দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

বিশ্বজুড়ে গুরুত্বপূর্ণ খনিজসম্পদের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে প্রতিযোগিতা ক্রমেই তীব্র হচ্ছে। জ্বালানি রূপান্তর, বৈদ্যুতিক গাড়ি, সেমিকন্ডাক্টর ও আধুনিক প্রযুক্তি শিল্পের বিকাশে এসব খনিজের চাহিদা বাড়তে থাকায় আফ্রিকাকে কেন্দ্র করে নতুন কৌশলগত অংশীদারত্ব গড়ে তুলতে চাইছে ভারত ও জাপান। ভারত মহাসাগরকে সংযোগপথ হিসেবে ব্যবহার করে আফ্রিকার খনিজসম্পদকে এশিয়ার শিল্প ও প্রযুক্তিগত চাহিদার সঙ্গে যুক্ত করাই এই উদ্যোগের অন্যতম লক্ষ্য।
আফ্রিকায় বিশ্বের প্রায় ৫৫ শতাংশ কোবাল্ট, ৪৭ দশমিক ৬৫ শতাংশ ম্যাঙ্গানিজ, ২১ দশমিক ৬ শতাংশ গ্রাফাইট, ৫ দশমিক ৯ শতাংশ তামা এবং শূন্য দশমিক ৬ শতাংশ লৌহ আকরিকের মজুত রয়েছে। জ্বালানি রূপান্তর ও আধুনিক শিল্পের জন্য এসব খনিজ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ফলে আফ্রিকার সম্পদ এখন শুধু বাণিজ্যিক সম্ভাবনার বিষয় নয়, বরং বৈশ্বিক অর্থনৈতিক নিরাপত্তা ও কৌশলগত প্রতিযোগিতারও গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে উঠেছে।
ভারত-জাপান সম্পর্কের সাম্প্রতিক অগ্রগতিতেও আফ্রিকার গুরুত্ব বেড়েছে। অর্থনৈতিক নিরাপত্তা, সরবরাহব্যবস্থার বৈচিত্র্য, ডিজিটাল অবকাঠামো, স্বাস্থ্যসেবা ও সবুজ জ্বালানি খাতে সহযোগিতা সম্প্রসারণের পাশাপাশি আফ্রিকায় যৌথ বিনিয়োগের সম্ভাবনা খতিয়ে দেখছে দুই দেশ। এশিয়া-আফ্রিকা গ্রোথ করিডর (এএজিসি) এবং মুক্ত ও উন্মুক্ত ইন্দো-প্যাসিফিক (এফওআইপি) ধারণাকে সামনে রেখে এই সহযোগিতাকে আরও প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়ার চেষ্টা চলছে।
চীনের প্রভাব মোকাবিলায় বিকল্প সরবরাহব্যবস্থা
গুরুত্বপূর্ণ খনিজের বৈশ্বিক সরবরাহব্যবস্থায় চীনের প্রভাব ভারত ও জাপানের উদ্বেগের অন্যতম কারণ। বিরল মৃত্তিকা বা রেয়ার আর্থ খনিজ পরিশোধন ও প্রক্রিয়াজাতকরণের বৈশ্বিক সক্ষমতার প্রায় ৯০ শতাংশ চীনের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। একই সঙ্গে আফ্রিকায় উন্নয়ন সহায়তা ও অবকাঠামো বিনিয়োগেও চীনের শক্তিশালী উপস্থিতি রয়েছে।
এ পরিস্থিতিতে গুরুত্বপূর্ণ খনিজের সরবরাহ নিশ্চিত করতে বিকল্প অংশীদার খুঁজছে ভারত ও জাপান। অন্যদিকে, ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন বিদেশি উন্নয়ন সহায়তা পুনর্মূল্যায়ন ও পুনর্বিন্যাসের উদ্যোগ নেওয়ায় আফ্রিকার বিভিন্ন দেশে উন্নয়ন প্রকল্পের অর্থায়ন নিয়েও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়। ফলে আফ্রিকার দেশগুলোর জন্য উন্নয়ন সহযোগী ও বিনিয়োগের উৎস বৈচিত্র্যময় করার প্রয়োজনীয়তা বেড়েছে।
