দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, দেশটির বৈধ ভিসাধারী প্রায় সাড়ে ৫ কোটি বিদেশির রেকর্ড পর্যালোচনা করা হচ্ছে। ভিসা বাতিল বা বহিষ্কারের মতো কোনো লঙ্ঘন পাওয়া গেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। খবর: আলজাজিরার।
বৃহস্পতিবার পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও ঘোষণা দেন, যুক্তরাষ্ট্রে বিদেশি ট্রাকচালকদের ভিসা প্রদান সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হচ্ছে। তিনি এক্সে (সাবেক টুইটার) লিখেছেন, বিদেশি ট্রাকচালকরা মার্কিন নাগরিকদের জীবন ঝুঁকিতে ফেলছেন এবং স্থানীয় ট্রাকচালকদের কর্মসংস্থান ক্ষতিগ্রস্ত করছেন।
পররাষ্ট্র দপ্তর এক লিখিত বক্তব্যে জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রে সব ভিসাধারী নিয়মিতভাবে নজরদারির আওতায় থাকেন। কেউ যোগ্য না হলে তার ভিসা বাতিল করা হবে। আর যদি তিনি যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করেন, তবে তাকে বহিষ্কার করা হবে।
আল জাজিরা জানিয়েছে, ভিসা বাতিলের কারণগুলোর মধ্যে রয়েছে, ভিসার মেয়াদোত্তীর্ণ হয়ে অবস্থান, অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড, জননিরাপত্তার জন্য হুমকি, সন্ত্রাসী কার্যকলাপে জড়িত থাকা বা কোনো সন্ত্রাসী সংগঠনকে সহায়তা করা।
দপ্তরের ভাষ্যমতে, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, অভিবাসন সংক্রান্ত নথি এবং নতুন তথ্যের ভিত্তিতেই এ পর্যালোচনা চালানো হচ্ছে।
জানুয়ারি থেকে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ব্যাপক অভিবাসন দমন অভিযান শুরু করেছেন। শুধু অবৈধ অভিবাসী নয়, বৈধ কাগজপত্রধারীরাও এই অভিযানের আওতায় আসছেন। সরকার শুরুতে জানালেও যে কেবল বিপজ্জনক অপরাধীদের লক্ষ্য করা হবে, বাস্তবে প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষকে আটক করা হচ্ছে। নিউইয়র্ক টাইমসের হিসাবে, চলতি বছরেই যুক্তরাষ্ট্রে প্রায় ৪ লাখ মানুষকে বহিষ্কার করা হতে পারে।
কর্তৃপক্ষ রেস্তোরাঁ, নির্মাণস্থল, খামার থেকে শুরু করে আদালতেও অভিযান চালাচ্ছে। আদালতে বৈধতা সংক্রান্ত শুনানিতে আসা অভিবাসীরাও গ্রেপ্তার হচ্ছেন।
এছাড়া সরকার ‘হিউম্যানিটারিয়ান প্যারোল’ ও ‘টেম্পোরারি প্রটেক্টেড স্ট্যাটাস’ বাতিলের উদ্যোগ নিয়েছে, যার ফলে প্রতিকূল পরিস্থিতি মোকাবিলা করা হাজারো মানুষ যুক্তরাষ্ট্রে বসবাস ও কাজের অধিকার হারাতে পারেন।
শিক্ষার্থীরাও এর বাইরে নন। শুধু এ বছরেই ৬ হাজার শিক্ষার্থীর ভিসা বাতিল করা হয়েছে। পররাষ্ট্র দপ্তর দাবি করছে, তারা হয় আইনের লঙ্ঘন করেছেন অথবা সন্ত্রাসবাদকে সমর্থন করেছেন। তবে অনেক শিক্ষার্থীকে কেবল ফিলিস্তিনপন্থী বিক্ষোভে অংশ নেওয়া বা মতামত লেখার জন্য ভিসা হারাতে হয়েছে, যা যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধানে সুরক্ষিত মতপ্রকাশের স্বাধীনতার অন্তর্ভুক্ত। অন্যদের ভিসা বাতিলের পেছনে তেমন কোনো কার্যকলাপও ছিল না।
এফএইচ/এমএস