দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সাধারণ বিতর্ক শুরু হয়েছে। অধিবেশনে আজ নিজের শেষ ভাষণে জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস বলেন, বিশ্বের বিভাজন ও সংকট ক্রমেই বাড়ছে এবং বহুমেরুকেন্দ্রিক বিশ্বের দিকে এগোতে গিয়ে পারস্পরিক আস্থাও ক্ষয় হচ্ছে।
গুতেরেস বলেন, যুদ্ধ, জলবায়ু পরিবর্তন এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার কারণে সৃষ্ট পরিবর্তনসহ বিশ্বের বিভিন্ন সংকটকে আলাদা করে দেখার সুযোগ নেই। এগুলো একই গল্পের ভিন্ন অধ্যায়। সেই গল্প হলো ক্ষমতার। কার হাতে ক্ষমতা রয়েছে এবং কারা সেই ক্ষমতা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে, সেটিই মূল প্রশ্ন।
বিশ্বে ক্ষমতার ভারসাম্য তিনভাবে বদলে যাচ্ছে বলেও উল্লেখ করেন জাতিসংঘ মহাসচিব। রাষ্ট্রগুলোর মধ্যে নতুন অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক ও প্রযুক্তিগত প্রভাবকেন্দ্র তৈরি হচ্ছে। একই সঙ্গে ক্ষমতা ক্রমেই বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ও ব্যক্তির দিকে সরে যাচ্ছে। পাশাপাশি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাসহ স্বয়ংক্রিয় অস্ত্রের বিকাশের মাধ্যমে ক্ষমতা মানুষের কাছ থেকে যন্ত্রের কাছেও হস্তান্তরিত হচ্ছে। এসব পরিবর্তন মোকাবিলায় বিশ্বের প্রতিষ্ঠান ও ব্যবস্থাগুলো এখনো যথেষ্ট প্রস্তুত নয় বলে মন্তব্য করেন তিনি।
গুতেরেস বলেন, শুধু সামরিক শক্তি দিয়ে শান্তি নিশ্চিত করা যায় না। প্রযুক্তিগত বা অর্থনৈতিক শক্তিও একা শান্তি প্রতিষ্ঠা করতে পারে না। ক্ষমতাকে আইনের অধীনে আনতে হবে। কার জীবন ও ভবিষ্যৎ গুরুত্বপূর্ণ হবে, তা নির্ধারণের চূড়ান্ত মাধ্যম শক্তি হতে পারে না।
গাজা পরিস্থিতি নিয়েও উদ্বেগ জানান গুতেরেস। তিনি বলেন, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের হামলার পর গাজায় ফিলিস্তিনিদের ওপর যে ব্যাপক হত্যাকাণ্ড ও ধ্বংসযজ্ঞ হয়েছে, তা মহাসচিব হিসেবে তার দায়িত্ব পালনের সময়ে দেখা অন্য যেকোনো পরিস্থিতির তুলনায় নজিরবিহীন। গাজায় জাতিসংঘের কাজ পরিচালনার পথে বাধা দূর করার আহ্বান জানান তিনি। আন্তর্জাতিক আইনের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বিচার আদালতের আদেশ মেনে চলার কথাও বলেন।
ইউক্রেন যুদ্ধের প্রসঙ্গে গুতেরেস রাশিয়ার ‘পূর্ণমাত্রার আগ্রাসনের’ সমালোচনা করে বলেন, এর ফলে ইউক্রেন একটি ‘নিষ্ঠুর যুদ্ধের’ মুখোমুখি হয়েছে, যা জাতিসংঘ সনদের স্পষ্ট লঙ্ঘন। সামনের সারির বাইরে, বিশেষ করে ইউক্রেনে এবং সাম্প্রতিক সময়ে রাশিয়ার কিছু এলাকাতেও বেসামরিক মানুষ নিহত হচ্ছেন বলে জানান তিনি।
এ ছাড়া বিশ্বজুড়ে নারী ও কন্যাশিশুদের প্রতি বৈষম্য, সহিংসতা ও নির্যাতনের কথা তুলে ধরেন গুতেরেস। তিনি বলেন, তাদের অধিকার পিছিয়ে দেওয়া হচ্ছে, কণ্ঠস্বর স্তব্ধ করা হচ্ছে এবং স্বাধীনতাকে দর-কষাকষির উপকরণ হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে। নারীদের সিদ্ধান্ত গ্রহণের টেবিলে রাখলে শান্তি আরও টেকসই হয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
/অ