আফ্রিকা নিয়ে ভারত ও জাপানের প্রাতিষ্ঠানিক আলোচনা অবশ্য নতুন নয়। ২০১০ সালের অক্টোবরে টোকিওতে দুই দেশের প্রথম আফ্রিকাবিষয়ক সংলাপ অনুষ্ঠিত হয়। চীনের ক্রমবর্ধমান উপস্থিতির প্রেক্ষাপটে আফ্রিকায় দুই দেশের কার্যক্রম সমন্বয় এবং উন্নয়ন সহযোগিতার সম্ভাবনা বাড়ানো ছিল ওই সংলাপের অন্যতম উদ্দেশ্য। সেখানে জাপানের অর্থায়ন সক্ষমতা এবং ভারতের দক্ষতা উন্নয়ন ও সক্ষমতা বৃদ্ধির অভিজ্ঞতাকে পরস্পরের পরিপূরক হিসেবে দেখা হয়।
অ্যাঙ্গোলার বিরল মৃত্তিকা প্রকল্পে যৌথ উদ্যোগ
ভারত-জাপান-আফ্রিকা সহযোগিতার একটি উল্লেখযোগ্য উদাহরণ অ্যাঙ্গোলার লংগোনজো বিরল মৃত্তিকা খনি প্রকল্প। ২০২৫ সালের জুনে ব্রিটিশ তালিকাভুক্ত পেনসানা পিএলসি এবং জাপানের টয়োটা গ্রুপের বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান টয়োটা সুশোর মধ্যে বিরল মৃত্তিকা সরবরাহ নিয়ে সমঝোতা স্মারক সই হয়।
চুক্তি অনুযায়ী, অ্যাঙ্গোলার খনি থেকে বছরে সর্বোচ্চ ২০ হাজার টন মিশ্র বিরল মৃত্তিকা কার্বনেট সংগ্রহের পরিকল্পনা রয়েছে। এরপর ভারতের বিশাখাপত্তনমে অবস্থিত টয়োৎসু রেয়ার আর্থস ইন্ডিয়ায় (টিআরইআই) প্রক্রিয়াজাত করে জাপানের চুম্বক প্রস্তুতকারকদের কাছে সরবরাহ করার কথা। এর মাধ্যমে আফ্রিকার খনিজ আহরণ, ভারতের প্রক্রিয়াজাতকরণ সক্ষমতা এবং জাপানের শিল্প চাহিদাকে একই সরবরাহব্যবস্থায় যুক্ত করার সুযোগ তৈরি হয়েছে।
জ্বালানি খাতেও ভারত ও জাপানের সহযোগিতার নজির রয়েছে। মোজাম্বিকের প্রায় ২০ বিলিয়ন ডলারের এলএনজি প্রকল্পে ফ্রান্সের টোটালএনার্জিসের নেতৃত্বে কাজ চলছে। প্রকল্পটিতে ভারতের রাষ্ট্রায়ত্ত ওএনজিসি বিদেশ, ভারত পেট্রোলিয়াম ও অয়েল ইন্ডিয়া সম্মিলিতভাবে ৩০ শতাংশ এবং জাপানের মিৎসুই ২০ শতাংশ অংশীদারত্ব ধারণ করছে। প্রকল্পটির দুটি স্থলভিত্তিক উৎপাদন ইউনিট থেকে বছরে প্রায় ১ কোটি ৩০ লাখ টন তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস উৎপাদনের পরিকল্পনা রয়েছে।
এই অভিজ্ঞতা পূর্ব ও দক্ষিণ আফ্রিকার অন্যান্য খনিজ প্রকল্পেও কাজে লাগানো যেতে পারে। কেনিয়ার মোম্বাসা বন্দরের সম্প্রসারণে জাপানের অর্থায়নের পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট সরবরাহ ও বাণিজ্য সহজীকরণ কার্যক্রমে ভারতের কোম্পানিগুলোর অংশগ্রহণও সহযোগিতার সম্ভাবনা তুলে ধরছে। কেনিয়া, তানজানিয়া ও মোজাম্বিকের মতো দেশে সড়ক ও রেল যোগাযোগ উন্নয়নেও দুই দেশের যৌথ উদ্যোগের সুযোগ রয়েছে।
