দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

ইরানের জন্য উন্নত ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ সরঞ্জাম তৈরি করছে রাশিয়া। রুশ প্রতিরক্ষা শিল্পের ফাঁস হওয়া নথিতে দেশটির সঙ্গে ইরানের অস্ত্র সরবরাহ চুক্তির এ তথ্য উঠে এসেছে। চুক্তি অনুযায়ী, ইরানের জন্য ৯০টি ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ ব্যবস্থা তৈরির পরিকল্পনা ছিল রাশিয়ার।
বৃহস্পতিবার প্রকাশিত এসব নথির তথ্য অনুযায়ী, রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় কারখানাগুলো ইরানের জন্য বিশেষ ধরনের ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ সরঞ্জাম তৈরি করছে। রপ্তানি চুক্তিতে এর সংকেত হিসেবে ‘কে-১০’ উল্লেখ করা হয়েছে। নথির একটি অংশে এই সংকেতকে ইরানের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বলে চিহ্নিত করা হয়েছে।
ফাঁস হওয়া নথিতে বলা হয়েছে, এসব সরঞ্জামের মধ্যে রয়েছে এলএমইউআর বা ‘প্রোডাক্ট ৩০৫’ নামের নির্ভুলভাবে লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে সক্ষম ক্ষেপণাস্ত্রের উৎক্ষেপণ ব্যবস্থা। হেলিকপ্টার থেকে নিক্ষেপের উপযোগী এই ক্ষেপণাস্ত্র রুশ বাহিনীও ব্যবহার করে।
২০২৪ সালের মে মাসের একটি উৎপাদন সূচিতে ইরানকে শেষ ক্রেতা হিসেবে উল্লেখ করে ৯০টি দ্বৈত রেলবিশিষ্ট উৎক্ষেপণ ব্যবস্থার জন্য প্রয়োজনীয় যন্ত্রাংশের বরাদ্দ দেখানো হয়েছে। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে এসব সরঞ্জাম সরবরাহের পরিকল্পনা ছিল।
তবে উৎক্ষেপণ ব্যবস্থাগুলো ইরানের কাছে শেষ পর্যন্ত সরবরাহ করা হয়েছে কি না, তা নথিতে নিশ্চিত করা হয়নি।
পুতিনের সঙ্গে বৈঠকের পর সামনে এলো তথ্য
রাশিয়ার সঙ্গে ইরানের সামরিক সহযোগিতা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে দেশটির সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনির নিরাপত্তাপ্রধান মোহসেন রেজাইয়ের মস্কো সফরের পর।
বৃহস্পতিবার ক্রেমলিনে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে বৈঠক করেন রেজাই। বৈঠকের পর তিনি জানান, গুরুত্বপূর্ণ আঞ্চলিক বিষয়, যুদ্ধ-পরবর্তী পরিস্থিতি এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনা নিয়ে আলোচনা হয়েছে। রাশিয়া ও ইরানের মধ্যে নতুন গ্যাস পাইপলাইন নির্মাণ নিয়েও কথা হয়েছে।
এর আগে ইরানের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা জানিয়েছিলেন, মোজতবা খামেনি পুতিনের কাছে ব্যক্তিগত চিঠি পাঠিয়েছেন। ওই চিঠির মূল দাবি ছিল ইরানকে এস-৪০০ আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সরবরাহ করা।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, রাশিয়া ইরানকে কোনোভাবেই সহায়তা করছে না। তবে ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ সরঞ্জাম তৈরির চুক্তির তথ্য দুই দেশের সামরিক সহযোগিতার ভিন্ন চিত্র তুলে ধরছে।
দ্য টেলিগ্রাফের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলায় ইরানের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এ পরিস্থিতিতে রাশিয়ার সঙ্গে সামরিক সম্পর্ক জোরদার করা তেহরানের দীর্ঘমেয়াদি প্রতিরক্ষা পরিকল্পনার গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
/অ