দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ নিয়ে নিরপেক্ষ অবস্থান বজায় রাখার কৌশল অবলম্বন করলেও ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ওপর চাপ বাড়াচ্ছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। একদিকে যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়ার সঙ্গে ভারসাম্যপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখার চেষ্টা, অন্যদিকে সস্তায় রাশিয়ান তেল আমদানির কারণে পশ্চিমা বিশ্বের অসন্তোষ—এই জটিল পরিস্থিতির মধ্যেই পড়েছেন মোদি।
তবে এবার ধৈর্য হারিয়েছেন ট্রাম্প। ভারত রাশিয়ার সস্তা জ্বালানি তেল আমদানি অব্যাহত রাখায় দেশটির বিরুদ্ধে বাণিজ্য যুদ্ধের অংশ হিসেবে বড় ধরনের শুল্ক আরোপের ঘোষণা দিয়েছেন তিনি।
সিএনবিসিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে সোমবার ট্রাম্প বলেন, ‘আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ভারতীয় পণ্যের ওপর শুল্ক উল্লেখযোগ্য হারে বাড়ানো হবে।’
যদিও ঠিক কত শতাংশ শুল্ক বাড়ানো হবে, তা এখনও পরিষ্কার নয়। তবে গত সপ্তাহেই ভারত থেকে আমদানি করা পণ্যের ওপর ন্যূনতম ২৫ শতাংশ শুল্ক আরোপের ঘোষণা দিয়েছিলেন ট্রাম্প।
ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে লিখেছেন, ‘ভারত এখনও রাশিয়ার কাছ থেকেই অধিকাংশ সামরিক সরঞ্জাম কিনছে এবং চীন ও ভারত সম্মিলিতভাবে রাশিয়ার সবচেয়ে বড় জ্বালানি ক্রেতা। এগুলো মোটেও ভালো বিষয় নয়!’
তবে ভারতের অবস্থান ভিন্ন। বিশ্বের চতুর্থ বৃহত্তম অর্থনীতি হিসেবে দেশটি বলছে, তাদের লক্ষ্য শুধু অর্থনৈতিক স্বার্থ রক্ষা করা। ভারত সরকার একে ‘অন্যায্য ও অযৌক্তিক’ হস্তক্ষেপ হিসেবে উল্লেখ করেছে। তারা বলছে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপ এখনো রাশিয়ার কাছ থেকে সার ও রাসায়নিক পণ্য কিনছে।
রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী, বিশ্বের সবচেয়ে জনবহুল দেশ ভারত এখন তৃতীয় বৃহত্তম তেল ভোক্তা। জনসংখ্যা ১৪০ কোটিরও বেশি। দেশটির ক্রমবর্ধমান অর্থনীতি ও নাগরিকদের জীবনমানের উন্নতির ফলে গাড়ি ও মোটরসাইকেলের ব্যবহার বেড়েছে, যার ফলে জ্বালানির চাহিদাও দ্রুত বাড়ছে।
ট্রেড ইন্টেলিজেন্স ফার্ম কেপলার-এর জ্যেষ্ঠ বিশ্লেষক মুইউ শু জানান, চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসে ভারতের মোট অপরিশোধিত তেল আমদানির ৩৬ শতাংশই এসেছে রাশিয়া থেকে। ফলে মস্কো, দেশটির শীর্ষ জ্বালানি উৎসে পরিণত হয়েছে।
২০২২ সালে ইউক্রেনে হামলার পর ইউরোপীয় দেশগুলো রাশিয়ার তেল কেনা বন্ধ করলেও, চীন, ভারত ও তুরস্ক রাশিয়ার তেল কেনা অব্যাহত রেখেছে।
জওহরলাল নেহরু বিশ্ববিদ্যালয়ের রাশিয়া ও মধ্য এশিয়া অধ্যয়ন কেন্দ্রের সহযোগী অধ্যাপক অমিতাভ সিং বলেন, ‘রাশিয়ার কাছ থেকে ভারতে যে ছাড়ে তেল কেনা হচ্ছে, তা অন্যান্য তেল সরবরাহকারীরা কখনোই দিত না। এটি একেবারেই অর্থনৈতিক সিদ্ধান্ত।’
তবে ইউক্রেন ও পশ্চিমা বিশ্ব এই ব্যাখ্যায় সন্তুষ্ট নয়।
অ/এমএস