দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

সিরিয়ার পুনর্গঠন অব্যাহত রাখার অঙ্গীকার করেছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট আহমেদ আল-শারা। জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে দেওয়া ভাষণের শেষ দিকে তিনি বলেন, সিরিয়া পুনর্গঠন অব্যাহত রাখবে এবং এই মঞ্চ থেকেই দেশের মর্যাদা পুনরুদ্ধারের কাজ চালিয়ে যাবে।
বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের দ্বিতীয় দিনে ভাষণ দেন আল-শারা। দায়িত্ব নেওয়ার পর জাতিসংঘে এটি তার দ্বিতীয় ভাষণ। এক বছর আগে প্রথমবারের মতো এই মঞ্চে বক্তব্য দেওয়ার প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, গত বছর তিনি বলেছিলেন ‘সিরিয়া ফিরে এসেছে’, আর এবার তার ভাষ্য, ‘সিরিয়া ঘুরে দাঁড়াচ্ছে’।
ভাষণের শেষ দিকে কোরআনের একটি আয়াত পাঠ করে আল-শারা বলেন, তারা দেশের মানুষের সেবা করে যাবেন এবং সৃষ্টিকর্তার সন্তুষ্টির জন্য কাজ করবেন। তিনি বলেন, মানুষের কর্মকাণ্ডের যথাযথ প্রতিদান সৃষ্টিকর্তার কাছ থেকে আসবে।
সিরিয়ার পাশে দাঁড়ানো দেশ ও আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর প্রতিও কৃতজ্ঞতা জানান আল-শারা। দামেস্কে নিজেদের পতাকা ওড়ানো দেশগুলো এবং সিরিয়ার সঙ্গে অংশীদারত্বে বিশ্বাস রাখা আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোকে ধন্যবাদ জানিয়ে তিনি বলেন, এসব অংশীদারত্ব সিরিয়াকে সমৃদ্ধি তৈরিতে সক্ষম একটি আন্তর্জাতিক শক্তি হিসেবে গড়ে তুলতে সহায়তা করছে।
ভাষণে সিরিয়ার সাম্প্রতিক অগ্রগতির কথাও তুলে ধরেন আল-শারা। তার দাবি, গৃহযুদ্ধের পর পুনর্গঠন ও পুনরুদ্ধার কার্যক্রম শুরু, অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ, সামরিক ও বেসামরিক প্রতিষ্ঠান পুনর্গঠন, আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা থেকে বেরিয়ে আসা, মাদক পাচার মোকাবিলা, পরিবর্তনকালীন বিচারব্যবস্থা এবং আন্তর্জাতিক অংশীদারত্ব গড়ে তোলার ক্ষেত্রে অগ্রগতি হয়েছে।
আল-শারা বলেন, সিরিয়া এখন ‘সংকট থেকে সম্ভাবনার’ দিকে এগিয়েছে। তবে দেশটির পুনর্গঠনের পথে নিরাপত্তা ও আঞ্চলিক পরিস্থিতি এখনও বড় বিষয় হয়ে আছে।
ভাষণে ইসরায়েলের সঙ্গে সিরিয়ার বিরোধের বিষয়টিও তুলে ধরেন তিনি। সিরিয়ায় ইসরায়েলের হামলা ও অনুপ্রবেশের সমালোচনা করে আল-শারা দাবি করেন, গত সময়ে দেশটিতে ৫০০টি বিমান হামলা, ১ হাজার ২০০টির বেশি অনুপ্রবেশ এবং ৩০০ জনকে আটক করা হয়েছে। তিনি ইসরায়েলকে প্রত্যাহার এবং ১৯৭৪ সালের চুক্তি মেনে চলার আহ্বান জানান।
গোলান মালভূমি প্রসঙ্গে আল-শারা বলেন, ‘গোলান সিরিয়ার ভূখণ্ডই থাকবে।’ জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের ৪৯৭ নম্বর প্রস্তাব অনুযায়ী সিরিয়ার সার্বভৌমত্ব লঙ্ঘনের যেকোনো প্রচেষ্টা প্রতিহত করা হবে বলেও তিনি জানান। গোলান মালভূমি ১৯৬৭ সালের যুদ্ধে ইসরায়েল দখল করে এবং ১৯৮১ সালে তা একতরফাভাবে সংযুক্ত করে।
এর আগে চলতি বছরের জুলাইয়ে জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসও সিরিয়ার সার্বভৌমত্ব ও ভৌগোলিক অখণ্ডতার প্রতি পূর্ণ সম্মান দেখানোর আহ্বান জানিয়েছিলেন এবং ১৯৭৪ সালের বিচ্ছিন্নতা চুক্তি লঙ্ঘন বন্ধের কথা বলেছিলেন।
ভাষণের শেষ দিকে আল-শারা বলেন, সিরিয়া পুনর্গঠন অব্যাহত রাখবে এবং একটি সমৃদ্ধ, স্থিতিশীল ও ভবিষ্যতমুখী দেশ গড়ে তুলতে আন্তর্জাতিক অংশীদারদের সঙ্গে কাজ করবে।
/অ