দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্যের সিনেটে নির্বাচিত হয়ে ইতিহাস গড়েছেন আবের কাওয়াস। তিনি অঙ্গরাজ্যের আইনসভায় প্রথম ফিলিস্তিনি-আমেরিকান হিসেবে জায়গা করে নিয়েছেন। নির্বাচনে জয়ী হওয়ার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তিনি লিখেছেন, ‘আমরা ইতিহাস গড়েছি।’
আবের কাওয়াস একজন কমিউনিটি সংগঠক এবং গণতান্ত্রিক সমাজতন্ত্রী সংগঠনের সদস্য। গত জুনে অনুষ্ঠিত ডেমোক্রেটিক দলের প্রাথমিক নির্বাচনে জয়ী হওয়ার পর সাধারণ নির্বাচনে অংশ নেন তিনি। দীর্ঘ ১৫ বছরের বেশি সময় ধরে শ্রমিক অধিকার, অভিবাসী সম্প্রদায় ও ফিলিস্তিনিদের অধিকার নিয়ে কাজ করেছেন কাওয়াস।
মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক সংবাদমাধ্যম মিডল ইস্ট আইয়ের প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।
আবের কাওয়াসের জন্ম ও বেড়ে ওঠা নিউইয়র্কের ব্রুকলিনে। তার বাবা-মা ফিলিস্তিনি অভিবাসী, যারা ১৯৯০-এর দশকে যুক্তরাষ্ট্রে আসেন।
কাওয়াস জানিয়েছেন, ২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বরের সন্ত্রাসী হামলার পর শৈশবে নিজের নিরাপত্তা নিয়ে তার অনুভূতি বদলে যায়। ওই সময় তার সম্প্রদায়ের মুসলিম পরিবারগুলো নজরদারি ও বহিষ্কারের আশঙ্কায় ভুগছিল।
তিনি যখন উচ্চমাধ্যমিক বিদ্যালয়ে পড়তেন, তখন তার বাবাকে জর্ডানে বহিষ্কার করা হয়। এরপর পরিবারের আর্থিক অবস্থারও পরিবর্তন ঘটে বলে জানিয়েছেন কাওয়াস।
রাজনীতিতে আসার পথ
২০২৩ সালে কাওয়াস এমন একদল অধিকারকর্মীর সঙ্গে যুক্ত হন, যারা ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে ইসরায়েলের দখলদারত্বে অর্থায়ন বন্ধের জন্য স্থানীয় সরকারকে কাজে লাগাতে চেয়েছিলেন। তাদের সমর্থনে নিউইয়র্কের অঙ্গরাজ্য সিনেটর জাবারি ব্রিসপোর্ট একটি বিল উত্থাপন করেন। বিলটির লক্ষ্য ছিল, নিউইয়র্কের দাতব্য সংস্থাগুলো যেন বসতি স্থাপন-সংশ্লিষ্ট গোষ্ঠীগুলোকে অর্থায়ন করতে না পারে, তা নিশ্চিত করা।
তৎকালীন আইনসভার সদস্য জোহরান মামদানি বিলটির খসড়া তৈরিতে সহায়তা করেন। তবে আইনপ্রণেতাদের বিরোধিতার কারণে বিলটি পাস হয়নি।
নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি
কাওয়াসের নির্বাচনী প্রচারের স্লোগান ছিল ‘মর্যাদায় অর্থায়ন, ধ্বংসের বিরুদ্ধে লড়াই’। অভ্যন্তরীণ নীতির ক্ষেত্রে তিনি সবার জন্য স্বাস্থ্যসেবা, দ্রুত ও নির্ভরযোগ্য গণপরিবহন এবং সাশ্রয়ী আবাসনের পক্ষে প্রচার চালান। এ ছাড়া জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় পদক্ষেপ নেওয়া এবং যুদ্ধের জন্য অর্থায়নের বিরোধিতা করেন তিনি।
কাওয়াস নিউইয়র্ক ফর অল আইন বাস্তবায়নের প্রতিশ্রুতিও দিয়েছেন। প্রস্তাবিত এই আইনের লক্ষ্য হলো, অঙ্গরাজ্য ও স্থানীয় সংস্থাগুলোকে কেন্দ্রীয় অভিবাসন আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সঙ্গে কাজ করা থেকে বিরত রাখা।
আন্দোলন ও গ্রেপ্তার
রাজনীতির পাশাপাশি সরাসরি আন্দোলনেও অংশ নিয়েছেন কাওয়াস। চলতি বছর জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে যোগ দিতে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর নিউইয়র্ক সফরের প্রতিবাদে আয়োজিত বিক্ষোভে অংশ নিয়ে গ্রেপ্তার হন তিনি। পরে তাকে মুক্তি দেওয়া হয়।
সম্প্রতি নিউইয়র্ক পুলিশ বিভাগের নজরদারি প্রতিষ্ঠান কগনাইটির সঙ্গে ৭ লাখ ৫০ হাজার ডলারের একটি চুক্তির সমালোচনা করেন কাওয়াস। নাগরিক অধিকার সংগঠনগুলোর আপত্তির পর গত সপ্তাহে পুলিশ বিভাগ চুক্তিটি থেকে সরে আসে।
যাদের সমর্থন পেয়েছেন
কাওয়াসের প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন জোহরান মামদানি, সিনেটর বার্নি স্যান্ডার্স এবং কংগ্রেস সদস্য রাশিদা তালিব।
নিউইয়র্কের রাজনীতিতে গণতান্ত্রিক সমাজতন্ত্রী সংগঠন-সমর্থিত প্রার্থীদের অগ্রগতি অব্যাহত রয়েছে। গত বছরের মেয়র নির্বাচনে মামদানির জয়ের পর কাওয়াসের এই বিজয়কে সেই ধারারই আরেকটি সাফল্য হিসেবে দেখা হচ্ছে।
/অ