দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

জাতিসংঘে সাংবাদিকদের ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘ্যচি বলেছেন, প্রয়োজনীয় শর্ত পূরণ হলে সাত দিনের মধ্যে হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়ার জন্য যুক্তরাষ্ট্রকে একটি চুক্তির প্রস্তাব দিয়েছে তেহরান।
নিউইয়র্কে জাতিসংঘে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে আরাকচি বলেন, জুনে স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারকে (এমওইউ) প্রয়োজনীয় শর্তগুলো উল্লেখ রয়েছে। প্রস্তাবটি কাতারের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে পাঠানো হয়েছে বলেও জানান তিনি।
আরাকচি বলেন, এখন সিদ্ধান্ত নেওয়ার দায়িত্ব যুক্তরাষ্ট্রের। প্রয়োজনীয় শর্ত পূরণ হলে সাত দিনের মধ্যে হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দিয়ে স্বাভাবিক নৌ চলাচল চালু করা সম্ভব।
ইরানের এই প্রস্তাবের বিষয়ে বিবিসিকে এক মার্কিন কর্মকর্তা জানান, মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে ইতিবাচক আলোচনা চলছে। এসব আলোচনায় পারমাণবিক ইস্যুও রয়েছে। তবে যুক্তরাষ্ট্র এখনো প্রস্তাবটির আনুষ্ঠানিক জবাব দেয়নি। এর মধ্যে ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল মার্কিন কর্মকর্তাদের বরাতে জানিয়েছে, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রস্তাবটি প্রত্যাখ্যান করেছেন। তবে এই তথ্যের বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
আরাকচি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রকে যেসব পদক্ষেপ নিতে হবে, সেগুলো নতুন কিছু নয়; জুনে স্বাক্ষরিত এমওইউতেই এসব বিষয় অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র চুক্তিতে পৌঁছানো এবং হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়ার বিষয়ে আন্তরিক হলে সবকিছু প্রস্তুত রয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
এদিকে বিবিসিকে এক মার্কিন কর্মকর্তা বলেন, হরমুজ প্রণালির ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণ রয়েছে এবং দেশটি শক্ত অবস্থানে আছে। তাই চুক্তিতে পৌঁছাতে তাদের তাড়াহুড়ো নেই।
সিবিএস নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান বলেন, যুক্তরাষ্ট্র প্রস্তাব গ্রহণ করলেই যুদ্ধবিরতি প্রক্রিয়া শুরু হবে। পাকিস্তানে স্বাক্ষরিত এমওইউর ভিত্তিতে আগে একটি সমঝোতা হয়েছিল উল্লেখ করে তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র সেই পথ অনুসরণ করতে রাজি হলে পরিস্থিতি আগের অবস্থায় ফিরে যাবে।
পেজেশকিয়ান আরও জানান, ইরান এখন জাতিসংঘের পারমাণবিক পরিদর্শকদের দেশে প্রবেশের অনুমতি দেবে। ইরান পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির চেষ্টা করছে—এমন অভিযোগ নাকচ করে তিনি বলেন, পরিদর্শকরা এলে আলোচনার মাধ্যমে বিষয়টি নিয়ে সমঝোতায় পৌঁছানো সম্ভব।
গত ১৮ জুন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে স্বাক্ষরিত ১৪ দফার ওই এমওইউতে যুদ্ধবিরতি, সব ফ্রন্টে সামরিক অভিযান বন্ধ, মার্কিন নৌ অবরোধ প্রত্যাহার ও নিষেধাজ্ঞা শিথিলসহ বিভিন্ন বিষয় অন্তর্ভুক্ত ছিল। এতে ইরানকে হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজের নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করার জন্য সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা চালানোর এবং ভবিষ্যৎ নৌ চলাচল ব্যবস্থা নিয়ে ওমানের সঙ্গে আলোচনার কথাও বলা হয়েছিল। তবে কিছুদিন পর দুই পক্ষ আবারও হামলা শুরু করলে সমঝোতাটি ভেস্তে যায়।
যুদ্ধ শুরুর আগে বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস হরমুজ প্রণালি দিয়ে পরিবহন হতো। প্রণালিটি বন্ধ থাকায় জ্বালানির দামে ব্যাপক অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। একই সঙ্গে সংঘাতের অবসান ঘটাতে ট্রাম্পের ওপর চাপও বেড়েছে।
ইরান অনুমতি ছাড়া হরমুজ প্রণালি পার হওয়ার চেষ্টা করা কয়েকটি জাহাজে হামলা চালিয়েছে বলে জানিয়েছে। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র প্রণালিতে ইরানের বিভিন্ন স্থাপনা এবং দেশটির উপকূলের কাছে কয়েকটি ইরানি তেলবাহী জাহাজে হামলা চালিয়েছে। ইরানের বন্দরগুলোতে নৌ অবরোধও অব্যাহত রেখেছে যুক্তরাষ্ট্র, যার ফলে দেশটির অর্থনীতিতে বড় ধরনের প্রভাব পড়েছে।
পণ্যবাহী জাহাজ চলাচলের তথ্য বিশ্লেষণকারী প্রতিষ্ঠান কেপলারের তথ্য অনুযায়ী, সাম্প্রতিক ১০ দিনের গড় হিসাবে হরমুজ প্রণালিতে প্রতিদিন প্রায় ১৮টি জাহাজ চলাচল করেছে। কোনো কোনো দিনে এই সংখ্যা নয়টিতেও নেমে এসেছে।
এদিকে ইরানের মিত্র ইয়েমেনের হুতিরা লোহিত সাগরের মাধ্যমে সৌদি আরবের তেল রপ্তানি ব্যাহত করতে সাম্প্রতিক সময়ে হামলা জোরদার করেছে। সৌদি আরবের তেল স্থাপনাতেও হামলার ঘটনা ঘটেছে। শনিবার সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট জানিয়েছে, হুতিদের ছোড়া দুটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও কয়েকটি ড্রোন সৌদি আরবের দিকে যাওয়ার পথে প্রতিহত করা হয়েছে।
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে দেওয়া বক্তব্যে ট্রাম্প বলেছেন, নভেম্বরের কংগ্রেস নির্বাচনের পর ইরানের সঙ্গে একটি চুক্তি হতে পারে বলে তিনি আশা করছেন। তবে একই বক্তব্যে তিনি ইরানের সঙ্গে চুক্তি না হলে ইসলামি প্রজাতন্ত্রকে ধ্বংস করার হুমকিও দিয়েছেন।
এর জবাবে শুক্রবার আরাকচি বলেন, ইরান কোনো ধরনের চাপ, হুমকি বা ভয় দেখানো মেনে নেবে না। ধ্বংসের হুমকি দিয়ে শান্তি প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব নয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
সূত্র: বিবিসি
এমএস/