দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

‘নগ্ন ভিডিও’ ভাইরাল করার ভয় দেখিয়ে এক তরুণের কাছ থেকে বিপুল অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। প্রতারকেরা প্রথমে তাকে একটি ভিডিও কল দেয়। কল ধরতেই পর্দায় এক নগ্ন নারীকে দেখতে পান তিনি। ভয়ে সঙ্গে সঙ্গে কল কেটে দেন ওই তরুণ। পরে নম্বরটি ব্লকও করে দেন। কিন্তু এরপর শুরু হয় প্রতারকদের ধারাবাহিক ফোন ও হুমকি।
সম্প্রতি ভারতের আহমেদাবাদে ঘটেছে চাঞ্চল্যকর এই ঘটনা। ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ওই তরুণের বয়স ২৫ বছর। তিনি একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কাজ করেন। ঘটনাটি নিয়ে পুলিশের সাইবার ক্রাইম শাখায় অভিযোগ করেছেন তিনি। পুলিশ এখন প্রতারণার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করার চেষ্টা করছে। খবর ইন্ডিয়া টুডের
পুলিশ জানিয়েছে, গত ৩ সেপ্টেম্বর অজ্ঞাত একটি নম্বর থেকে ওই তরুণের হোয়াটসঅ্যাপে ভিডিও কল আসে।
কলটি ধরার পর হঠাৎ পর্দায় এক নগ্ন নারীকে দেখতে পান তিনি। বিষয়টি দেখে ভয় পেয়ে সঙ্গে সঙ্গে কল কেটে দেন। পরে ওই নম্বর ব্লক করে দেন।
কিছুক্ষণ পর অন্য একটি নম্বর থেকে আবার তার কাছে ফোন আসে। ফোনের অপর প্রান্তের ব্যক্তি দাবি করেন, ওই তরুণের একটি ‘নগ্ন ভিডিও’ ধারণ করা হয়েছে।
ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দিয়ে তার কাছে টাকা দাবি করা হয়।
ভুক্তভোগী আবারও ফোন কেটে দেন এবং নম্বরটি ব্লক করেন। এ সময় তাকে একটি ভিডিওও পাঠানো হয়েছিল বলে পুলিশ জানিয়েছে। পরে তিনি সেটি মুছে ফেলেন।
পুলিশ পরিচয়ে ভয় দেখানো: এরপর ২৭ সেপ্টেম্বর অন্য একটি নম্বর থেকে আবার ফোন আসে। ফোনকারী নিজেকে ‘সঞ্জয় অরোরা’ নামে পরিচয় দেন। তিনি নিজেকে দিল্লি সাইবার ক্রাইম শাখার কর্মকর্তা বলে দাবি করেন।
ওই ব্যক্তি তরুণকে বলেন, তার নামে একটি ‘নগ্ন ভিডিও’ ছড়িয়ে পড়েছে। এ ধরনের অপরাধে সাত বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড হতে পারে বলেও তাকে ভয় দেখানো হয়। এমনকি আহমেদাবাদ পুলিশ তাকে গ্রেফতার করতে পারে বলেও ভয় দেখানো হয়।
পুলিশের অভিযোগ, এরপর প্রতারকেরা তাকে কথিত ইউটিউব কর্মকর্তার সঙ্গে যোগাযোগ করিয়ে দেয়। ভিডিওটি মুছে ফেলার জন্য ‘আইনি প্রক্রিয়া’ সম্পন্ন করার কথা বলা হয়।
ইউটিউব কর্মকর্তা পরিচয়ে নতুন ফাঁদ: এরপর আরেক ব্যক্তি ওই তরুণের সঙ্গে কথা বলেন। তিনি নিজেকে ইউটিউবের কর্মকর্তা হিসেবে পরিচয় দেন।
ওই ব্যক্তি দাবি করেন, তরুণের নামে দুটি ‘নগ্ন ভিডিও’ পাওয়া গেছে। সেগুলো সরিয়ে ফেলতে ৭১ হাজার ২৫০ রুপি দিতে হবে।
পুলিশের কাছে দেওয়া অভিযোগে তরুণ জানিয়েছেন, গ্রেফতার ও ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার ভয়ে তিনি ওই টাকা দিতে রাজি হন। কিন্তু টাকা দেওয়ার পরও প্রতারণা থামেনি। প্রতারকেরা বিভিন্ন অজুহাতে তার কাছে আরও টাকা চাইতে থাকে।
প্রতারকেরা বারবার ওই তরুণকে হুমকি দিতে থাকে। তার দাবি, টাকা না দিলে ‘নগ্ন ভিডিও’ ভাইরাল করে দেওয়া হবে এবং তার পেশাগত জীবন নষ্ট করে দেওয়া হবে বলে ভয় দেখানো হয়।
পুলিশের কাছে দেওয়া অভিযোগ অনুযায়ী, এভাবে দফায় দফায় বিভিন্ন ব্যাংক হিসাবে মোট ৪৯ লাখ ৭৮ হাজার রুপি পাঠান তিনি। তবে এত টাকা দেওয়ার পরও প্রতারকেরা তার কাছে আরও অর্থ দাবি করতে থাকে।
একপর্যায়ে ওই তরুণ বুঝতে পারেন, তিনি সাইবার প্রতারণার শিকার হয়েছেন। এরপর তিনি সাইবার ক্রাইম শাখায় অভিযোগ করেন।
পুলিশ এখন যে ব্যাংক হিসাবগুলোতে টাকা পাঠানো হয়েছে, সেগুলো পরীক্ষা করছে। এই প্রতারণার সঙ্গে কতজন জড়িত এবং টাকা কোথায় গেছে, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
কে