দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যের একটি গ্রামে অভিযান চালিয়েছে দেশটির সেনাবাহিনী। এতে প্রাণ হারিয়েছে অন্তত ৫০ জন। স্থানীয় বাসিন্দা ও বিদ্রোহী গোষ্ঠীগুলো এ তথ্য জানিয়েছে। খবর বিবিসির।
প্রত্যক্ষদর্শীরা ব্রিটিশ গণমাধ্যমটিকে জানান, আড়াই দিন ধরে গ্রামটিতে অভিযান চালানো হয়। গ্রামবাসীকে ধরে চোখ বেধে তাদের মারধর করে জান্তা বাহিনী। তাদের ত্বকে জ্বলন্ত পেট্রোল ঢেলে দেয় এবং কয়েকজনকে তাদের প্রস্রাব পান করতে বাধ্য করে।
বিদ্রোহী গোষ্ঠী আরাকান আর্মির (এএ) সমর্থকদের খুঁজতে গ্রামটিতে অভিযান চালায় জান্তা বাহিনী। সশস্ত্র এই গোষ্ঠীটি দীর্ঘদিন ধরেই মিয়ানমারের সামরিক বাহিনীর বিরুদ্ধে লড়ছে। বেশ অগ্রগতিও পেয়েছে তারা।
বিরোধীদের সমন্বয়ে গঠিত ছায়া সরকার ন্যাশনাল ইউনিটি গভর্নমেন্ট (এনইউজি) এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, ১৫ থেকে ৭০ বছর বয়সের মধ্যে ৫১ জনকে নির্যাতন ও হত্যা করেছে জান্তা বাহিনী। তবে, নিহতের সংখ্যা ৭০ এর বেশি বলে দাবি করছে এএ। তবে, এসব অভিযোগ অস্বীকার করছে মিয়ানমার জান্তা।
ওই গ্রামটির এক নারী বিবিসিকে বলেন, ‘তারা (জান্তা বাহিনী) পুরুষদের আটক করে জানতে চায়, গ্রামে এএ এর কোনো সদস্য আছে কি না। তারা (পুরুষেরা) যে উত্তরই দেক না কেন সেনাবাহিনীর সদস্যরা তাদের মারতে থাকে।’
মাত্র ছয় মাসের ব্যবধানে রাখাইনের বেশিরভাগ অংশের নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে এএ। বিদ্রোহী গোষ্ঠীটির আক্রমণে পিছু হটতে বাধ্য হয় জান্তা বাহিনী।
মিয়ানমারের সামরিক বাহিনী ও এএ এর মধ্যে একটি চুক্তি ছিল। কিন্তু, গত বছর সেই চুক্তি থেকে বেরিয়ে যায় এএ। সংখ্যালঘু বিদ্রোহী গোষ্ঠীগুলোর সঙ্গে একত্রিত হয় তারা। গোষ্ঠীগুলো একত্রিত হয়ে হামলা চালাচ্ছে সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে। এতে ক্রমশই কোণঠাসা হয়ে পড়ছে জান্তা বাহিনী।
রাখাইনের ওই নারী বিবিসিকে আরও বলেন, ‘আমার স্বামীকে জোর করে একটি সাঁজোয়া যানে তোলা হয়। এটি আমি নিজের চোখে দেখেছি। আমার সন্তানকে আলাদা করে দেওয়া হয়েছে। আমি জানি না, সে এখন কোথায় আছে। আমি জানি না, আমার, স্বামী-সন্তান বেঁচে আছে কি না।’
প্রত্যক্ষদর্শীদের সুরক্ষার কথা চিন্তা করে বিবিসি তাদের নাম প্রকাশ করেনি। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, গ্রামটিতে এক হাজার পরিবার থাকতো। দুদিনের ব্যবধানে তাদেরকে সেখান থেকে উৎখাত করা হয়। খোলা আকাশের নিচে সূর্যের আলোতে বেঁধে রাখা গয়। চোখ বেঁধে কয়েকজনকে সাঁজোয়া যানে করে অন্যত্র নিয়ে যাওয়া হয়। এর মধ্যে অনেকেই এখনও ফিরেননি।
ওই নারী বিবিসিকে বলেন, ‘রশি দিয়ে বেঁধে রাখা পুরুষেরা খুব পিপাসার্ত ছিল। তারা সেনা সদস্যদের কাছে পানির জন্য ভিক্ষা চাইতে থাকে। বিপরীতে সৈন্যরা তাদের প্রস্রাব বোতলে ভরে পুরুষদের পান করতে দেয়।’ বেশ কয়েকবার গোলা ছোঁড়ার শব্দও শুনতে পেয়েছেন বলে জানান এই নারী। তিনি জানান, ওই সময় তাদের মাথা নিচু করে রাখতে বলা হয়। তিনি বলেন, ‘আমি তাকাতে খুব ভয় পাচ্ছিলাম। তারা আমার পাশে থাকা একজনকে নিয়ে যায়। পরে গুলির শব্দ শুনি। কিন্তু, সে আর ফিরে আসেনি।’
ওই সময় কান্না করতে থাকেন সে নারী। নিজের স্বামী ও সন্তানের কথা মনে করেই তিনি কান্না করছিলেন। তিনি বলেন, ‘আমি জানতাম না, তারা জীবিত না মৃত। আমি শুধু সৃষ্টিকর্তার কাছে প্রার্থনা করছিলাম।’
জীবিতরা জানান, মরদেহ মাটিতে পোতার জন্য সৈন্যরা বেলচা চাচ্ছে। এর মধ্যে অনেক সেনা সদস্য মাতাল ছিল।
বিবিসি জানিয়েছে, গত বুধবার শতাধিক সৈন্য নিয়ে ওই গ্রামে অভিযান চালানো হয়। ধারণা করা হচ্ছে, রাখাইনের রাজধানী সিতওয়ের বাইরে অবস্থিত ব্যায়াই ফিউ গ্রামে অভিযান চালানো হয়।
প্রায় দুই লাখ বাসিন্দার শহর সিতওয়ে। শহরটিতে রয়েছে একটি পোর্ট ও বিমানবন্দর। বর্তমানে শহরটির তেমন নিয়ন্ত্রণ নেই জান্তা বাহিনীর হাতে।
স্থানীয়রা জানান, এএ সমর্থকরা তাদের শরীরে ট্যাটু করেছিল। গ্রামের যেসব পুরুষের শরীরে ট্যাটু ছিল তাদের ওপর বেশি নির্যাতন চালিয়েছে জান্তা বাহিনী। একজন প্রত্যক্ষদর্শী বলেন, সেনা সদস্যরা শরীরে ট্যাটু থাকা অংশে জ্বলন্ত পেট্রোল ঢেলে দেয়।
এম