দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে উত্তেজনার মধ্যে হরমুজ প্রণালি দিয়ে যাওয়া সমুদ্রের তলদেশের যোগাযোগ ক্যাবলে হামলার হুমকি দিয়েছে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি)। তবে কাতার সতর্ক করে বলেছে, এসব ক্যাবলে বিঘ্ন ঘটলে যুক্তরাষ্ট্র বা ইসরায়েলের চেয়ে ইরানসহ উপসাগরীয় অঞ্চলের দেশগুলোই বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবে। একই সঙ্গে হামলা ও হুমকি বন্ধ করে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সংকটের শান্তিপূর্ণ সমাধানের আহ্বান জানিয়েছে দোহা।
মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) সৌদি গেজেটের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, সোমবার (১৯ অক্টোবর) আইআরজিসি এ হুমকি দেয়।
আইআরজিসির মুখপাত্র হোসেইন মোহেব্বি বলেন, হরমুজ প্রণালির তলদেশ দিয়ে সাতটি প্রধান ডেটা যোগাযোগ ক্যাবল গেছে। তার দাবি, ইন্টারনেট ও বাণিজ্যিক ডেটার সব প্রবাহ এসব ক্যাবলের মধ্য দিয়ে যায়।
তিনি আরও বলেন, আমরা শুধু তাদের জানাতে চাই, নতুন লক্ষ্যবস্তু প্রকাশ করা হবে। নতুন অস্ত্রেরও আত্মপ্রকাশ ঘটবে।
ইরানের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম আইআরআইবির তথ্য অনুযায়ী, তেহরানের স্যাক্রেড ডিফেন্স জাদুঘরে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন মোহেব্বি। এ সময় তিনি যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষমতার অবশিষ্টাংশ বলে উল্লেখ করা শক্তিকে অঞ্চল থেকে বিতাড়িত করার অঙ্গীকার করেন।
এর আগে গত মার্চের শুরুতে ড্রোন হামলায় সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই) ও বাহরাইনে অ্যামাজন ওয়েব সার্ভিসেসের অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এতে অবকাঠামোর সরাসরি ক্ষতি, বিদ্যুৎ সরবরাহে বিঘ্ন এবং ক্লাউড সেবা বন্ধ হয়ে যাওয়ার ঘটনা ঘটে। এসব হামলার পর নতুন করে ক্যাবলে হামলার হুমকি দিল আইআরজিসি।
টেলিযোগাযোগ খাতের তথ্য বিশ্লেষণকারী প্রতিষ্ঠান টেলিজিওগ্রাফির তথ্য অনুযায়ী, ইউরোপ ও এশিয়ার মধ্যে ডেটা পরিবহনের ৯০ শতাংশের বেশি সক্ষমতা লোহিত সাগরের তলদেশ দিয়ে যাওয়া সাবমেরিন ফাইবার-অপটিক ক্যাবলের মাধ্যমে পরিচালিত হয়।
এদিকে কাতার বলেছে, হরমুজ প্রণালির তলদেশে থাকা ইন্টারনেট ক্যাবলের সংযোগ বিচ্ছিন্ন হলে ইরানসহ পুরো উপসাগরীয় অঞ্চলের দেশগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হবে। একই সঙ্গে জলপথটিকে লক্ষ্য করে হামলা ও হুমকি অবিলম্বে বন্ধের আহ্বান জানিয়েছে দেশটি।
মঙ্গলবার কাতারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সাপ্তাহিক সংবাদ সম্মেলনে মন্ত্রণালয়ের গণমাধ্যম ও যোগাযোগ বিভাগের পরিচালক ইব্রাহিম আল-হাশমি বলেন, সমুদ্রের তলদেশে থাকা ক্যাবলের সংযোগে বিঘ্ন ঘটলে ইরানসহ এ অঞ্চলের দেশগুলোই সবচেয়ে বেশি ক্ষতির মুখে পড়বে।
তিনি বলেন, ‘ইরানের পক্ষের কেউ যদি সৎভাবে পরিস্থিতি নিয়ে চিন্তা করেন, তাহলে তিনি প্রশ্ন করবেন সবচেয়ে বড় ক্ষতিগ্রস্ত কে?’
আল-হাশমি আরও বলেন, এ ধরনের ঘটনায় যুক্তরাষ্ট্র বা ইসরায়েল সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবে না; বরং ইরানসহ উপসাগরীয় অঞ্চলের দেশগুলোই বড় ধরনের ক্ষতির শিকার হবে।
এর আগে ইরানের নিরাপত্তাপ্রধান মোহসেন রেজায়ি সতর্ক করে বলেছিলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আবার যুদ্ধ শুরু হলে এ অঞ্চলের ক্যাবল, ডেটা সেন্টার ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) স্থাপনায় হামলা চালানো হতে পারে।
গত মাসে লোহিত সাগরের উপকূলবর্তী ইয়েমেনের ভূখণ্ড দখল করে নেয় ইরান-সমর্থিত হুতিরা। এ ঘটনায় ইউরোপ ও এশিয়াকে সংযুক্ত করা ইন্টারনেট ক্যাবলগুলোর নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
সূত্র- সৌদি গেজেট
যে আই