দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

গাজায় ইসরায়েলি বিমান ও আর্টিলারি হামলায় শুক্রবার অন্তত ৬৫ জন নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে ১৪ জন একই পরিবারের সদস্য।
চিকিৎসা সূত্র জানায়, শুধু গাজা সিটি ও এর উত্তরাঞ্চলেই প্রাণ গেছে ৪৮ জনের। নিহতদের মধ্যে সুলতান পরিবারের ১৪ জন আছেন, যারা একসঙ্গে গাজা সিটির আত-ত্বওয়াম এলাকায় নিজেদের বাড়িতে বোমা হামলায় নিহত হন।
আল জাজিরার সাংবাদিক হানি মাহমুদ জানান, ‘গাজা সিটি জুড়ে রাতজুড়ে ভয়াবহ হামলা চলেছে। ইসরায়েলি বাহিনী ভারী গোলাবর্ষণের পাশাপাশি রিমোট-কন্ট্রোল বিস্ফোরক ব্যবহার করেছে। আকাশ আলোকিত করতে ফ্লেয়ার বোমাও ছোড়া হয়েছে, যা আতঙ্ক আরও বাড়িয়েছে।’
শুক্রবারের এই হামলার নিন্দা জানিয়ে ফিলিস্তিনি গোষ্ঠী হামাস অভিযোগ করেছে, ইসরায়েল বেসামরিক মানুষ ও আবাসিক ভবন লক্ষ্য করে ‘সন্ত্রাস ও যুদ্ধাপরাধ’ চালাচ্ছে। তারা আরও বলেছে, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের নীরবতা ইসরায়েলকে গণহত্যা ও জোরপূর্বক উচ্ছেদে উসকে দিচ্ছে।
গাজার দারাজ এলাকায় ড্রোন হামলায় এক শিশু নিহত হয়, আহত হয় আরও কয়েকজন। এ ছাড়া উত্তরাঞ্চলের শাতি শরণার্থী শিবিরে একটি স্কুল ধ্বংস করা হয়েছে, যেখানে অনেকে আশ্রয় নিয়েছিলেন। পশ্চিম গাজা সিটিতেও একটি আবাসিক টাওয়ার ও আশপাশের বাড়িঘর লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়।
ইসরায়েলি সেনারা দাবি করেছে, তারা এই সপ্তাহে গাজা সিটিতে ৫০০ লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালিয়েছে। আগস্টে প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহুর উপস্থাপিত পরিকল্পনা অনুযায়ী সেনারা গাজা সিটি দখল ও বাসিন্দাদের জোরপূর্বক সরিয়ে দেওয়ার অভিযান চালাচ্ছে।
তবে গাজার সরকারি মিডিয়া অফিস জানায়, সাড়ে তিন লক্ষ শিশুসহ এখনও অন্তত ১৩ লাখ মানুষ গাজা সিটি ও উত্তরাঞ্চলে রয়ে গেছে, যারা বারবার বোমা হামলা ও উচ্ছেদের হুমকির মধ্যে বেঁচে থাকার চেষ্টা করছে।
ইসরায়েল গাজা সিটির বাসিন্দাদের দক্ষিণে সরতে বললেও বাস্তবে কোনো নিরাপদ আশ্রয় নেই। দক্ষিণে খান ইউনিসের আল-মাওয়াসি এলাকায় লাখো মানুষ গাদাগাদি করে অস্থায়ী তাঁবুতে আছে। পানি, টয়লেট, খাদ্য—কোনো মৌলিক সুবিধাই নেই সেখানে।
আশ্রয়প্রার্থী শাদে আল-ওয়াভি আল জাজিরাকে বলেন, ‘আমরা ধুলোতে শ্বাস নিচ্ছি, আর এর সঙ্গে মৃত্যু ও শোকের গন্ধ পাচ্ছি। এটা কোনো জীবন নয়, আর সহ্য করা যাচ্ছে নাৎ’
ইউনিসেফ জানিয়েছে, গত এক মাসে ৭০ হাজারের বেশি মানুষ উত্তর থেকে দক্ষিণে বাধ্য হয়ে গেছেন। তবে যেখানে তারা জড়ো হচ্ছেন, সেখানে আগেই বিপুল ভিড় ও সেবার ঘাটতি ছিল।
এদিকে শুক্রবার ইসরায়েল গাজা থেকে আটক করা ১৩ ফিলিস্তিনিকে মুক্তি দিয়েছে। মাসের পর মাস কারাবন্দি থাকার পর কিসুফিম সীমান্ত দিয়ে তাদের হস্তান্তর করে আন্তর্জাতিক রেডক্রস। মুক্তির পরই তাদের গুরুতর স্বাস্থ্য সমস্যার কারণে দেইর আল-বালাহর আল-আকসা শহীদ হাসপাতাল নেওয়া হয়।
চিকিৎসকরা জানান, বন্দিরা অপুষ্টি, আঘাত এবং নির্যাতনের চিহ্ন নিয়ে হাসপাতালে পৌঁছেছেন।
ফিলিস্তিনি প্রিজনারস সোসাইটির তথ্যমতে, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া ইসরায়েলি অভিযানের পর হাজারো ফিলিস্তিনিকে আটক করা হয়েছে, যাদের অনেকেই জোরপূর্বক গুম ও অমানবিক আটক অবস্থার শিকার।
এমএস/