দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

জাতিসংঘের কার্যকারিতা ফিরিয়ে আনা, নিরাপত্তা পরিষদের জরুরি সংস্কার এবং বৈশ্বিক আস্থা পুনর্গঠনের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছেন জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতি ও বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান।
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের উদ্বোধনী ভাষণে তিনি এসব বিষয়ে গুরুত্বারোপ করেন। চলতি অধিবেশনের মূল প্রতিপাদ্য নির্ধারণ করা হয়েছে—‘আস্থা পুনরুদ্ধার, রূপান্তর ব্যবস্থাপনা: সবার জন্য কার্যকর জাতিসংঘ’।
নিরাপত্তা পরিষদের কাঠামোগত বৈষম্যের বিষয়টি তুলে ধরে খলিলুর রহমান বলেন, জাতিসংঘের সবচেয়ে বড় আঞ্চলিক সদস্যগোষ্ঠী এবং শান্তিরক্ষা কার্যক্রমের অন্যতম প্রধান অংশীদার হওয়া সত্ত্বেও আফ্রিকা নিরাপত্তা পরিষদে কোনো স্থায়ী আসন পায়নি। তাই সিদ্ধান্ত গ্রহণের টেবিলে আফ্রিকার যথাযথ প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করতে হবে।
তিনি বলেন, আফ্রিকার প্রতিনিধিত্বের দাবি কোনো করুণা নয়; এটি ন্যায়বিচার এবং জাতিসংঘের নিজস্ব গ্রহণযোগ্যতার প্রশ্ন। নিরাপত্তা পরিষদকে আরও স্বচ্ছ, প্রতিনিধিত্বশীল এবং বর্তমান ভূরাজনৈতিক বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ করার ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি। এ ক্ষেত্রে সাধারণ পরিষদের আন্তঃসরকারি আলোচনা প্রক্রিয়ার প্রতি সমর্থন জানান বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী।
জাতিসংঘের প্রতি বৈশ্বিক আস্থা পুনরুদ্ধারে তিনটি প্রধান কৌশলের কথা তুলে ধরেন খলিলুর রহমান। এগুলো হলো—নিজেদের ব্যর্থতা সম্পর্কে স্পষ্টবাদী ও বাস্তববাদী হওয়া, সুনির্দিষ্ট প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়ায় সুশীল সমাজ ও বিজ্ঞানীদের ব্যাপকভাবে সম্পৃক্ত করা।
বিশ্বব্যাপী বৈষম্য ও সামরিক ব্যয় বৃদ্ধি নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন তিনি। খলিলুর রহমান বলেন, টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) অর্জনের অগ্রগতি যখন থমকে আছে, তখন ওইসিডি দেশগুলোর উন্নয়ন সহায়তা এক বছরে ২৩ শতাংশ কমে ১৭৫ বিলিয়ন ডলারে নেমে এসেছে। বিপরীতে বিশ্বব্যাপী সামরিক ব্যয় বেড়ে প্রায় ৩ ট্রিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে।
গাজা, সুদান, ইউক্রেন, মিয়ানমার ও মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাতের প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক আইন এবং বেসামরিক নাগরিকদের সুরক্ষার নীতি কখনোই নির্বাচনী বা পক্ষপাতমূলকভাবে প্রয়োগ করা যাবে না। পাশাপাশি বাংলাদেশের কক্সবাজারে রোহিঙ্গা শরণার্থীশিবির এবং হাইতিতে জাতিসংঘের মানবিক কার্যক্রমের ইতিবাচক ভূমিকার উদাহরণও তুলে ধরেন তিনি।
প্রযুক্তির অপব্যবহার ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) ঝুঁকি নিয়েও বিশ্বনেতাদের সতর্ক করেন সাধারণ পরিষদের সভাপতি। তিনি বলেন, পানি সরবরাহ, বিদ্যুৎ ও সামরিক খাতের মতো সংবেদনশীল ক্ষেত্রে এআইয়ের অপব্যবহার মানব সভ্যতার অস্তিত্বের জন্য চরম ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।
এআই অস্ত্র প্রতিযোগিতা ঠেকাতে বিজ্ঞানী ও বিশেষজ্ঞদের সম্পৃক্ত করে দ্রুত প্রমাণভিত্তিক বৈশ্বিক নীতিমালা ও নিয়ন্ত্রণ কাঠামো বা ‘গার্ডরেল’ তৈরির তাগিদ দেন খলিলুর রহমান।
এমএস/