দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

ছয় বছর বয়সী শিশু ফাদি আল-জান্ত। ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকার এই শিশু পুষ্টিহীনতায় ভুগছে। হালকা চামড়ায় আবৃত শিশুটির বুকের পাজরের হাড়গুলো গণনা যোগ্য হয়ে পড়েছে। ডেবে যাওয়া তার দুই চোখই। গাজার উত্তরাঞ্চলের কামাল আদওয়ান হাসপাতালের বিছানায় পড়ে রয়েছে শিশুটি। উপত্যকার এই অঞ্চলে দুর্ভিক্ষের ছায়া নেমে এসেছে।
ফাদির শরীরের ভার নিতে উপযুক্ত নয় তার পা দুটো। ঠিক মতো হাঁটতে পারছে ছয় বছরের এই শিশু। ফাদি আগে এরকম ছিল না। গাজা যুদ্ধের আগের একটি ছবিতে তাকে সুস্থই দেখা যায়।
ফাদির মা সিমা আল-জান্তের তথ্যমতে, সিস্টিক ফাইব্রোসিসে ভুগছে ফাদি। ইসরায়েল ও হামাসের সংঘাতের আগে রোগটির জন্য চিকিৎসা নিচ্ছিল সে। যে ওষুধ সেবন করছিল এই শিশু যুদ্ধের পর তা আর পাচ্ছে না তার পরিবার। এমনকি, সুষম খাবারও পাচ্ছে না পরিবারটি।
রয়টার্সকে এক ভিডিও বার্তায় এই মা বলেন, ‘আমার সন্তানের অবস্থা ক্রমশই খারাপ হচ্ছে। সে আরও দুর্বল হয়ে যাচ্ছে। সে আগে যেসব কাজ করতে পারতো এখন তাও পারছে না। সে ঠিক মতো দাঁড়াতেও পারছে না। যখন আমি তাকে দাঁড় করায় তখনই সে পড়ে যায়।’
দীর্ঘ পাঁচ মাস ধরে গাজায় আগ্রাসন চালাচ্ছে ইসরায়েলি বাহিনী। হামাসের ৭ অক্টোবরের হামলার জেরেই এমনটি করছে তারা। ত্রাণ সহায়তাকারী সংস্থাগুলো বলছে, গাজায় ত্রাণ প্রবেশে বাধা দিচ্ছে ইসরায়েল। সেখানে খাবার, ওষুধ ও সুপেয় পানির তীব্র সংকট রয়েছে।
কামাল আদওয়ান হাসপাতালে শুধুমাত্র ফাদিকে চিকিৎসা দেওয়া হয়নি। পুষ্টিহীনতায় ভুগা এমন ২৭ শিশুকে চিকিৎসা দিয়েছে তারা। তবে, বেশিরভাগ শিশুই পুষ্টিহীনতায় মারা গেছে বলে জানিয়েছে হামাস নিয়ন্ত্রিত গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। তারা বলছে, আল-শিফা হাসপাতালেও পুষ্টিহীনতায় অনেক শিশু প্রাণ হারিয়েছে।
লন্ডনভিত্তিক সংবাদ সংস্থা রয়টার্সের একটি দল গত সপ্তাহে রাফাহর আল-আওদা হাসপাতাল পরিদর্শনে যায়। এ সময় ভয়াবহ পুষ্টিহীনতা ভুগা ১০ শিশুকে দেখতে পায় তারা। সেখানের কোনো শিশু মারা গেছে কি না তা স্বাধীনভাবে যাচাই করতে পারেনি সংবাদ সংস্থাটি।
গাজা উপত্যকায় আগামী মে মাসের মধ্যে দুর্ভিক্ষ দেখা যাবে, এমন আশনি সংকেত দিয়েছে ইন্টিগ্রেটেড ফুড সিকিউরিটি ফেজ ক্লাসিফিকেশন (আইপিসি)। এক প্রতিবেদনে সংস্থাটি জানিয়েছে, গাজার ভয়াবহ পরিস্থিতি এড়াতে দ্রুত পদক্ষেপ নিতে হবে। জাতিসংঘ ও ত্রাণ সহায়তাকারী সংস্থাগুলোর জন্য তৈরি করা এই প্রতিবেদনে বলা হয়, তীব্র পুষ্টিহীনতা ও মৃত্যুহারের অত্যন্ত জটিল স্তর গাজার উত্তরাঞ্চলের দুই তৃতীয়াংশেরও বেশি লোকের জন্য আসন্ন।
গাজা উপত্যকায় ত্রাণ প্রবেশের বিষয়টি দেখে ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের শাখা কোগাট। অপুষ্টিও, অনাহার ও সুপেয় পানির অভাবে শিশু মৃত্যুর বিষয়ে রয়টার্স থেকে তাদের প্রশ্ন করা হলেও তারা এর কোনো জবাব দেয়নি। তাদের দাবি, গাজায় ত্রাণ প্রবেশে কোনো লিমিট দেওয়া হয়নি।
আইপিসির প্রতিবেদনের জেরে ইসরায়েল সরকারের মুখপাত্র সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) এক পোস্টে লেখেন, ‘আগের তুলনায় মার্চে বেশি ত্রাণবাহী ট্রাক গাজায় প্রবেশ করেছে। উত্তরাঞ্চলে ত্রাণ পৌঁছে দিতে প্রচেষ্টা চালানো হচ্ছে।’ আইপিসির মূল্যায়নকে খারাপ আখ্যা দিয়ে তিনি বলেন, ‘পুরনো পরিস্থিতি ভিত্তি করে প্রতিবেদনটি করা হয়েছে।’
এম