দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

ভারতের গুজরাট বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি ছাত্রাবাসে নামাজ পড়ার সময় বিদেশি শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার ঘটনা ঘটেছে। শনিবার (১৬ মার্চ) রাতের এই ঘটনায় আহত হয়েছে পাঁচ বিদেশি শিক্ষার্থী। আহতরা আফগানিস্তান, উজবেকিস্তান ও আফ্রিকার নাগরিক। খবর এনডিটিভির।
গুজরাটের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী হর্শ সাংহাবি এ ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তারে জন্য নির্দেশ দিয়েছেন। রাজ্য পুলিশের ঊর্ধ্বতনদের সঙ্গে কথা বলেছেন তিনি। এ বিষয়ে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলছে, রাজ্য সরকারের সঙ্গে এ নিয়ে আমরা কথা বলেছি। আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের ওপর হামলায় জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া জন্য বলা হয়েছে।
আহত শিক্ষার্থীরা জানান, আহমেদবাদভিত্তিক বিশ্ববিদ্যালয়টিতে কোনো মসজিদ নেই। এ জন্য তারা ছাত্রাবাসে জামাতের সহিত তারাবির নামাজ আদায়ের সিদ্ধান্ত নেয়। সে অনুযায়ী তারা ছাত্রাবাসে নামাজ আদায় করে আসছিল। শনিবার রাতে নামাজ পড়ার সময় বেশ কয়েকজন দুর্বৃত্ত লাঠি ও ছুরি নিয়ে তাদের ওপর হামলা চালায়। একইসঙ্গে শিক্ষার্থীদের রুমেও ভাঙচুর চালায়।
ছাত্রাবাসের নিরাপত্তা দেওয়ার সঙ্গে যুক্তরা দুর্বৃত্তদের রুখতে চেষ্টা করেও সফল হননি বলে জানান শিক্ষার্থীরা।
গুজরাট বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ুয়া আফগানিস্তানের এক শিক্ষার্থী বলেন, ‘হামলার সময় দুর্বৃত্তরা স্লোগান দিতে থাকে। ছাত্রাবাসে তাদের নামাজ পড়ার কে অনুমতি দিয়েছে সে প্রশ্নও করতে থাকে।’ তিনি আরও বলেন, ‘তারা আমাদের রুমের ভেতরেও আক্রমণ চালিয়েছে। তারা ল্যাপটপ, ফোন ও বাইক ভাঙচুর করে।’
এই শিক্ষার্থী জানান, আহত পাঁচজনের মধ্যে আফগানিস্তান, শ্রীলঙ্কা ও তুর্কেমিস্তানের একজন করে রয়েছে। আর বাকি দুজন আফ্রিকার দুদেশের নাগরিক। তিনি বলেন, ‘পুলিশ আসলে হামলাকারীরা পালিয়ে যায়। আহত শিক্ষার্থীদের উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে। বিষয়টি সম্পর্কে নিজ নিজ দেশের দূতাবাসে জানানো হয়েছে।’
এদিকে, হামলার কিছু ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। ওসব ভিডিওতে দেখা যায়, কিছু লোক ছাত্রাবাস লক্ষ্য করে পাথরের ঢিল ছুড়ছে। এবং আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের হয়রানি করছে। এ সময় ভীত হয়ে পড়ে রয়েছে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীরা।
একটি ভিডিওতে এক হামলাকারীকে নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যকে বলতে শোনা যায়, এই জায়গায় তাদের নামাজ পড়ার অনুমতি কে দিয়েছে। এ সময় এক শিক্ষার্থী চিৎকার দিলে তাকে মারতে ছুটে যায় ওই হামলাকারী যুবক।
What a shame. When your devotion & religious slogans only come out when Muslims peacefully practice their religion. When you become unexplainably angry at the mere sight of Muslims. What is this, if not mass radicalisation? This is the home state of @AmitShah & @narendramodi,… https://t.co/OshZUIoWjl
— Asaduddin Owaisi (@asadowaisi) March 16, 2024হায়দরাবাদের সংসদ সদস্য ও অল ইন্ডিয়া মজলিস-ই-ইত্তেহাদুল মুসলিমীনের প্রধান আসাদউদ্দিন ওয়াইসি এই ঘটনার নিন্দা করেছেন। এই ইস্যুতে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের হস্তক্ষেপ করবেন কি না তা জিজ্ঞাসা করেছেন।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) এক পোস্টে হামলার কিছু ভিডিও শেয়ার দিয়ে আসাউদ্দিন ওয়াইসি লেখেন, ‘লজ্জার বিষয়। যখন মুসলমানরা শান্তিপূর্ণভাবে তাদের ধর্ম পালন করে তখনই আপনার ভক্তি ও ধর্মীয় স্লোগান বের হয়। মুসলমানদের দেখে যখন আপনি ব্যাখ্যাতীতভাবে রেগে যান। এটা কি, এটি কি মৌলবাদ না?’
এ ঘটনায় তদন্তের কথা জানিয়েছে আহমেদাবাদের পুলিশ কমিশনার জিএস মালিক। তিনি বলেছেন, বিশ্ববিদ্যালয়টিতে তিন শতাধিক আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী রয়েছে। আফগানিস্তান, শ্রীলঙ্কা ও আফ্রিকার বিভিন্ন দেশ থেকে এসেছে তারা। গতকাল রাতে ছাত্রাবাসের প্রাঙ্গণে নামাজ পড়ছিল তারা। এ সময় কিছু লোক সেখানে এসে তাদের জিজ্ঞাসা করে কেন সেখানে নামাজ পড়ছে। তারা কেন মসজিদে নামাজ পড়ছে না তা জিজ্ঞাসা করে। এ সময় দুপক্ষের মধ্যে বাগবিতণ্ডা হয়, পরে যা সংঘর্ষে রূপ নেয়। বহিরাগতরা ছাত্রাবাস লক্ষ্য করে পাথরের ঢিল ছুড়ে ও ছাত্রাবাসের কক্ষগুলো ভাঙচুর করে।
পুলিশের এই ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বলেন, ‘ফোনের মাধ্যমে জানার পরই পুলিশ সেখানে যায়। ৯টি দল এই ঘটনার তদন্ত করছে। আমরা একজনকে চিহ্নিত করতে পেরেছি। ২০ থেকে ২৫ জনের বিরুদ্ধে থানায় একটি অভিযোগ দেওয়া হয়েছে। ভিডিও দেখে আমরা বিষয়টি তদন্ত করছি। বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিস্থিতি এখন শান্ত রয়েছে।’
এম