দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

পাকিস্তানের মেডিকেল ও ডেন্টাল কলেজে অধ্যয়নরত আফগান শিক্ষার্থীদের নিজ দেশে ফিরে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়ায় উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। ইতোমধ্যে ভর্তি হওয়া শিক্ষার্থীদের অন্তত পড়াশোনা শেষ করার সুযোগ দেওয়ার জন্য পাকিস্তান সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন তারা। বিশেষ করে নারী শিক্ষার্থীরা দেশে ফিরে গেলে শিক্ষা চালিয়ে যাওয়ার কোনো সুযোগ থাকবে না বলে আশঙ্কা করছেন।
আফগান মেডিকেল শিক্ষার্থীদের মুখপাত্র ও খাইবার মেডিকেল কলেজের শেষ বর্ষের এমবিবিএস শিক্ষার্থী আনায়াতুল্লাহ মোমান্দ বলেন, বর্তমানে পাকিস্তানের বিভিন্ন মেডিকেল ও ডেন্টাল কলেজে প্রায় এক হাজার আফগান শিক্ষার্থী পড়াশোনা করছেন। তাদের মধ্যে প্রায় ৩৫০ জন নারী। পাকিস্তান মেডিকেল অ্যান্ড ডেন্টাল কাউন্সিলের (পিএমডিসি) নিজ দেশে ফিরে যাওয়ার নির্দেশনায় শিক্ষার্থীদের মধ্যে বিশেষ করে নারী শিক্ষার্থীদের উদ্বেগ বেড়েছে।
মোমান্দ জানান, প্রায় ২০০ শিক্ষার্থী হাউস জব সম্পন্ন করে বিশেষায়িত চিকিৎসা শিক্ষার (স্পেশালাইজেশন) বিভিন্ন প্রোগ্রামে ভর্তির অপেক্ষায় রয়েছেন। তারাও এই সিদ্ধান্তের আওতায় পড়েছেন।
তিনি বলেন, আফগানদের জন্য পাকিস্তানে শিক্ষা বন্ধের নীতির বিষয়ে তাদের আপত্তি নেই। তবে যারা ইতোমধ্যে ভর্তি হয়ে পড়াশোনা করছেন, তাদের ক্ষেত্রে ব্যতিক্রম করা উচিত। তাদের পড়াশোনা শেষ করার সুযোগ দিলে ভবিষ্যৎ রক্ষা পাবে।
মোমান্দের ভাষ্য, সবচেয়ে বড় উদ্বেগ নারী শিক্ষার্থীদের নিয়ে। তাদের আফগানিস্তানে ফেরত পাঠানো হলে বাড়িতে বসে থাকা ছাড়া উপায় থাকবে না, কারণ তালেবানের নিষেধাজ্ঞার কারণে দেশটিতে নারীদের উচ্চশিক্ষার সুযোগ নেই।
তিনি বলেন, সব শিক্ষার্থীরই বৈধ ভিসা ছিল। যাদের ভিসার মেয়াদ শেষ হয়ে গেছে, তাদের অনেকেই নবায়নের জন্য আবেদন করেছেন। তার দাবি, মেধার ভিত্তিতেই আফগান শিক্ষার্থীদের পাকিস্তানের বিভিন্ন কলেজে ভর্তি করা হয়েছে। কেউ পাকিস্তানের বৃত্তি নিয়ে এসেছেন, কেউ পাকিস্তান সরকারের সংরক্ষিত আফগান জাতীয় আসনে ভর্তি হয়েছেন। আবার কেউ আফগানদের জন্য পাকিস্তানের টেকনিক্যাল অ্যাসিস্ট্যান্স প্রোগ্রামের আওতায় পড়াশোনা করছেন।
সম্প্রতি আফগানিস্তানে ফেরত পাঠানো হলে দেশটির মেডিকেল ও ডেন্টাল কলেজে ভর্তি করে দেওয়ার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে বলেও জানান মোমান্দ। তবে তিনি বলেন, আফগানিস্তানের মেডিকেল ডিগ্রি আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত নয়। তাই তারা পাকিস্তানে অর্জিত শিক্ষা ও ডিগ্রি সম্পন্ন করতে চান।
নারী শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ কী হবে—এ বিষয়ে আফগান রাষ্ট্রদূতের কাছে জানতে চাইলেও কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি বলে জানান তিনি। তার ভাষায়, এখন বিষয়টি পাকিস্তান সরকারের সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করছে।
তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী নাজমা বিবি বলেন, তাদের উদ্বেগ এখনো কাটেনি। লাহোর হাইকোর্ট পিএমডিসির ৩১ জুলাই ও ১ সেপ্টেম্বরের নির্দেশনা স্থগিত করলেও এটি সাময়িক স্বস্তি মাত্র।
নাজমা কিং এডওয়ার্ড মেডিকেল ইউনিভার্সিটির ২২ জন আফগান শিক্ষার্থীর একজন। গত ৭ সেপ্টেম্বর বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ আফগান নাগরিকদের ক্যাম্পাস ছেড়ে যাওয়ার নির্দেশ দেয়। তিনি পিএমডিসির প্রতি শত শত আফগান শিক্ষার্থীর, বিশেষ করে নারী শিক্ষার্থীদের পরিস্থিতি বিবেচনা করে সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার আহ্বান জানান।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক তৃতীয় বর্ষের এক নারী এমবিবিএস শিক্ষার্থী বলেন, তাদের দেশে ফেরত পাঠানোর সিদ্ধান্ত তাদের শিক্ষা থেকে বঞ্চিত করে পিছিয়ে দেওয়ার শামিল। তিনি দুই বছর আগে পাকিস্তানের দেওয়া আল্লামা ইকবাল স্কলারশিপ নিয়ে দেশটিতে আসেন। ভবিষ্যতে পড়াশোনা শেষ করে আফগানিস্তানে নারীদের চিকিৎসাসেবায় নিয়োজিত হওয়ার স্বপ্ন ছিল তার।
তিনি বলেন, গত কয়েক মাস তাদের জন্য অত্যন্ত কঠিন সময় গেছে। এখনো পাকিস্তান থেকে উচ্ছেদের আশঙ্কা রয়েছে।
প্রথম বর্ষের এক নারী শিক্ষার্থীও নিজের চিকিৎসক হওয়ার স্বপ্ন নিয়ে অনিশ্চয়তা প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেন, দেশে ফিরে গেলে কঠিন পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হবে এবং এমনকি বিচারের সম্মুখীন হওয়ার আশঙ্কাও রয়েছে।
গত ১ সেপ্টেম্বর পিএমডিসি আফগান শিক্ষার্থীদের ভর্তি করা মেডিকেল ও ডেন্টাল কলেজগুলোকে তাদের নিজ দেশে ফেরত পাঠানোর নির্দেশ দেয়। প্রচলিত নীতিমালার আলোকে দেওয়া ওই নির্দেশনায় সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোকে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক কার্যক্রম সম্পন্ন, নো-অবজেকশন সার্টিফিকেট (এনওসি) দেওয়া এবং শিক্ষার্থীদের দেশে ফেরার ক্ষেত্রে সহযোগিতা করার কথা বলা হয়।
সূত্র: ডন