দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সবচেয়ে বড় কূটনৈতিক ও রাজনৈতিক মঞ্চ প্রস্তুত বেইজিংয়ে। তিয়েনআনমেন স্কয়ারে শুরু হতে যাচ্ছে বিশাল সামরিক কুচকাওয়াজ, যেখানে শি তুলে ধরবেন চীনের সামরিক ক্ষমতা ও নিজের বৈশ্বিক প্রভাব।
স্কয়ারজুড়ে সজ্জিত আটটি বিশাল চীনা পতাকা আর মাও সেতুংয়ের প্রতিকৃতি। ৫০ হাজার দর্শকের জন্য বসার আসন প্রস্তুত, যাদের মধ্যে আছেন ২৬টি দেশের রাষ্ট্রপ্রধান। রাশিয়ার ভ্লাদিমির পুতিন ও উত্তর কোরিয়ার কিম জং উনের উপস্থিতি শির জন্য বড় কূটনৈতিক সাফল্য।
এবারের কুচকাওয়াজ জাপানের আত্মসমর্পণের ৮০ বছর পূর্তি উপলক্ষে হলেও শির কাছে এর রাজনৈতিক ও কৌশলগত তাৎপর্য অনেক গভীর। এর আগে শি এসসিও সম্মেলনে ২০টির বেশি দেশের নেতাদের আতিথেয়তা দিয়েছেন। এটিই ছিল সংগঠনটির সবচেয়ে বড় বৈঠক। তাতে যুক্ত হয়েছে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সাত বছর পর চীন সফর।
সবচেয়ে চমক কিম জং উনের অংশগ্রহণ। ১৯৫৯ সালের পর প্রথমবার কোনো উত্তর কোরীয় নেতার চীনা সামরিক কুচকাওয়াজে যোগ দিতে যাচ্ছেন।
চীন এবার শুধু জাপানের বিরুদ্ধে যুদ্ধজয়ের স্মৃতি স্মরণ করছে না। বরং বিশ্বকে দেখাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের বিকল্প নেতৃত্ব দেওয়ার আকাঙ্ক্ষা। কুচকাওয়াজে প্রদর্শিত হবে নতুন হাইপারসনিক অস্ত্র ও পানির নিচে চালিত ড্রোন। অংশ নিচ্ছেন ইরান, মালয়েশিয়া, মিয়ানমার, মঙ্গোলিয়া, জিম্বাবুয়ে ও মধ্য এশিয়ার দেশগুলোর নেতারা। পশ্চিমা দেশ থেকে আমন্ত্রণ পেয়েছেন কেবল সার্বিয়া ও স্লোভাকিয়ার নেতারা।
দেশের ভেতরে এই আয়োজনের মূল লক্ষ্য জনগণের দেশপ্রেম জাগানো। সম্প্রতি মুক্তি পাওয়া যুদ্ধভিত্তিক সিনেমা, গণমাধ্যমে বিশেষ প্রচারণা এবং শহরজুড়ে দুই লাখের বেশি পতাকা ও ফুলের সাজসজ্জা তারই প্রমাণ।
তবে অর্থনৈতিক মন্দা, তরুণদের বেকারত্ব ও বাড়ির দামের পতনের মতো বাস্তবতা শি'কে কঠিন চাপে রেখেছে। ফলে রাজধানীতে নিরাপত্তা বাড়ানো হয়েছে নজিরবিহীনভাবে।
কঠোর নিয়ন্ত্রণে বেইজিং। কুচকাওয়াজ উপলক্ষ্যে ড্রোন সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। বিদেশি সাংবাদিকদের বাড়িতে গিয়ে সতর্ক করা হয়েছে, যেকোনো ধরনের বিক্ষোভ ঠেকাতে ওভারপাস ও ব্রিজে ২৪ ঘণ্টা পাহারা বসানো হয়েছে, কুচকাওয়াজের অনুশীলন চলাকালে বাসিন্দাদের বারান্দায় না আসার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে এবং স্কুল, অফিস ও হোটেল দুদিন বন্ধ থাকবে, পাশাপাশি প্রধান সড়ক ও মেট্রো লাইন আংশিক অচল থাকবে।
সবকিছু মিলিয়ে বলা যায়, শির ‘সবচেয়ে বড় দিন’কে সফল করতে বেইজিংকে এক বিশাল সামরিক মঞ্চে পরিণত করা হয়েছে।
এমএস/