এই সহযোগিতার মূল ধারণা হলো, ভারত তার শিল্পভিত্তি, বাস্তবায়ন সক্ষমতা, প্রক্রিয়াজাতকরণ প্রযুক্তি ও সরবরাহব্যবস্থার অভিজ্ঞতা কাজে লাগাবে; জাপান দেবে দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগ, প্রযুক্তি, অর্থায়ন ও শিল্পমানের সহায়তা। আর আফ্রিকার দেশগুলো থাকবে সম্পদ, উৎপাদন এবং স্থানীয় অর্থনৈতিক উন্নয়নের কেন্দ্রবিন্দুতে।
আফ্রিকায় বিনিয়োগ বাড়ানোর উদ্যোগ
২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে টোকিওতে জাপান-ভারত-আফ্রিকা বিজনেস ফোরাম অনুষ্ঠিত হয়। জাপানের অর্থনীতি, বাণিজ্য ও শিল্প মন্ত্রণালয় (মেটি) এবং নিক্কেই আয়োজিত এই ফোরামে ৪৬টি দেশ ও অঞ্চলের দুই হাজারের বেশি প্রতিনিধি অংশ নেন। সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ে তিন পক্ষের সহযোগিতা সম্প্রসারণ ছিল আলোচনার প্রধান বিষয়।
ফোরামে জাপান ‘জাপান-ইন্ডিয়া কো-অপারেশন ইনিশিয়েটিভ ফর সাসটেইনেবল ইকোনমিক ডেভেলপমেন্ট ইন আফ্রিকা’ নামে একটি উদ্যোগ ঘোষণা করে। এর লক্ষ্য, আফ্রিকার সঙ্গে বাণিজ্য বাড়াতে জাপানি কোম্পানিগুলোর ভারতের শিল্পভিত্তি ও উৎপাদন সক্ষমতাকে কাজে লাগানো। একই সঙ্গে আফ্রিকায় বেসরকারি বিনিয়োগ, কর্মসংস্থান, প্রযুক্তি হস্তান্তর এবং মানবসম্পদ উন্নয়নকে উৎসাহিত করা।
এই উদ্যোগের মাধ্যমে ভারত ও আফ্রিকার ক্রমবর্ধমান বাজারকে জাপানের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত করে সরবরাহব্যবস্থা শক্তিশালী করার পরিকল্পনা রয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ খনিজের ক্ষেত্রে স্থানীয় পর্যায়ে মূল্য সংযোজনকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
২০২৬ সালের জুলাইয়ে নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠিত ১৬তম ভারত-জাপান বার্ষিক শীর্ষ সম্মেলনের সময় ভারতীয় শিল্প কনফেডারেশন (সিআইআই) এবং জাপান এক্সটার্নাল ট্রেড অর্গানাইজেশন (জেট্রো) যৌথ অর্থনৈতিক ফোরামের আয়োজন করে। এতে ১৫০টির বেশি জাপানি ও ৮০টির বেশি ভারতীয় কোম্পানি অংশ নেয়। দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের কাঠামোর মধ্যে আফ্রিকাকে স্পষ্টভাবে অন্তর্ভুক্ত করার বিষয়টি এই ফোরামে বিশেষ গুরুত্ব পায়।
এর আগে ২০২৫ সালের আগস্টে টোকিওতে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও জাপানের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শিগেরু ইশিবার শীর্ষ বৈঠক এবং ২০২৬ সালের জানুয়ারিতে নয়াদিল্লিতে ১৮তম ভারত-জাপান কৌশলগত সংলাপও এই সহযোগিতার ভিত্তি শক্তিশালী করার উদ্যোগের অংশ ছিল।
