড নয়, তবে অবশ্যই আলোচনার অংশ, যাতে সমঝোতার পথ খোঁজা যায়।’
গত মাসে নতুন এক দফা আলোচনা ট্রাম্পের ঘোষিত শুল্ক ও রাশিয়ান তেল কেনা বন্ধে ভারতের অস্বীকৃতির কারণে বাতিল হয়। তবে সাম্প্রতিক দিনগুলোতে দুই পক্ষের বক্তব্য কিছুটা নরম হওয়ায় আলোচনার সম্ভাবনা আবার জোরালো হয়েছে।
মার্কিন বাণিজ্য উপদেষ্টা পিটার নাভারো সোমবার সিএনবিসিকে বলেছেন, ‘ভারত আলোচনায় আসছে, এখন দেখা যাক কীভাবে এগোয়।’ যদিও তিনি ভারতের বিরুদ্ধে সবচেয়ে কড়া সমালোচকদের একজন, এমনকি ইউক্রেন যুদ্ধকে ‘মোদির যুদ্ধ’ বলেও অভিহিত করেছেন।
ট্রাম্প ও মোদির সাম্প্রতিক সোশ্যাল মিডিয়া কথোপকথনও আলোচনায় নতুন গতি এনেছে। ট্রাম্প লিখেছেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ভারত বাণিজ্য প্রতিবন্ধকতা দূর করতে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে। জবাবে মোদি দুই দেশকে ‘ঘনিষ্ঠ বন্ধু ও স্বাভাবিক অংশীদার’ বলে আখ্যা দেন।
এদিকে মার্কিন রাষ্ট্রদূত পদে মনোনীত সার্জিও গর বলেছেন, ‘কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই এ চুক্তি সমাধান হবে।’
তবে মূল বিতর্কিত বিষয় রয়ে গেছে কৃষি ও দুগ্ধ খাত। যুক্তরাষ্ট্র দীর্ঘদিন ধরে ভারতের কৃষি বাজারে প্রবেশাধিকার চাইছে, কিন্তু ভারত খাদ্য নিরাপত্তা ও কোটি ক্ষুদ্র কৃষকের জীবিকার কথা বলে সেক্টরটি সুরক্ষিত রেখেছে।
সম্প্রতি মার্কিন বাণিজ্যমন্ত্রী হাওয়ার্ড লুটনিক ভারতকে প্রশ্ন করেছেন, ‘১৪০ কোটি মানুষের দেশ কেন এক বুশেল মার্কিন ভুট্টাও কিনতে চায় না?’
ভারতের বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কৃষি বাজার খোলা হলে দেশীয় খাদ্য নিরাপত্তা ও সার্বভৌমত্ব ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে। তাই দিল্লির উচিত চাপের কাছে নতিস্বীকার না করা।
সূত্র: বিবিসি
এমএস/