দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

গাজায় ইসরায়েলের বোমা হামলায় আল জাজিরার পাঁচ সাংবাদিক নিহত হয়েছেন। এর মধ্যে আল জাজিরা আরবির প্রতিবেদক আনাস আল শরীফও রয়েছেন। গাজা শহরের আল শিফা হাসপাতালের কাছে একটি তাঁবু লক্ষ্য করে হামলা চালালে নিহত হন তারা।
আল জাজিরার এক প্রতিবেদনের তথ্যমতে, রোববার (১০ আগস্ট) সন্ধ্যায় আল শিফা হাসপাতালের প্রধান ফটকের বাইরে অবস্থিত তাঁবু লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়। এতে আল জাজিরার পাঁচ সংবাদিকসহ মোট সাতজন নিহত হন।
আল জাজিরার নিহত সাংবাদিকরা হলেন- আনাস আল শরীফ (২৮), সংবাদদাতা মোহাম্মদ ক্রিকেহ, ক্যামেরা অপারেটর ইব্রাহিম জাহের, মোহাম্মদ নওফাল ও মোমেন আলিওয়া।
আনাস আল শরীফ আল জাজিরার একজন সুপরিচিত সাংবাদিক। তিনি দীর্ঘদিন ধরে উত্তর গাজা থেকে নিয়মিত প্রতিবেদন করে আসছিলেন। নিহত হওয়ার কিছুক্ষণ আগে এক এক্স বার্তায় তিনি লেখেন, ‘গাজা নগরীর পূর্ব ও দক্ষিণ অংশে প্রচণ্ড বোমাবর্ষণ শুরু করেছে ইসরায়েল।’
তার কথায়, ‘অবিরাম বোমাবর্ষণ.. গত দুই ঘণ্টা ধরে, গাজা সিটিতে ইসরাইলি আগ্রাসন তীব্রতর হয়েছে।’ ওই পোস্টে একটি ভিডিও শেয়ার করেন আনাস। তার সবশেষ ভিডিওতে ইসরায়েলের ভয়াবহ ক্ষেপণাস্ত্র হামলার তীব্র বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়। এতে অন্ধকার আকাশ মুহূর্তের জন্য কমলা আলোয় আলোকিত হয়ে ওঠে।
আনাস আল শরীফকে হত্যার পর এক বিবৃতি প্রকাশ করে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী। তাতে তার বিরুদ্ধে হামাসের একটি শাখার নেতৃত্ব দেওয়ার অভিযোগ করে। ফিলিস্তিনের এই সশস্ত্র স্বাধীনতাকামী গোষ্ঠীর সঙ্গে তার সম্পৃক্ততার ‘সুনির্দিষ্ট প্রমাণ’ সম্বলিত নথি তাদের কাছে আছে বলেও দাবি করে তারা।
তবে ইউরো-মেডিটেরেনিয়ান হিউম্যান রাইটস মনিটরের বিশ্লেষক মুহাম্মদ শেহাদা বলেন, আনাস আল শরীফের সহিংস কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার ‘কোনো ধরনের প্রমাণ নেই’। তার ভাষায়, ‘সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত ক্যামেরার সামনে দাঁড়িয়ে থাকাই ছিল তার প্রতিদিনের রুটিন কাজ।’
আল জাজিরা মিডিয়া নেটওয়ার্ক গাজা উপত্যকায় তাদের সাংবাদিকদের, বিশেষ করে আনাস আল-শরীফকে নিয়ে ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর ‘উসকানিমূলক প্রচারণা’ চালানোর অভিযোগ করে তার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে।
গত জুলাই মাসে ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর মুখপাত্র আভিচাই আদরাই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক ভিডিও শেয়ার করেন। যেখানে আনাস আল শরীফকে হামাসের সামরিক শাখার সদস্য বলে অভিযোগ করা হয়। তবে ইসরায়েলি বাহিনীর এই দাবি মিথ্যা বলে প্রত্যাখ্যান করে আন্তর্জাতিক সাংবাদিক সংগঠনগুলো।
কমিটি টু প্রোটেক্ট জার্নালিস্টস (সিপিজে) এক বিবৃতিতে বলে, তারা আনাস আল শরীফের নিরাপত্তা নিয়ে গভীরভাবে উদ্বিগ্ন এবং তাকে ‘ইসরায়েলি সামরিক অপপ্রচারের লক্ষ্যবস্তু’ করা হচ্ছে।
/অ