দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

পৃথিবীর গভীরে প্রতি ২৬ সেকেন্ড পরপর তৈরি হচ্ছে এক ধরনের ছন্দময় কম্পন। মানুষের অনুভব করার মতো শক্তিশালী না হলেও মহাদেশজুড়ে স্থাপিত ভূকম্পন পরিমাপক যন্ত্রে ধরা পড়েছে এই রহস্যময় স্পন্দন। কয়েক দশক ধরে গবেষণা চললেও এর সুনির্দিষ্ট কারণ এখনো জানতে পারেননি বিজ্ঞানীরা।
ষাটের দশকের শুরুর দিকে ভূ-পদার্থবিদ জ্যাক অলিভার প্রথম এই অস্বাভাবিক কম্পন শনাক্ত করেন। ‘মাইক্রোসিজম’ নামে পরিচিত এই কম্পনের উৎস বিষুবীয় আটলান্টিক মহাসাগরের কোনো একটি এলাকায় বলে ধারণা করেন তিনি। বছরের নির্দিষ্ট কিছু সময়ে এর তীব্রতা বেড়ে যেত বলেও পর্যবেক্ষণে উঠে আসে। তবে সে সময় আধুনিক প্রযুক্তি না থাকায় অলিভারের গবেষণা অনেকটাই তাত্ত্বিক পর্যায়ে থেকে যায় বলে জানিয়েছে ‘ডিসকভার ম্যাগাজিন’।
২০০৫ সালে যুক্তরাষ্ট্রের কলোরাডো বোল্ডার বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকেরা ডিজিটাল ভূকম্পন তথ্য বিশ্লেষণ করতে গিয়ে একই ধরনের সংকেত শনাক্ত করেন। এর মধ্য দিয়ে কয়েক দশক ধরে আড়ালে থাকা রহস্যটি আবার বিজ্ঞানীদের নজরে আসে। ভূকম্পনবিদ মাইক রিটজওলার জানান, তার দল এমন একটি সংকেত দেখতে পেয়েছিল, যা ছিল অস্বাভাবিক, নিয়মিত এবং অব্যাহত। পরে তারা এর উৎস খুঁজে পান পশ্চিম আফ্রিকার উপকূলের কাছে গিনি উপসাগরে।
তবে প্রতি ২৬ সেকেন্ডে তৈরি হওয়া এই কম্পনের কারণ কী, তা নিয়ে বিজ্ঞানীদের মধ্যে এখনো মতৈক্য নেই। এ বিষয়ে একটি ধারণা হলো, সমুদ্রের শক্তিশালী ঢেউ মহীসোপানে আঘাত করার ফলে এই কম্পন তৈরি হয়। কোনো ডেস্কের এক প্রান্তে আঘাত করলে অন্য প্রান্তে যেমন কম্পন ছড়িয়ে পড়ে, বিষয়টি অনেকটা সে রকম।
আরেকটি তত্ত্ব সামনে আনেন চীনা বিজ্ঞানীরা। ২০১৩ সালে তারা ধারণা দেন, বনি উপসাগরের সাও তোমে দ্বীপের কাছাকাছি আগ্নেয়গিরির কার্যকলাপ থেকে এই স্পন্দন তৈরি হতে পারে। ওই স্থানটি কম্পনের সম্ভাব্য উৎসের কাছাকাছি হওয়ায় বিষয়টি বিজ্ঞানীদের আগ্রহের কারণ হয়ে ওঠে।
বিভিন্ন দৃষ্টিকোণ থেকে একাধিক গবেষক দল দীর্ঘদিন ধরে বিষয়টি পরীক্ষা করলেও এখনো কোনো চূড়ান্ত ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি। মাইক রিটজওলারের ভাষায়, এই ঘটনার মৌলিক কারণ জানতে বিজ্ঞানীরা এখনো অপেক্ষা করছেন। বড় ও গুরুত্বপূর্ণ ভূকম্পন গবেষণার তুলনায় কম প্রভাবের বিষয় হওয়ায় কিছু বিজ্ঞানী রহস্যটি নিয়ে গবেষণাকে অগ্রাধিকার দেওয়া বন্ধও করেছেন।
তবে একটি বিষয় নিশ্চিত, প্রতি ২৬ সেকেন্ড পরপর পৃথিবীর গভীরে এই ছন্দময় কম্পন তৈরি হচ্ছে। সমুদ্রের ঢেউ কিংবা আগ্নেয় শিলার নিচে লুকিয়ে থাকা এর উৎস, কারণ ও অব্যাহত থাকার রহস্য এখনো অজানা। কয়েক দশক পেরিয়ে গেলেও পৃথিবীর এই স্পন্দন থামেনি।
/অ