তামা ও কোবাল্টে ভারতের আগ্রহ
ভারত নিজস্ব শিল্পের ক্রমবর্ধমান চাহিদা পূরণে আফ্রিকার বিভিন্ন দেশের সঙ্গে সরকারি পর্যায়ে গুরুত্বপূর্ণ খনিজের ব্লক অধিগ্রহণ ও বিনিয়োগ নিয়ে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে। ২০২৬ সালের আগস্টে জাম্বিয়ার সঙ্গে তামা ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ খনিজ খাতে বিনিয়োগের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা পুনরায় শুরু করে নয়াদিল্লি।
বিশেষ করে গণতান্ত্রিক কঙ্গো প্রজাতন্ত্র (ডিআর কঙ্গো) ও জাম্বিয়া ভারতের জন্য গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার হয়ে উঠতে পারে। দেশ দুটি তামা ও কোবাল্টের উল্লেখযোগ্য উৎস। বৈদ্যুতিক গাড়ি, নবায়নযোগ্য জ্বালানি এবং ব্যাটারি শিল্পের বিকাশের সঙ্গে এসব খনিজের চাহিদাও বাড়ছে।
ভারতের ‘মাইনস-টু-ম্যাগনেটস’ শিল্প উদ্যোগের লক্ষ্য খনিজ আহরণ থেকে শুরু করে প্রক্রিয়াজাতকরণ ও চুম্বক উৎপাদন পর্যন্ত একটি সমন্বিত শিল্পব্যবস্থা গড়ে তোলা। ২০৩০ সালের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ খনিজের চাহিদা প্রায় চার গুণ বাড়তে পারে বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে। পাশাপাশি লিথিয়াম ও উচ্চ বিশুদ্ধতার বিরল মৃত্তিকার ক্ষেত্রে ভারতের আমদানিনির্ভরতা প্রায় সম্পূর্ণ হওয়ায় বিদেশি উৎস থেকে সরবরাহ নিশ্চিত করা দেশটির অর্থনৈতিক ও জাতীয় নিরাপত্তার গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে উঠেছে।
ভারতের দাবি, আফ্রিকায় তাদের অংশীদারত্ব শুধু খনিজ আহরণে সীমাবদ্ধ থাকবে না। দীর্ঘমেয়াদি সক্ষমতা বৃদ্ধি, দক্ষতা উন্নয়ন এবং প্রযুক্তি হস্তান্তরের মাধ্যমে স্থানীয় অর্থনীতি ও শিল্পভিত্তি শক্তিশালী করাও এর লক্ষ্য। অন্যদিকে, চীন থেকে বিরল মৃত্তিকার সরবরাহে বিঘ্নের অভিজ্ঞতার পর ২০১০ সাল থেকেই জাপান একক উৎসের ওপর নির্ভরতা কমানোর উদ্যোগ নিয়েছে।
এই বাস্তবতায় ভারত আফ্রিকার সঙ্গে বাণিজ্য ও শিল্প কার্যক্রমের উৎপাদন এবং সরবরাহকেন্দ্র হিসেবে কাজ করতে পারে। জাপান দিতে পারে পুঁজি, প্রযুক্তি ও শিল্পমানসংক্রান্ত সহায়তা। তবে এই ব্যবস্থার সাফল্য নির্ভর করবে আফ্রিকার দেশগুলো তাদের সম্পদ থেকে কতটা স্থানীয় অর্থনৈতিক সুবিধা অর্জন করতে পারছে, তার ওপরও।
চুক্তি থেকে বাস্তব প্রকল্পে যাওয়ার চ্যালেঞ্জ
