দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]
থাইল্যান্ডের সাংবিধানিক আদালত শুক্রবার (২৯ আগস্ট) প্রধানমন্ত্রী পেতংটার্ন সিনাওয়াত্রাকে পদচ্যুত করেছে। কম্বোডিয়ার সাবেক প্রধানমন্ত্রী হুন সেনের সঙ্গে তার ফোনালাপকে নৈতিকতা ভঙ্গ বলে অভিযোগ করা হয়। এ রায়ে দেশটি আবারও নতুন রাজনৈতিক অস্থিরতার মুখে পড়ল।
পেতংটার্ন প্রভাবশালী সিনাওয়াত্রা রাজনৈতিক পরিবারের সদস্য। তিনি ২০২৪ সালের আগস্টে দেশের ইতিহাসে সর্বকনিষ্ঠ প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নিয়েছিলেন, তবে মাত্র এক বছরেই ক্ষমতা হারালেন।
সিএনএন জানিয়েছে, গত ১৫ জুন সীমান্ত উত্তেজনার সময় ফাঁস হওয়া একটি অডিওতে পেতংটার্নকে হুন সেনকে ‘চাচা’ বলে সম্বোধন করতে শোনা যায়। এছাড়া সীমান্ত সংঘাতে নিহত এক কম্বোডিয়ান সেনাকে কেন্দ্র করে তিনি নিজ দেশের সেনাবাহিনীর কার্যক্রমের সমালোচনাও করেছিলেন। ফোনালাপে তিনি হুন সেনকে বলেন, ‘আপনার কিছু চাইলে আমাকে বলুন, আমি দেখে নেবো।’ এই বক্তব্যকেই তার বিরুদ্ধে মামলার মূল প্রমাণ হিসেবে ব্যবহার করা হয়।
ফোনালাপটি দুই পক্ষই সত্য বলে স্বীকার করায় জাতীয়তাবাদী আবেগে ফেটে পড়ে থাইল্যান্ড। বিরোধীরা অভিযোগ করে, প্রধানমন্ত্রী দেশের স্বার্থ বিসর্জন দিয়েছেন। কয়েক সপ্তাহ পরই সীমান্তে পাঁচদিনের সংঘাতে অন্তত ৩৮ জন নিহত হন, যাদের বেশিরভাগই ছিলেন সাধারণ মানুষ।
জনগণের কাছে ক্ষমা চেয়ে পেতংটার্ন দাবি করেছিলেন, তার কথাগুলো ছিল কেবল উত্তেজনা প্রশমনের কৌশল। তবুও ১ জুলাই আদালত তাকে সাময়িকভাবে প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব থেকে বরখাস্ত করে। পরবর্তীতে মন্ত্রিসভা পরিবর্তনে তিনি সংস্কৃতি মন্ত্রীর দায়িত্বে ছিলেন।
থাইল্যান্ডের রাজনীতিতে এ রকম আদালতের হস্তক্ষেপ নতুন নয়। গত দুই দশকে একাধিক প্রধানমন্ত্রী আদালতের রায়ে বা সামরিক অভ্যুত্থানে ক্ষমতা হারিয়েছেন। পেতংটার্নের বাবা ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী থাকসিন সিনাওয়াত্রা দুর্নীতির অভিযোগে ২০০৬ সালে নির্বাসনে যান। তার খালা ইয়িংলাক সিনাওয়াত্রাকেও ২০১৪ সালে ক্ষমতা থেকে সরানো হয়, এরপর সামরিক বাহিনী অভ্যুত্থান ঘটায়। তাদের আরেক আত্মীয় সোমচাই ওয়ংসাওয়াতও আদালতের রায়ে স্বল্প সময়ের জন্য ক্ষমতা হারান।
বর্তমান রায়ে সিনাওয়াত্রা পরিবারের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ বড় সংকটে পড়ল। সরকার ইতোমধ্যে অভ্যন্তরীণ বিরোধ, অর্থনৈতিক মন্দা ও নীতিগত বিলম্বে দুর্বল হয়ে পড়েছে। ফোনালাপ ফাঁসের ঘটনায় ক্ষমতাসীন ফেউ থাই পার্টির জনপ্রিয়তাও আরও কমেছে।
এখন সংসদের ৫০০ আসনে নতুন প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত করতে হবে। ফেউ থাইয়ের একমাত্র প্রার্থী সাবেক ন্যায়মন্ত্রী চাইকাসেম নিতিসিরি, তবে তিনি জোটের প্রয়োজনীয় সমর্থন পাবেন কি না তা অনিশ্চিত। এদিকে উপ-প্রধানমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আনুতিন চার্নভিরাকুল ফোনালাপ ইস্যুতে জোট ছাড়ার ঘোষণা দিয়েছেন। ফলে নতুন প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত না হলে দেশটি আবারও নির্বাচনের মুখে পড়তে পারে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, প্রভাবশালী মহল এখনও থাকসিন-সমর্থিত দলকে প্রাধান্য দিতে পারে। কারণ, তারা মনে করে এই দল মূল বিরোধী পিপলস পার্টির অগ্রযাত্রা ঠেকাতে ‘ফায়ারওয়াল’ হিসেবে কাজ করবে।
এফএইচ/এমএস