দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]
শ্রীলঙ্কার সাবেক প্রেসিডেন্ট রানিল বিক্রমাসিংহে সরকারি তহবিল অপব্যবহারের অভিযোগে গ্রেপ্তারের পর জামিনে মুক্তি পেয়েছেন। তিনি দেশটির ইতিহাসে প্রথম সাবেক প্রেসিডেন্ট যিনি গ্রেপ্তার হলেন।
বার্তাসংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, গত ২২ আগস্ট থেকে হেফাজতে থাকা ৭৬ বছর বয়সী বিক্রমাসিংহেকে মঙ্গলবার (২৬ আগস্ট) কলম্বোর ফোর্ট ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করা সম্ভব হয়নি অসুস্থতার কারণে। বর্তমানে তিনি হাসপাতালে ভর্তি আছেন। আদালত তার মুক্তির শর্তে তিনজনকে ৫০ লাখ রুপি (১৬ হাজার ৫৫১ ডলার) করে জামিন দিতে নির্দেশ দিয়েছে।
গত শুক্রবার তাকে পুলিশ ক্রিমিনাল ইনভেস্টিগেশন ডিপার্টমেন্ট (সিআইডি) গ্রেপ্তার করে। অভিযোগ, ২০২৩ সালের সেপ্টেম্বরে লন্ডন সফরে ব্যক্তিগত ভ্রমণের জন্য তিনি সরকারি অর্থ ব্যবহার করেছিলেন।
২০২২ সালে ভয়াবহ অর্থনৈতিক সংকট ও ঋণ খেলাপি অবস্থার মধ্যে বিক্ষোভের পর বিক্রমাসিংহে ক্ষমতায় আসেন। তবে ২০২৩ সালের নির্বাচনে দুর্নীতিবিরোধী স্লোগান নিয়ে আসা জনপ্রিয় প্রার্থী অনুরা কুমারা দিসানায়েকের কাছে তিনি পরাজিত হন।
নতুন সরকারের অধীনে ইতিমধ্যে দুজন সাবেক মন্ত্রী দুর্নীতির দায়ে দণ্ডিত হয়েছেন। এছাড়া সাবেক প্রেসিডেন্ট মাহিন্দা রাজাপক্ষের পরিবারের কয়েকজন সদস্যের বিরুদ্ধেও রাষ্ট্রীয় অর্থ অপব্যবহারের মামলা চলছে। তাদের অনেকেই বর্তমানে জামিনে মুক্ত।
বিক্রমাসিংহের সমর্থক এবং বিরোধী দলের আইনপ্রণেতারা এই গ্রেপ্তারকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করেছেন।
এদিকে মঙ্গলবার আদালত এলাকায় কড়া নিরাপত্তা জোরদার করা হয়। টিভি চ্যানেল ডেরানার প্রতিবেদনে জানানো হয়, বিক্রমাসিংহের সমর্থকদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ হয়। এক পর্যায়ে পুলিশের এক সদস্য আহত হন। আদালত এলাকায় যাওয়ার রাস্তাগুলোতেও তীব্র যানজট দেখা দেয়।
বিক্রমাসিংহে এর আগে একাধিক মেয়াদে শ্রীলঙ্কার প্রধানমন্ত্রী ও বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে ছিলেন। তিনি ২০২৩ সালে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) সঙ্গে ঋণ সহায়তার চুক্তি করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন।
এফএইচ/এমএস