দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীরা সৌদি আরবের বিমানবন্দর ও তেল স্থাপনায় আরও হামলা চালানোর ঘোষণা দিয়েছে। মঙ্গলবার রাতে সৌদি আরামকোর সদর দপ্তরে হামলার পর বুধবার এ হুমকি দেয় তারা। হামলায় তেল কোম্পানিটির সদর দপ্তরের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট সূত্র। তবে সৌদি জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের দাবি, এতে সীমিত আকারে আগুন লাগে।
হুতিরা জানিয়েছে, সৌদি আরবের বিমানবন্দর ও তেল স্থাপনাগুলো তাদের বৈধ লক্ষ্যবস্তু। ইয়েমেনে সৌদি হামলার জবাব হিসেবেই এসব আক্রমণ চালানো হচ্ছে বলে দাবি করেছে তারা। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক নৌপরিবহন কোম্পানি, বেসামরিক নাগরিক ও কর্মীদের সৌদি আরবের বিমানবন্দর এবং তেল স্থাপনা থেকে সরে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছে গোষ্ঠীটি।
বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে তিনটি সূত্র জানিয়েছে, সৌদি আরবের পূর্বাঞ্চলীয় শহর ধাহরানে সৌদি আরামকোর স্থাপনায় মঙ্গলবার রাতের হামলার পর আগুন ছড়িয়ে পড়ে এবং ভবনটির কয়েকটি তলায় ক্ষয়ক্ষতি হয়। তবে দুটি সূত্রের ভাষ্য অনুযায়ী, আরামকোর কার্যক্রম স্বাভাবিক রয়েছে এবং কর্মীরা বাড়ি থেকে কাজ করছেন। এ বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো মন্তব্য করেনি কোম্পানিটি।
গত এক সপ্তাহে সৌদি আরবে হুতিদের হামলা বেড়েছে। এর মধ্যে শনিবার রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে হামলায় ১৩ জন নিহত হন। সৌদি কর্তৃপক্ষের ঘোষণা অনুযায়ী, বিমানবন্দরটি ১৭ অক্টোবর পর্যন্ত বন্ধ রাখা হয়েছে। এ কারণে সৌদি আরবগামী বিভিন্ন ফ্লাইটও বাতিল করা হয়েছে।
বুধবার সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট জানিয়েছে, রিয়াদ লক্ষ্য করে হুতিদের ছোড়া একটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করা হয়েছে। একই দিন সৌদি রাজধানীতে কয়েকটি বিকট বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়। এর আগে সম্ভাব্য আকাশপথের হুমকি নিয়ে সতর্কতা জারি করেছিল সৌদি কর্তৃপক্ষ, পরে তা প্রত্যাহার করা হয়। বিস্ফোরণের শব্দের কারণ তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
হুতিদের বিবৃতিতে বলা হয়, তারা ধাহরানে সৌদি আরামকোর স্থাপনা, রিয়াদ বিমানবন্দর এবং রাজধানীতে আরামকোর একটি তেল শোধনাগার লক্ষ্য করে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র, ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে। ধাহরানের স্থাপনাটিতে আরামকোর একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিচালনাকেন্দ্র রয়েছে। সেখান থেকে প্রতিষ্ঠানটির স্থল ও সমুদ্রভিত্তিক তেলক্ষেত্র, পাইপলাইন, শোধনাগার এবং রপ্তানি টার্মিনালের বিশাল নেটওয়ার্ক পরিচালনা করা হয়।
ইয়েমেনের যুদ্ধ নতুন করে তীব্র হওয়ায় সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের অর্থনীতি বহুমুখীকরণ ও তেলের ওপর নির্ভরতা কমানোর পরিকল্পনাও চাপে পড়েছে। ২০১৫ সালে হুতিরা রাজধানী সানা দখলের পর আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত ইয়েমেন সরকারকে সমর্থন দিয়ে যুদ্ধে হস্তক্ষেপ করে সৌদি আরব। ২০২২ সালে জাতিসংঘের মধ্যস্থতায় যুদ্ধরত পক্ষগুলোর মধ্যে একটি যুদ্ধবিরতি হলেও চলতি বছর তা ভেঙে পড়ে।
গত মাসে হুতিরা লোহিত সাগর উপকূল ধরে গুরুত্বপূর্ণ বাব আল-মান্দেব প্রণালির দিকে অগ্রসর হলে সৌদি আরব আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত ইয়েমেন সরকারকে সহায়তা দিতে আবারও সামরিক অভিযান শুরু করে। এর পর থেকে একাধিক রণাঙ্গনে সংঘাত বেড়েছে।
আন্তর্জাতিক রেড ক্রস বুধবার জানিয়েছে, ইয়েমেনের বিভিন্ন হাসপাতালে যুদ্ধাহত মানুষের সংখ্যা দ্রুত বাড়ছে এবং আহতদের চিকিৎসা দিতে হিমশিম খাচ্ছে স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানগুলো। অন্যদিকে জাতিসংঘের বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচি (ডব্লিউএফপি) জানিয়েছে, হুতিদের অবরোধে থাকা সরকারি নিয়ন্ত্রণাধীন তাইজ শহরে জরুরি মানবিক সহায়তা পৌঁছানো বন্ধ হয়ে গেছে।
ডব্লিউএফপির ভাষ্য অনুযায়ী, তাইজে ছয় লাখের বেশি মানুষ মানবিক সহায়তার ওপর নির্ভরশীল। তাঁদের মধ্যে দুই লাখের বেশি নারী ও শিশু রয়েছেন। সংঘাত অব্যাহত থাকায় এসব মানুষের কাছে প্রয়োজনীয় সহায়তা পৌঁছানো যাচ্ছে না।
সূত্র: রয়টার্স
এমএস/