দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

ফ্রান্সে পার্লামেন্ট নির্বাচনের প্রথম দফার ভোট হয়ে গেলো। রোববার (৩০ জুন) অনুষ্ঠিত এই নির্বাচনে কট্টর ডানপন্থিদের উত্থান হয়েছে। প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁর জোট ধরাশায়ী হয়েছে।
প্রথম দফা ভোটের পর ইপসোস, ইফপ, ওপিনিয়ন ওয়ে এবং এলাবের পরিচালিত বুথ ফেরত জরিপে দেখা গেছে, আরএন প্রায় ৩৪ শতাংশ ভোট পেতে যাচ্ছে। বামপন্থি জোট ২৮ দশমিক ৫ শতাংশ ভোট নিয়ে দ্বিতীয় স্থানে এবং ম্যাক্রোঁর জোট ২০ দশমিক ৫ শতাংশ ভোট পেয়ে তৃতীয় স্থানে রয়েছে। এ নির্বাচনে ৪০ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ ভোট পড়েছে।
এতে মনে হচ্ছে, আগামী রোববার দ্বিতীয় রাউন্ডের ভোটের পর ৫৭৭ আসনের জাতীয় পরিষদে আরএন ২৩০ থেকে ২৮০ আসনে জয়লাভ করবে। নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতার জন্য প্রয়োজন ২৮৯টি আসন।
সম্প্রতি গঠিত বামপন্থী জোট নিউ পপুলার ফ্রন্ট (এনএফপি) ১২৫ থেকে ১৬৫ আসন পাবে। ম্যাক্রোঁর এনসেম্বল এবং তার মিত্ররা ৭০ থেকে ১০০ আসন পেতে পারে। ফ্রান্সের ভোটার প্রায় ৪ কোটি ৯০ লাখ।
মেরিন লে পেন তার উত্তরাঞ্চলীয় নির্বাচনী এলাকা হেনিন-বিউমন্টে উৎফুল্ল সমর্থকদের উদ্দেশে ভাষণে বলেন, গণতন্ত্র কথা বলেছে এবং ফরাসিরা আরএন ও তার মিত্রদের শীর্ষে রেখেছে। জনগণ কার্যত ম্যাক্রোঁ শিবিরকে নিশ্চিহ্ন করে দিয়েছে।
তিনি বলেন, জনগণ স্পষ্টতই সাত বছরের অবমাননাকর এবং ক্ষয়কারী শাসনের পরে পৃষ্ঠা উল্টাতে চায়।
প্রথম পর্বের ভোটে কোনো প্রার্থী ৫০ শতাংশ ভোট না পেলে শীর্ষে থাকা দুই প্রতিদ্বন্দ্বী স্বয়ংক্রিয়ভাবে দ্বিতীয় পর্বে প্রতিদ্বন্দ্বিতার যোগ্যতা অর্জন করবেন। তাদের পাশাপাশি যে প্রার্থীদের পক্ষে সাড়ে ১২ শতাংশ নিবন্ধিত ভোটার রয়েছে তারাও দ্বিতীয় পর্বে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন। এই পর্বে সবচেয়ে বেশি ভোট পাওয়া প্রার্থীই জয়ী হবেন।
যদি দ্বিতীয় পর্বের ভোটে জিতে আরএনের ক্ষমতায় যাওয়ার পথ সুগম হয় তাহলে দলটির সভাপতি জগদান বাগদেলা (২৮) হবেন ফ্রান্সের পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী।
জ্বালানি ও খাদ্যদ্রব্যের দাম অনেক বেড়ে যাওয়ায় ফ্রান্সের জনগণের মধ্যে অসন্তোষ বেড়েছে। প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি ঠেকানোর আশ্বাস দেওয়ার পরও দেশটিতে অভিবাসনবিরোধী এবং কট্টরপন্থী আরএন দলের প্রতি জনগণের সমর্থন বেড়েছে।
সম্প্রতি ইউরোপীয় ইউনিয়নের নির্বাচনে খারাপ ফলের জেরে পার্লামেন্ট ভেঙে দেন ম্যাক্রোঁ। একই সঙ্গে দেশটিতে আগাম নির্বাচনের ঘোষণাও দেন। তার এ ঘোষণায় দেশটির অনেকেই হতবাক হন। এ ছাড়া ইউরোপের দ্বিতীয় বৃহত্তম অর্থনীতির দেশটিতে রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা দেখা দেয়।
এমএ