দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

ইউক্রেন যুদ্ধের অবসান নিয়ে আলোচনা করতে যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়ার শীর্ষ নেতারা আজ আলাস্কায় বৈঠকে বসছেন। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন শুক্রবার (১৫ আগস্ট) আলাস্কার সবচেয়ে বড় শহর অ্যাঙ্কোরেজে মুখোমুখি হবেন। ছয় বছর পর এ দুই নেতা সরাসরি সাক্ষাৎ করছেন।
ট্রাম্পের অন্যতম প্রধান নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি ছিল, ইউক্রেন যুদ্ধের অবসান। তা বাস্তবায়নের প্রচেষ্টা হিসেবেই এই বৈঠককে মনে করা হচ্ছে। পুতিনের সঙ্গে ব্যক্তিগত সম্পর্ক কাজে লাগিয়ে তিনি যুদ্ধবিরতিতে অগ্রগতি আশা করছেন। তবে, বৈঠকের সফলতার সম্ভাবনা মাত্র ২৫ শতাংশ বলে মনে করেন ট্রাম্প।
ফক্স নিউজ রেডিওকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প ইঙ্গিত দেন, এই সাক্ষাৎ ইউক্রেনীয় প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কিকে অন্তর্ভুক্ত করে দ্বিতীয় দফা আলোচনার পথ খুলে দিতে পারে। তবে কিয়েভকে আমন্ত্রণ জানানো হয়নি। জেলেনস্কি স্পষ্ট করে দিয়েছেন, তার অনুপস্থিতিতে গৃহীত যেকোনো সিদ্ধান্ত অর্থহীন হবে এবং তিনি কোনো ভূখণ্ড ছাড়বেন না।
বৈঠক ঘিরে অ্যাঙ্কোরেজে তেমন উচ্চপর্যায়ের প্রস্তুতি নেই। কেবল আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের সরব উপস্থিতি রয়েছে। সময়সীমা ও নিরাপত্তার কারণে পুরো আলোচনা কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই শেষ হবে বলে জানা গেছে। এটি ট্রাম্পের রাশিয়াকে যুদ্ধবিরতির সময়সীমা দেওয়ার এক সপ্তাহ পর অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। সময়সীমা শেষে তিনি নতুন নিষেধাজ্ঞার হুমকি দিয়েছেন।
যুদ্ধ থামার সম্ভাবনা ক্ষীণ বলেই মনে করছেন বিশ্লেষকরা। রাশিয়া বলছে, তারা দোনেৎস্ক, লুহানস্ক, খেরসন ও জাপোরিঝঝিয়া পুরোপুরি দখল এবং ইউক্রেনের ন্যাটোতে যোগ না দেওয়ার অঙ্গীকার ছাড়া যুদ্ধ থামাবে না। অন্যদিকে ট্রাম্পের ‘অঞ্চল বিনিময়’ মন্তব্য কিয়েভে উদ্বেগ বাড়িয়েছে।
ইউরোপীয় নেতাদের সঙ্গে ফোনালাপে ট্রাম্প কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, পুতিন রাজি না হলে “খুব কঠোর পরিণতি” ভোগ করতে হবে। তবে তিনি বৈঠকের পর জেলেনস্কিকে অবহিত করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন এবং একটি ত্রিপক্ষীয় বৈঠকের সম্ভাবনার কথা বলেছেন।
রাজনৈতিক বিশ্লেষক তাতিয়ানা স্তানোভায়ার মতে, পুতিনের মূল লক্ষ্য ইউক্রেনের ভূরাজনৈতিক নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করা। সব মিলিয়ে, আলাস্কার এই বৈঠক উভয় নেতাকে একই টেবিলে বসালেও প্রকৃত সমঝোতায় পৌঁছানো কঠিন হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
এফএইচ/ এমএস