দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

ইতালির স্কুলগুলোতে বোরকা ও নিকাবসহ মুখ ঢেকে রাখা পোশাক নিষিদ্ধ করার প্রস্তাব আনতে যাচ্ছে দেশটির সরকার। একই সঙ্গে শ্রেণিকক্ষে বিদেশি শিক্ষার্থীর সংখ্যা সীমিত করা এবং গুরুতরভাবে একীভূত হতে সমস্যায় থাকা বিদেশি শিক্ষার্থীদের অভিভাবকদের ইতালিয়ান ভাষা শেখার বাধ্যবাধকতা চালুর পরিকল্পনার কথাও জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনি।
রোববার রোমে নিজের দল ব্রাদার্স অব ইতালির যুব সংগঠনের আয়োজিত ‘ফেনিক্স’ অনুষ্ঠানে এ পরিকল্পনার কথা জানান মেলোনি। তিনি বলেন, শিগগিরই মন্ত্রিসভার বৈঠকে এ বিষয়ে একটি প্রস্তাব উপস্থাপন করা হবে।
প্রস্তাবিত ব্যবস্থার আওতায় স্কুলে বোরকা ও নিকাব নিষিদ্ধ করার কথা বলা হয়েছে। মেলোনির বক্তব্য অনুযায়ী, স্কুলে শিক্ষার্থীদের মুখ অনাবৃত রাখতে হবে। তিনি বলেন, কোনো নারীকে মুখ ঢেকে রাখতে বাধ্য করার মতো কোনো ঐতিহ্য ইতালিতে গ্রহণযোগ্য হতে পারে না।
এ ছাড়া প্রতিটি শ্রেণিতে বিদেশি শিক্ষার্থীর সর্বোচ্চ সংখ্যা আইনের মাধ্যমে নির্ধারণের পরিকল্পনা করা হয়েছে। তবে সেই সংখ্যাটি কত হবে, তা এখনো জানানো হয়নি। বর্তমানে ইতালির স্কুলগুলোতে ইতালীয় নাগরিক নন—এমন শিক্ষার্থীর হার ১১ দশমিক ৬ শতাংশ বলে জানিয়েছে গবেষণা প্রতিষ্ঠান ফন্ডাজিওনে আইএসএমইউ।
প্রস্তাবিত ব্যবস্থায় গুরুতরভাবে স্কুলব্যবস্থায় একীভূত হতে সমস্যায় থাকা বিদেশি শিক্ষার্থীদের অভিভাবকদের ইতালিয়ান ভাষা শেখার বাধ্যবাধকতাও রাখা হবে। মেলোনি বলেন, ইতালিতে এসে যারা ভবিষ্যৎ গড়তে চান, তাদের দেশটির ভাষা শেখা, সংস্কৃতি বোঝা এবং নিয়মকানুনকে সম্মান করা প্রয়োজন।
মেলোনির সরকার এসব পদক্ষেপকে শিক্ষাব্যবস্থায় বিদেশি শিক্ষার্থীদের একীভূতকরণ বা ইন্টিগ্রেশন জোরদারের উদ্যোগ হিসেবে তুলে ধরছে। মেলোনি বলেন, কোনো শ্রেণিতে অল্পসংখ্যক শিক্ষার্থী ইতালিয়ান ভাষা না জানলে শিক্ষক ও সহপাঠীদের সহযোগিতায় তাদের ভাষা শেখা ও একীভূত হওয়া সম্ভব। কিন্তু ভাষা না জানা শিক্ষার্থীর সংখ্যা অনেক বেড়ে গেলে সেটি আর কার্যকর ইন্টিগ্রেশন থাকে না বলে মন্তব্য করেন তিনি।
তবে প্রস্তাবটি এখনো আইনে পরিণত হয়নি। সরকারের মন্ত্রিসভায় অনুমোদনের পর এর বাস্তবায়নের জন্য পরবর্তী আইনগত প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হবে। বিদেশি শিক্ষার্থীদের শ্রেণিভিত্তিক সীমা এবং অন্যান্য বিধানের বিস্তারিতও এখনো চূড়ান্তভাবে প্রকাশ করা হয়নি।
এমএস/