দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি বলেছেন, যুদ্ধবিরতিতে রাজি না হওয়ায় রাশিয়া শান্তি প্রতিষ্ঠার প্রচেষ্টা জটিল করে তুলছে।
শনিবার এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, ‘রাশিয়া বহুবারের যুদ্ধবিরতির আহ্বান প্রত্যাখ্যান করেছে এবং কবে হত্যাযজ্ঞ বন্ধ করবে তা এখনো ঠিক করেনি। এটাই পরিস্থিতি জটিল করছে।’
আগামী সোমবার জেলেনস্কি ওয়াশিংটন যাচ্ছেন। সেখানে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠক হবে। ট্রাম্প জানিয়েছেন, তিনি জেলেনস্কিকে একটি শান্তিচুক্তিতে রাজি করাতে চান।
আলাস্কায় রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে সাম্প্রতিক বৈঠকের পর ট্রাম্প বলেন, যুদ্ধবিরতি নয়, সরাসরি স্থায়ী শান্তিচুক্তিই হবে সমাধানের সেরা উপায়। তার মতে, যুদ্ধবিরতি সাধারণত স্থায়ী হয় না।
ট্রাম্পের সঙ্গে ফোনালাপে জেলেনস্কি বলেন, 'বাস্তব ও দীর্ঘস্থায়ী শান্তি চাই, তবে আগে হত্যাযজ্ঞ বন্ধ করতে হবে।' তিনি আরও জানান, স্থায়ী শান্তির জন্য ইউক্রেনের শর্ত হলো, বিশ্বাসযোগ্য নিরাপত্তা নিশ্চয়তা ও দখলকৃত অঞ্চল থেকে অপহৃত শিশুদের ফেরত দেওয়া।
তবে পুতিন ট্রাম্পকে যে প্রস্তাব দিয়েছেন, তাতে ইউক্রেনকে দোনেৎস্ক অঞ্চল ছাড়তে হবে। বিনিময়ে রাশিয়া জাপোরিঝিয়া ও খেরসনে ফ্রন্টলাইন স্থির রাখবে।
জেলেনস্কি এর আগেই স্পষ্ট করেছেন, ডনবাস অঞ্চল (লুহানস্ক ও দোনেৎস্ক) ছাড়ার প্রশ্নই ওঠে না। তার মতে, এ অঞ্চল হারালে ভবিষ্যতে রাশিয়া আবারও আগ্রাসন চালাতে পারে।
ইউরোপীয় নেতাদের আশঙ্কা, সোমবার হোয়াইট হাউসে বৈঠকে ট্রাম্প হয়তো জেলেনস্কিকে চাপ দেবেন সমঝোতায় রাজি হওয়ার জন্য। যদিও ফ্রান্স, জার্মানি ও ইউরোপীয় কমিশনের নেতারা একযোগে বলেছেন, ইউক্রেনের ভূখণ্ড নিয়ে সিদ্ধান্ত নেবে ইউক্রেনই, আন্তর্জাতিক সীমানা বলপ্রয়োগে পরিবর্তন করা যাবে না।
জার্মান চ্যান্সেলর ফ্রিডরিখ মের্জ বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে নিরাপত্তা নিশ্চয়তার ঘোষণা ‘উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি’।
এদিকে লন্ডনে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কেয়ার স্টারমার বলেন, ‘ট্রাম্পের প্রচেষ্টা আমাদের আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে শান্তির কাছাকাছি এনেছে। তবে ইউক্রেনের ভবিষ্যৎ নিয়ে সিদ্ধান্ত জেলেনস্কিকে ছাড়া নেওয়া যাবে না।’
কিয়েভের সাধারণ মানুষ অবশ্য আলাস্কার বৈঠক নিয়ে হতাশা প্রকাশ করেছেন। দোনেৎস্কের যুদ্ধপ্রবীণ সের্হিই অর্লিক বলেন, ‘আলোচনার জন্য হাত মেলানো স্বাভাবিক। কিন্তু লাল গালিচা আর আনুষ্ঠানিক প্রদর্শনী—এগুলো ভীষণ বেদনাদায়ক।’
ফেব্রুয়ারির কটূক্তি ও এপ্রিলের সাময়িক সমঝোতার পর সোমবারের হোয়াইট হাউস বৈঠক হবে ট্রাম্পের সঙ্গে জেলেনস্কির প্রথম সরাসরি সাক্ষাৎ।
এমএস/আরএ