দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

আন্তর্জাতিক আইন, যুদ্ধবিরতি চুক্তি, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের আহ্বান- কোনো কিছু আমলে না নিয়েই ফিলিস্তিনের গাজায় নৃশংসতা চালিয়ে যাচ্ছে ইসরায়েল। উপত্যকাটিতে নিহত ফিলিস্তিনির সংখ্যা ৫০ হাজারের কাছাকাছি। তাদের বেশির ভাগই নারী ও শিশু।
স্থানীয় সময় শনিবার (২২ মার্চ) থেকে আগের ৪৮ ঘণ্টায়ও ১৩০ জনের প্রাণহানি হয়েছে। এরপরও ইসরায়েল বলছে, হামাসকে নির্মূল করতে তাদের এ হামলা।
২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর থেকে টানা ১৫ মাস গাজায় নির্বিচার হামলা চালায় ইসরায়েলি বাহিনী। এরই মধ্যে দীর্ঘ আলোচনার পর গত ১৯ জানুয়ারি উপত্যকাটিতে যুদ্ধবিরতি শুরু হয়। এ যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করে মঙ্গলবার ভোররাতে গাজায় আবার হামলা শুরু করে ইসরায়েল। এর পর থেকে গতকাল পর্যন্ত টানা পাঁচ দিন উত্তর থেকে দক্ষিণ-উপত্যকাটির সর্বত্র নৃশংস হামলা চলে।
গতকাল গাজায় যুদ্ধবিমানের পাশাপাশি অভিযান চালিয়েছে স্থল বাহিনী। উত্তর গাজায় ব্যাপক কামানের গোলাবর্ষণ করা হয়েছে। ওই গোলা আঘাত হেনেছে নুসেইরাত শরণার্থীশিবিরেও। এ ছাড়া গাজা নগরীর পূর্বে তুফা এলাকার একটি বাড়িতে ইসরায়েলের হামলায় পাঁচজন নিহত হয়েছেন। এদিন দখলকৃত পশ্চিম তীরের জেরিকো শহরের কাছে হামলা চালিয়েছেন ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারীরা।
উত্তর গাজার তুফা এলাকায় হামলার পর হতাহত ব্যক্তিদের নিয়ে যাওয়া হয় কাছের আল–আহলি আরব হাসপাতালে। সেখানে স্থানীয় এক সাংবাদিকের ধারণ করা ভিডিওতে দেখা যায়, দুটি শিশুসহ কয়েকজনকে অ্যাম্বুলেন্সে করে হাসপাতালে আনা হয়েছে। তাদের মধ্যে একটি শিশুর ছোট্ট শরীর নিথর হয়ে আছে, হাত–পাগুলো একেবারে আড়ষ্ট। ভিডিওটির সত্যতা যাচাই করেছে আল–জাজিরা।
যুদ্ধবিরতি ভেঙে গাজায় গত পাঁচ দিনের হামলায় দুই শতাধিক শিশু নিহত হয়েছে বলে জানিয়েছে জাতিসংঘের শিশু তহবিল–ইউনিসেফ। আর গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের হিসাবে, এ সময়য়ে মোট নিহত হয়েছেন ৬৩৪ ফিলিস্তিনি। সব মিলিয়ে গত ১৭ মাসে ইসরায়েলের হামলায় নিহত হয়েছেন ৪৯ হাজার ৭৪৭ জন। আর আহত ফিলিস্তিনির সংখ্যা ১ লাখ ১৩ হাজারের বেশি।
জাতিসংঘের ত্রাণ ও মানবিক সহায়তাসংক্রান্ত সংস্থার (ওসিএইচএ) মুখপাত্র ওলগা চেরেভকোর বলেছেন, গাজায় গত কয়েক দিনের হামলায় ১ লাখ ২০ হাজারের বেশি মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন। এ ছাড়া ইসরায়েল সীমান্ত ক্রসিংগুলো বন্ধ করে দেওয়ার ফলে ত্রাণসহায়তা প্রবেশ করতে পারছে না। এমন পরিস্থিতি সমাধানে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে এগিয়ে আসতে হবে।
গাজাবাসীর এত দুর্দশার মধ্যেও উপত্যকাটির আরও এলাকা দখলের নির্দেশ দিয়েছেন ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাৎজ। শুক্রবার এক বিবৃতিতে তিনি হুমকি দিয়ে বলেন, হামাস যদি বাকি জিম্মিদের মুক্তি না দেয়, তবে গাজার কিছু অংশ স্থায়ীভাবে দখল করে নেওয়া হবে। সব জিম্মিকে ফিরিয়ে না দেওয়া পর্যন্ত গাজায় ‘ক্রমবর্ধমান তীব্রতার সঙ্গে’ স্থল অভিযান চলবে।
কে