দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

ইরানের উত্তর-পূর্বাঞ্চলে দেশটির প্রেসিডেন্ট ইব্রাহিম রাইসিকে বহনকারী হেলিকপ্টারবহর দুর্ঘটনার কবলে পড়েছে। এ সময় তার সঙ্গে ছিলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী হোসেইন আমির আব্দোল্লাহিয়ান এবং কয়েকজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা। শেষ খবর পওয়া পর্যন্ত এখনও তাদের খোঁজ পাওয়া যায়নি। তবে উৎস খুঁজে পেয়েছে তুরস্কের একটি ড্রোন।
ইব্রাহিম রাইসির জন্ম ১৯৬০ সালে উত্তর-পূর্ব ইরানের পবিত্র শহর মাশহাদে। সে হিসেবে বর্তমানে তার বয়স ৬৩ বছর। তিনি নিজেকে হযরত মোহাম্মদ (সা.)-এর বংশধর দাবি করেন। বিশ্বনবীর রক্তসম্পর্কিত উত্তরাধিকার হওয়ার কারণে সবসময় কালো রঙের পাগড়ি পরেন।
মাত্র ২০ বছর বয়সে রাইসি তেহরানের পার্শ্ববর্তী শহর কারাজের প্রসিকিউটর-জেনারেল নিযুক্ত হন। ১৯৮৯ থেকে ১৯৯৪ সাল পর্যন্ত এ দায়িত্ব পালন করেন। ২০০৪ সাল থেকে তিনি এক দশক জুডিশিয়াল অথোরিটির উপপ্রধানের দায়িত্ব পালন করেন। ২০১৯ সালে তাকে বিচার বিভাগের প্রধান নিযুক্ত করেন দেশটির সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ খামেনি। এ পদে থাকার সময় দুর্নীতির বিরুদ্ধে দৃঢ় অবস্থান নেয়ায় দেশের অভ্যন্তরে জনপ্রিয়তা বাড়ে তার।
নিজেকে ‘দুর্নীতি, অদক্ষতা ও অভিজাতদের’ ঘোর বিরোধী হিসেবে প্রকাশ করা রাইসি রাজনৈতিক দিক থেকে শিয়া ইসলামি কট্টরপন্থার সমর্থক। দেশের গণতন্ত্রপন্থিদের পাশাপাশি তিনি যুক্তরাষ্ট্র ও পাশ্চাত্য দেশগুলোরও কঠোর সমালোচক।
ইরানের গণতন্ত্রপন্থি বলয়ে রাইসির জনপ্রিয়তা বেশ কম। কারণ, আশির দশকে ইরান-ইরাক যুদ্ধের সময় দেশটিতে তৎপর হয়ে উঠেছিলেন গণতন্ত্রপন্থিরা, যারা ক্ষমতাসীন ইসলামী কট্টরপন্থি সরকারের বিরোধী। যুদ্ধ শেষে রাষ্ট্রবিরোধী তৎপরতার কারণে শত শত গণতন্ত্রপন্থিকে গ্রেপ্তার করা হয় এবং তেহরানের রেভ্যুলুশনারি আদালত সংক্ষিপ্ত বিচারকাজের পরই তাদের অধিকাংশকে মৃত্যুদণ্ডাদেশ দেয়। সে সময় রেভ্যুলুশনারি আদালতের প্রধান বিচারক ছিলেন তিনি।
ইরান কখনও এই গণ-মৃত্যুদণ্ডের কথা স্বীকার করেনি। রাইসির ভূমিকা নিয়ে যেসব অভিযোগ তোলা হয়েছে সে বিষয়ে তিনি কখনও কিছু বলেননি।
দুর্ঘটনায় রাইসির মৃত্যু হয়েছে কি না—তা এখনও নিশ্চিত নয়। তবে এমন কিছু ঘটলে সেটা হবে ইরানের জন্য বড় ধাক্কা। কারণ তিনি যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা মোকাবিলায় প্রতিবেশীদের পাশাপাশি চীন ও রাশিয়ার সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়নে বিশেষভাবে মনোযোগ দিয়েছিলেন।
এম