ভারত-জাপান-আফ্রিকা অংশীদারত্বের সামনে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো ঘোষিত পরিকল্পনাকে বাস্তব বিনিয়োগ ও উৎপাদন প্রকল্পে রূপ দেওয়া। ভারত চায় গুরুত্বপূর্ণ খনিজের প্রক্রিয়াজাতকরণের বড় অংশ নিজ দেশে রাখতে। অন্যদিকে, আফ্রিকান ইউনিয়নের গ্রিন মিনারেলস স্ট্র্যাটেজি এবং বিভিন্ন দেশের জাতীয় পরিকল্পনায় নিজস্ব ভূখণ্ডে প্রক্রিয়াজাতকরণ ও মূল্য সংযোজনের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। জাপানের প্রয়োজন আবার নির্ভরযোগ্য ও বৈচিত্র্যময় উৎস থেকে খনিজ সংগ্রহ।
অর্থাৎ, তিন পক্ষের স্বার্থে মিল থাকলেও প্রক্রিয়াজাতকরণ কোথায় হবে, বিনিয়োগের সুফল কীভাবে বণ্টিত হবে এবং স্থানীয় কর্মসংস্থান কতটা বাড়বে—এসব প্রশ্নে সমন্বয় প্রয়োজন। এ জন্য একটি যৌথ কার্যকরী গোষ্ঠী বা জয়েন্ট ওয়ার্কিং গ্রুপ গঠনের প্রস্তাব সামনে এসেছে। তবে এমন কোনো আনুষ্ঠানিক গোষ্ঠী এখনো প্রতিষ্ঠিত না হওয়ায় প্রস্তাবটির কার্যকারিতা এখনো পরীক্ষিত নয়।
২০২৫ সালের ভারত-জাপান কৌশলগত বিনিয়োগ চুক্তির আওতায় এক দশকে ১০ ট্রিলিয়ন ইয়েন বা প্রায় ৬৮ বিলিয়ন ডলারের বিনিয়োগ প্রতিশ্রুতিকে বাস্তব প্রকল্পে রূপ দেওয়াও গুরুত্বপূর্ণ। গুরুত্বপূর্ণ খনিজ, গ্রিন অ্যামোনিয়া ও ওষুধশিল্পে সহযোগিতার অগ্রাধিকারগুলো কতটা অর্থায়নযোগ্য ও বাস্তবায়নযোগ্য প্রকল্পে পরিণত হয়, তার ওপর অংশীদারত্বের ভবিষ্যৎ অনেকাংশে নির্ভর করবে।
এ ক্ষেত্রে মুক্ত ও উন্মুক্ত ইন্দো-প্যাসিফিক (এফওআইপি) ধারণাকে ভারত-জাপান যৌথ অর্থনৈতিক কূটনীতির বৃহত্তর কাঠামো হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে। উত্তর-পূর্ব ভারত থেকে ভারত মহাসাগর হয়ে আফ্রিকা পর্যন্ত সংযোগ, বিনিয়োগ ও সরবরাহব্যবস্থাকে একই কৌশলগত দৃষ্টিভঙ্গির আওতায় আনার চেষ্টা চলছে।
বিশ্লেষকদের মতে, জাপানের দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগ সক্ষমতা, ভারতের শিল্প ও ডিজিটাল প্রযুক্তির দক্ষতা এবং আফ্রিকার জনসংখ্যা ও বাজারের সম্ভাবনা পরস্পরের পরিপূরক হতে পারে। তবে এই শক্তিগুলোকে টেকসই বিনিয়োগ, স্থানীয় মূল্য সংযোজন এবং নির্ভরযোগ্য সরবরাহব্যবস্থায় রূপান্তর করতে হলে কূটনৈতিক সমঝোতার পাশাপাশি বাস্তবায়ন, স্বচ্ছতা ও পারস্পরিক স্বার্থের ভারসাম্য নিশ্চিত করতে হবে।
আফ্রিকার গুরুত্বপূর্ণ খনিজসম্পদ তাই ভারত-জাপান সম্পর্ককে নতুন অর্থনৈতিক মাত্রা দেওয়ার সুযোগ তৈরি করছে। এই উদ্যোগ সফল হলে তা শুধু চীনের ওপর নির্ভরতা কমানোর বিকল্প পথই তৈরি করবে না, বরং আফ্রিকার দেশগুলোর শিল্পায়ন, কর্মসংস্থান ও প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বৃদ্ধিতেও ভূমিকা রাখতে পারে।
সূত্র: দ্য ডিপ্লোম্যাট