দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

রাশিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মধ্যে হওয়া আকস্মিক চুক্তির আওতায় প্রথমবারের মতো রুশ ডিজেল নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের পথে রয়েছে একটি ট্যাংকার। জাহাজটি নিউইয়র্ক বন্দরে যাচ্ছে বলে শুক্রবার প্রকাশিত জাহাজ চলাচলবিষয়ক তথ্য থেকে জানা গেছে।
আগামী ৩ নভেম্বর যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে ডিজেলের আকাশচুম্বী দাম কমানোর প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে চলতি মাসে এ চুক্তির ঘোষণা দেন ট্রাম্প। এ ছাড়া রাশিয়ার বিরুদ্ধে নতুন মার্কিন নিষেধাজ্ঞা আইনের কিছু বিধান প্রয়োগ থেকে ছাড় দিয়েছেন তিনি। একই সঙ্গে জ্বালানির দাম কমাতে জরুরি মজুত থেকে আরও ডিজেল ছাড়তে ইউরোপীয় দেশগুলোকে চাপ দিয়েছেন ট্রাম্প। তা না হলে ইউরোপে যুক্তরাষ্ট্রের ডিজেল রপ্তানি বন্ধের হুমকিও দিয়েছেন তিনি।
এলএসইজির জাহাজ চলাচলবিষয়ক তথ্য অনুযায়ী, মাল্টার পতাকাবাহী মাঝারি আকারের ট্যাংকার ‘আগিওই ফানেন্দেস’ গত ২২ অক্টোবর রাশিয়ার বাল্টিক সাগর উপকূলের প্রিমোরস্ক বন্দরে ৪০ হাজার মেট্রিক টন অতি কম সালফারযুক্ত ডিজেল বোঝাই করে। আগামী ৭ নভেম্বর জাহাজটির যুক্তরাষ্ট্রে পৌঁছানোর কথা রয়েছে।
তবে এ চালানের ক্রেতা ও বিক্রেতার পরিচয় তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি। ২০২২ সালে যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন রাশিয়ার তেল ও পেট্রোলিয়ামজাত পণ্য আমদানিতে নিষেধাজ্ঞা দেওয়ার পর এটিই হবে দেশটিতে রুশ ডিজেলের প্রথম চালান।
গত ৯ অক্টোবর ট্রাম্প ঘোষণা দেন, চুক্তির আওতায় রাশিয়া অবিলম্বে যুক্তরাষ্ট্র ও বৈশ্বিক বাজারে ৩ লাখ মেট্রিক টন বা ২২ লাখ ৫০ হাজার ব্যারেল ডিজেল রপ্তানি করবে। এরপর নভেম্বরে আরও ৫ লাখ টন এবং ‘এর অব্যবহিত পরেই’ আরও ১০ লাখ টন রপ্তানি করা হবে।
শুক্রবার ক্রেমলিনের এক মুখপাত্র চুক্তির আওতায় প্রথম জাহাজটি ছেড়ে যাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তবে জাহাজটি যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে যাচ্ছে, নাকি অন্য কোনো দেশে—তা স্পষ্ট করেননি তিনি।
দৈনিক এক সংবাদ সম্মেলনে ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ বলেন, “আমার জানা মতে, জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে এরই মধ্যে জানানো হয়েছে, প্রথম ট্যাংকারটি ক্রেতাদের কাছে পৌঁছানোর উদ্দেশ্যে যাত্রা শুরু করেছে। এখন থেকে নিয়মিত গতিতে আরও চালান পাঠানো হবে।”
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে এ চুক্তির অংশ হিসেবে ডিজেল রপ্তানিতে রাশিয়ার আরোপ করা নিজস্ব নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া হয়েছে।
ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে ২০২৩ সালের ফেব্রুয়ারিতে ইউরোপীয় ইউনিয়ন রাশিয়ার পেট্রোলিয়ামজাত পণ্য আমদানিতে পূর্ণ নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে। এরপর থেকে রাশিয়া মূলত তুরস্ক, ব্রাজিল ও আফ্রিকার বিভিন্ন দেশে ডিজেল রপ্তানি করে আসছে। রেলপথে মধ্য এশিয়ার দেশগুলোতেও ডিজেল সরবরাহ করে মস্কো।
এ সপ্তাহে প্রকাশিত এলএসইজি ও কেপলারের জাহাজ চলাচলবিষয়ক তথ্য অনুযায়ী, নিজস্ব নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার পর রাশিয়ার ডিজেলবাহী জাহাজগুলো আবারও পুরোনো গন্তব্যগুলোর দিকে যাত্রা শুরু করেছে। অন্তত দুটি ট্যাংকারের গন্তব্য হিসেবে তুরস্ক ও ব্রাজিলের নাম দেখা গেছে।
অন্য জাহাজগুলো কোথায় যাচ্ছে, তা স্পষ্ট নয়। এলএসইজির তথ্য অনুযায়ী, প্রিমোরস্ক বন্দরে ডিজেল বোঝাই করা কয়েকটি জাহাজের গন্তব্য হিসেবে জিব্রাল্টার, আটলান্টিক উপকূল অথবা মিসরের পোর্ট সাঈদের নাম উল্লেখ করা হয়েছে।
রাশিয়ার উপপ্রধানমন্ত্রী আলেকজান্ডার নোভাক জানিয়েছেন, দুই দেশের কোম্পানিগুলো প্রয়োজনীয় চুক্তি চূড়ান্ত করার সঙ্গে সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রে আরও ডিজেল পাঠানো হবে।
রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের বিশেষ দূত কিরিল দিমিত্রিয়েভ, যিনি দেশটির সার্বভৌম সম্পদ তহবিলেরও প্রধান, গত সপ্তাহে দাবি করেন, চুক্তির আওতায় অর্থ পরিশোধের জটিলতা নিরসনে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থ মন্ত্রণালয় ওই তহবিলের সহায়তা চেয়েছে।
তবে বিষয়টি সম্পর্কে অবগত একটি সূত্র জানিয়েছে, দিমিত্রিয়েভের এ বক্তব্য সঠিক নয়।
নোভাক বলেছেন, চলতি বছরের শেষ নাগাদ রাশিয়া প্রতি মাসে আগের স্বাভাবিক মাত্রা অনুযায়ী ৩০ লাখ থেকে ৩৫ লাখ টন ডিজেল রপ্তানি করতে সক্ষম হবে।
সূত্র: রয়টার্স
এমএস/