দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

গাজা উপত্যকা থেকে ফিলিস্তিনিদের গণউচ্ছেদকে ‘রেড লাইন’ আখ্যা দিয়েছে মিশর। দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী বাদর আবদেলাত্তি সোমবার স্পষ্ট করে বলেছেন, মিশরের জাতীয় নিরাপত্তা ও সার্বভৌমত্বের ঝুঁকি নিতে কোনো পক্ষকেই দেওয়া হবে না।
সিএনএন-কে দেওয়া একান্ত সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, মিশর বিভিন্ন মাধ্যমে কাজ করছে শুধু একটাই উদ্দেশ্যে, ফিলিস্তিনিদের দুর্ভোগ কমানো। তবে গণউচ্ছেদ কোনোভাবেই মেনে নেবে না কায়রো।
আবদেলাত্তি বলেন, আমরা এটি মেনে নেব না, এতে অংশ নেব না এবং এটি ঘটতে দেব না। তার মতে, গাজাবাসীর উচ্ছেদ মানেই একমুখী টিকিট, যা শেষ পর্যন্ত ফিলিস্তিনি আন্দোলনকে ধ্বংস করবে।
ইসরায়েল এখনো গাজার ভবিষ্যৎ নিয়ে কোনো সুস্পষ্ট পরিকল্পনা দেয়নি। তবে প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু বারবার গাজাবাসীকে অন্য দেশে সরিয়ে নেওয়ার কথা বলেছেন। যদিও এ নিয়ে বিতর্কের পর যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রস্তাব থেকে সরে দাঁড়ান, তবুও ইসরায়েলি কর্মকর্তারা বিষয়টি সমর্থন করে যাচ্ছেন।
গাজার একমাত্র বাইরের পথ মিশর সীমান্ত। ইসরায়েল স্থল, সমুদ্র ও আকাশপথ অবরোধ করে রাখায় মিশরের ওপর চাপ বেড়েছে। সহায়তার ট্রাক সীমান্তে আটকে থাকা নিয়েও কায়রো বারবার ইসরায়েলকে দায়ী করছে।
মিশরের সঙ্গে ইসরায়েলের শান্তিচুক্তি ঝুঁকিতে আছে কি না এমন প্রশ্নে আবদেলাত্তি বলেন, কায়রো তার প্রতিশ্রুতি মানছে। তবে তিনি সতর্ক করে দেন, কোনো ধরনের গণউচ্ছেদ মিশরের সীমান্ত, জাতীয় নিরাপত্তা ও সার্বভৌমত্বের জন্য বড় হুমকি হবে।
তিনি আরও বলেন, যদি ইসরায়েল ফিলিস্তিনিদের উচ্ছেদে সফল হয়, তবে সেটিই হবে ফিলিস্তিনি আন্দোলনের সমাপ্তি।
ইসরায়েলি কর্মকর্তারা সম্প্রতি দাবি করেছেন, গাজার দুই কোটির বেশি মানুষের কিছু অংশকে নেওয়ার বিষয়ে কয়েকটি দেশের সঙ্গে আলোচনা চলছে। এসব দেশের মধ্যে রয়েছে দক্ষিণ সুদান, সোমালিল্যান্ড, ইথিওপিয়া, লিবিয়া ও ইন্দোনেশিয়া। এর বিনিময়ে তারা আন্তর্জাতিক সহায়তা ও আর্থিক ক্ষতিপূরণ চাইছে।
তবে এসব আলোচনা কতদূর এগিয়েছে, তা স্পষ্ট নয়। দক্ষিণ সুদান ও সোমালিল্যান্ড ইতোমধ্যেই এ ধরনের আলোচনা অস্বীকার করেছে। অন্যদিকে ইন্দোনেশিয়া বলেছে, তারা চিকিৎসার জন্য দুই হাজার গাজাবাসীকে নিতে প্রস্তুত, তবে সুস্থ হওয়ার পর তারা গাজায় ফিরে যাবে।
উল্লেখ্য, মিশর ১৯৭৯ সালে প্রথম আরব দেশ হিসেবে ইসরায়েলকে স্বীকৃতি দিয়েছিল।
এমএস/আরএ