দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

ভারতের মধ্যপ্রদেশের উজ্জয়িনীতে ২০২৮ সালের সিমহাস্থ কুম্ভ মেলার জন্য সড়ক প্রশস্ত করতে একটি মসজিদের অংশবিশেষ ভাঙাকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। মসজিদটির অংশবিশেষ মুসলিমদের নিজ উদ্যোগে সরিয়ে নেওয়ার পর মঙ্গলবার এর মিনারের একটি অংশও কর্তৃপক্ষ সরিয়ে দিয়েছে বলে স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন।
উজ্জয়িনীর ছত্রী চৌক এলাকার শাহি মসজিদটি সড়ক প্রশস্তকরণের জন্য অধিগ্রহণের উদ্যোগ নেয় স্থানীয় প্রশাসন। এ নিয়ে গত রোববার রাতে মসজিদের বাইরে অবস্থান নেন কয়েকশ মুসলিম। তাদের আশঙ্কা ছিল, রাতের আঁধারে মসজিদটি ভেঙে ফেলা হতে পারে।
স্থানীয় বাসিন্দা ও ডিজিটাল মার্কেটিং ব্যবসায়ী জিশান খান আল জাজিরাকে বলেন, প্রায় দুই মাস আগে উজ্জয়িনী পৌর করপোরেশন মসজিদ কর্তৃপক্ষকে নোটিশ দিয়ে জানায়, সড়ক প্রশস্ত করার জন্য মসজিদটির কিছু অংশ অধিগ্রহণ করা হবে। কর্তৃপক্ষকে নিজেরাই স্থাপনা সরিয়ে নেওয়ার জন্য ১০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সময় দেওয়া হয়েছিল। তা না হলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানানো হয়।
মসজিদ কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে স্থানীয় হাইকোর্টে ভাঙা বন্ধের আবেদন করা হলেও তা খারিজ হয়ে যায়। আদালত ২০২৮ সালের হিন্দু তীর্থযাত্রার সময় অতিরিক্ত জায়গার প্রয়োজন এবং যানবাহন চলাচল নির্বিঘ্ন রাখার বিষয়টি বিবেচনায় নেয় বলে জিশান খান জানান।
এরপর মসজিদ ব্যবস্থাপনা কমিটি জেলা প্রশাসনের সঙ্গে কয়েক দফা আলোচনা করে। আলোচনার পর সড়কের পাশ থেকে তিন ফুট জায়গা সরিয়ে নেওয়ার বিষয়ে সমঝোতা হয়। এর আগে প্রশাসনের পক্ষ থেকে সাত ফুটের বেশি অংশ সরিয়ে নেওয়ার কথা বলা হয়েছিল।
রোববার রাতে প্রশাসন মসজিদের কাছে বুলডোজার নিয়ে গেলে ছত্রী চৌক এলাকায় হাজারো মানুষ জড়ো হন। প্রশাসনের দাবি, কয়েকজন মুসলিম ব্যক্তি এআই দিয়ে তৈরি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পোস্ট ছড়িয়ে মসজিদটি ভেঙে ফেলার গুজব সৃষ্টি করেন। এরপর রাতভর সেখানে বিক্ষোভ চলে।
জিশান খানের দাবি, প্রশাসন ওই এলাকা ঘিরে দিয়ে মুসলিম সম্প্রদায়ের লোকজনকে মসজিদের অংশ নিজেরাই ভেঙে ফেলতে অথবা প্রশাসনের হাতে ভেঙে দেওয়ার জন্য প্রস্তুত থাকতে বলে।
সোমবার সকালে উত্তেজনা বাড়লে বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশ কাঁদানে গ্যাস ছোড়ে। বিভিন্ন গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিক্ষোভকারীরা পুলিশকে লক্ষ্য করে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করেন। পরে পুলিশ লাঠিপেটা করে। এতে অন্তত ১২ জন আহত হন এবং কয়েকজনকে আটক করা হয়।
এদিকে মসজিদে সরাসরি বুলডোজার অভিযান চালানোর আশঙ্কা বাড়তে থাকায় মসজিদ কমিটি নিজেরাই স্থাপনার একটি অংশ সরিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। কয়েক ডজন মুসলিম ব্যক্তি হাতুড়ি ও লোহার রড দিয়ে মসজিদের পাশের প্ল্যাটফর্মের অংশবিশেষ ভেঙে ফেলেন।
জিশান খান বলেন, নিজেদের হাতেই মসজিদের অংশ ভাঙতে হয়েছে, যা তাদের জন্য অত্যন্ত কষ্টের।
তিনি জানান, মঙ্গলবার কর্তৃপক্ষ মসজিদের মিনারের একটি অংশ সরিয়ে দিয়েছে। তবে মসজিদের মূল ভবনের ভেতরে এখনো কোনো ভাঙার কাজ শুরু হয়নি।
উজ্জয়িনী শহর মধ্যপ্রদেশের রাজধানী ভোপাল থেকে প্রায় ২০০ কিলোমিটার দূরে। ২০২৮ সালে ক্ষিপ্রা নদীর তীরে সিমহাস্থ কুম্ভ মেলা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। সেই আয়োজনকে সামনে রেখে সড়ক প্রশস্তকরণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বর্তমানে শাহি মসজিদ এলাকা সিল করে সেখানে বিপুলসংখ্যক নিরাপত্তাকর্মী মোতায়েন করেছে কর্তৃপক্ষ।
সূত্র: আল জাজিরা
এমএস/