দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

আগামী সেপ্টেম্বরের শেষ সপ্তাহে জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশন ও যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে অংশ নিতে যুক্তরাষ্ট্র সফরে যেতে পারেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। এ নিয়ে প্রস্তুতি চলছে বলে জানিয়েছে দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস।
প্রধান উদ্দেশ্য নিউইয়র্কে অনুষ্ঠিতব্য সাধারণ অধিবেশনে যোগ দেওয়া হলেও, ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠক করে বাণিজ্য ইস্যুতে সমাধান খোঁজা ও শুল্কে সমঝোতায় পৌঁছানো এই সফরের অন্যতম লক্ষ্য। এতে সম্ভাব্য বাণিজ্য চুক্তি ঘোষণারও সুযোগ তৈরি হবে। তবে তা বাস্তবায়নের আগে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ ও যুক্তরাষ্ট্র-ভারত বাণিজ্য চুক্তি, এই দুই ক্ষেত্রে অগ্রগতি জরুরি।
ভারতের জন্য বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ, কারণ দেশটির ওপর যুক্তরাষ্ট্র ৫০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করেছে। এর মধ্যে ২৫ শতাংশ ভারতের উচ্চ শুল্কহার, আর বাকি ২৫ শতাংশ রাশিয়া থেকে তেল আমদানির কারণে।
রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ প্রসঙ্গে, ১৫ আগস্ট ট্রাম্প ও রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের বৈঠকের দিকে নজর রাখছে দিল্লি। মোদি ইতিমধ্যে পুতিন ও ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির সঙ্গে ফোনে কথা বলেছেন।
বাণিজ্য চুক্তির ক্ষেত্রে, দুই দেশের আলোচকরা প্রায় চুক্তির কাছাকাছি পৌঁছেছিলেন, তবে ট্রাম্প সন্তুষ্ট হননি। তাই শর্ত নতুন করে আলোচনার প্রয়োজন পড়েছে। দুই পক্ষ এখন ‘মিশন ৫০০’ লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছে, যা ২০৩০ সালের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য ৫০০ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত করার পরিকল্পনা।
এ বছরের ফেব্রুয়ারিতে হোয়াইট হাউসে মোদি-ট্রাম্প বৈঠকে এ বিষয়ে সমঝোতা হয়। তখন তারা বহুখাতভিত্তিক একটি দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য চুক্তি শুরুর পরিকল্পনাও ঘোষণা করেন। এতে বাজারে প্রবেশাধিকারের উন্নয়ন, শুল্ক ও অশুল্ক বাধা হ্রাস, এবং সরবরাহ শৃঙ্খলের গভীর সংযুক্তি নিশ্চিত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়। তবে সাম্প্রতিক সময়ে আলোচনায় জটিলতা তৈরি হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রীর সফরের আগে এসব ইস্যুর সমাধান জরুরি। ইতোমধ্যে জাতিসংঘ সদরদপ্তরে মোদির বক্তৃতার জন্য ২৬ সেপ্টেম্বর সকালে সময় বরাদ্দ করা হয়েছে। ট্রাম্প ভাষণ দেবেন ২৩ সেপ্টেম্বর। জেলেনস্কিও জানিয়েছেন, সেপ্টেম্বরে নিউইয়র্কে মোদির সঙ্গে তার ব্যক্তিগত বৈঠকের পরিকল্পনা রয়েছে।
গত কয়েক মাসে দুই দেশের সম্পর্কে টানাপোড়েন দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে ট্রাম্পের দাবি অনুযায়ী তিনি নাকি ভারত-পাকিস্তানের মধ্যে যুদ্ধবিরতি করিয়েছেন। তবে দিল্লি তা অস্বীকার করেছে। পরে তিনি ভারতের শুল্কনীতির সমালোচনা করে ৫০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করেন।
সূত্র বলছে, কৌশলগত অংশীদার হিসেবে ভারত ও যুক্তরাষ্ট্রের এসব ইস্যু মিটিয়ে ফেলা প্রয়োজন। সেপ্টেম্বরে মোদির সফর সফল হলে, অক্টোবরে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টের ভারত সফরের মাধ্যমে কোয়াড সম্মেলন আয়োজনের পথ খুলে যেতে পারে।
এমএস/কে