দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুকে ‘যুদ্ধাপরাধী’ বলে মন্তব্য করেছেন কাতারের প্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী শেখ মোহাম্মদ বিন আবদুর রহমান আল থানি। একই সঙ্গে আঞ্চলিক উত্তেজনা বাড়লেও যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে মধ্যস্থতার প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখার কথা জানিয়েছেন তিনি।
ব্রিটিশ সাংবাদিক পিয়ার্স মরগানকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে নেতানিয়াহুকে যুদ্ধাপরাধী মনে করেন কি না এমন প্রশ্নের জবাবে শেখ মোহাম্মদ বলেন, অবশ্যই। গাজায় যা ঘটেছে, তা যুদ্ধাপরাধ। আর এর জন্য যারা দায়ী, তারা যুদ্ধাপরাধী।
তিনি বলেন, হাসপাতালে হামলা হয়েছে, স্কুলে হামলা হয়েছে। যে ধরনের যুক্তিই দেওয়া হোক না কেন, এসবের কোনো কিছুই এ ধরনের কর্মকাণ্ডকে ন্যায্যতা দেয় না।
কাতারের প্রধানমন্ত্রী অভিযোগ করেন, নেতানিয়াহু নিজের এবং তার সরকারের কর্মকাণ্ড থেকে দৃষ্টি সরাতেই রাজনৈতিকভাবে কাতারকে আক্রমণ করছেন।
২০২৫ সালের ৯ সেপ্টেম্বর দোহায় ইসরায়েলি হামলারও নিন্দা জানান শেখ মোহাম্মদ। ওই হামলায় হামাসের কর্মকর্তাদের লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছিল। সে সময় কাতার মধ্যস্থতার চেষ্টা চালাচ্ছিল। হামলায় হামাসের পাঁচ সদস্য ও কাতারের একজন নিরাপত্তাকর্মী নিহত হন।
শেখ মোহাম্মদ বলেন, আমরা যখন মধ্যস্থতা করছিলাম, তখনই ইসরায়েল আমাদের ওপর হামলা চালায়। তিনি এটিকে মধ্যস্থতাকারী একটি দেশের ওপর নজিরবিহীন হামলা হিসেবে উল্লেখ করেন।
তিনি আরও বলেন, নেতানিয়াহু সীমা অতিক্রম করেছেন, যেমন এর আগেও তিনি অন্যান্য সীমা অতিক্রম করেছেন।
তবে আঞ্চলিক উত্তেজনার মধ্যেও কাতার কূটনৈতিক প্রচেষ্টা চালিয়ে যাবে বলে জানান তিনি। তাঁর ভাষ্য, পর্দার আড়ালের কূটনৈতিক যোগাযোগই অগ্রগতির সবচেয়ে কার্যকর পথ।
শেখ মোহাম্মদ বলেন, ‘আমরা যুক্তরাষ্ট্র সরকারকে একটি সমাধানে পৌঁছানোর বিষয়ে সর্বোত্তম পরামর্শ দেওয়ার চেষ্টা করছি। একইভাবে ইরানকেও পরামর্শ দিচ্ছি।’
আঞ্চলিক সংঘাত কমাতে তিনটি বিষয় সমাধান করা প্রয়োজন বলেও উল্লেখ করেন তিনি। এগুলো হলো ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি ও নিষেধাজ্ঞা, হরমুজ প্রণালিতে নৌ চলাচলের স্বাধীনতা এবং ইরান ও উপসাগরীয় সহযোগিতা পরিষদভুক্ত দেশগুলোর মধ্যে আঞ্চলিক নিরাপত্তাব্যবস্থা।
শেখ মোহাম্মদ বলেন, আঞ্চলিক নিরাপত্তাব্যবস্থা সংলাপ, পারস্পরিক হস্তক্ষেপ না করা ও আগ্রাসন না করার নীতির ওপর ভিত্তি করে গড়ে তুলতে হবে। পাশাপাশি অর্থনৈতিক সহযোগিতাও বাড়াতে হবে।
এর আগে মঙ্গলবার কাতারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মাজেদ আল-আনসারি জানান, দোহা মধ্যস্থতার প্রচেষ্টা অব্যাহত রেখেছে এবং যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে বার্তা আদান-প্রদান করছে।
তিনি বলেন, কাতার সামরিক উত্তেজনা আরও বাড়ার বিষয়ে উদ্বিগ্ন এবং শান্তিপূর্ণ সমাধানের জন্য কাজ করে যাচ্ছে।
সূত্র- টিআরটি ওয়ার্ল্ড
যে আই