দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

মাত্র পাঁচ মিনিটের একটি ভার্চ্যুয়াল বৈঠকে ভারতের একটি প্রতিষ্ঠানের গ্রাহকসেবা বিভাগের প্রায় ৮০ কর্মীকে চাকরিচ্যুত করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন এক কর্মী। যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক একটি আর্থিক প্রতিষ্ঠানে কর্মরত ওই কর্মী সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ‘ভার্চ্যুয়াল বৈঠকে চাকরিচ্যুত’ শিরোনামে একটি পোস্টে ঘটনার বিস্তারিত তুলে ধরেছেন।
ওই কর্মীর ভাষ্য, ‘কার্যক্রম পরিচালনার কারণ’ দেখিয়ে সংশ্লিষ্ট ভারতীয় কর্মীদের সেদিন বাড়ি থেকে কাজ করতে বলা হয়েছিল। পরে সন্ধ্যার শিফট চলাকালে কোনো ধরনের পূর্ব সতর্কতা ছাড়াই চাকরি হারানোর খবর পান তারা।
কর্মী জানান, তার কাজের সময় ছিল সন্ধ্যা সাড়ে ৬টা থেকে। রাত সাড়ে ৯টার দিকে, অর্থাৎ শিফট শুরুর প্রায় তিন ঘণ্টা পর, ঊর্ধ্বতন ব্যবস্থাপনা তাদের একটি ভার্চ্যুয়াল বৈঠকে যুক্ত করে। মাত্র পাঁচ মিনিটের সেই বৈঠকেই জানানো হয়, ভারতের পুরো গ্রাহকসেবা দলকে চাকরি থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে।
ওই কর্মী লেখেন, ‘সব ৮০ কর্মীই চাকরি হারিয়েছেন। মাত্র পাঁচ মিনিটের একটি বৈঠকে ৮০টি পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত হলো।’
তিনি আরও বলেন, চাকরির নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগের কারণে কর্মীরা নিয়মিত দীর্ঘ সময় কাজ করতেন এবং নিজেদের সর্বোচ্চটা দেওয়ার চেষ্টা করতেন। এমন পরিস্থিতিতে কোনো পূর্ব সতর্কতা ছাড়াই চাকরি হারানোর ঘটনায় তিনি হতাশা প্রকাশ করেন।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্টটি ছড়িয়ে পড়ার পর অনেকে ঘটনাটিকে দুঃখজনক ও হতাশাজনক বলে মন্তব্য করেন। এক ব্যবহারকারী কোন ব্যাংক এই কর্মীদের চাকরিচ্যুত করেছে জানতে চাইলে ওই কর্মী প্রতিষ্ঠানের নাম হিসেবে ‘ব্লুভাইন’ উল্লেখ করেন।
ব্লুভাইন একটি ডিজিটাল ব্যাংকিং প্ল্যাটফর্ম, যা ছোট ব্যবসার জন্য অনলাইনে ব্যবসায়িক হিসাব, অর্থ পরিশোধের বিভিন্ন সুবিধা এবং ঋণের ব্যবস্থা করে।
ওই কর্মীর দাবি, ভারতীয় দল প্রত্যাশিত কাজের ফলাফল দিতে পারছিল না বলে তাদের জানানো হয়েছিল। তবে এই ব্যাখ্যার সঙ্গে তিনি একমত নন।
তার অভিযোগ, যুক্তরাষ্ট্রের সময় অনুযায়ী কাজ করা কর্মীদের মধ্যে কর্মী চলে যাওয়ার হার ও নিজেদের ইচ্ছায় ছুটি নেওয়ার প্রবণতা বেশি ছিল এবং তারা অনেক সময় কাজও ঠিকভাবে করতে পারতেন না। বিপরীতে চাকরির নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগের কারণে ভারতীয় কর্মীরা নিয়মিত অতিরিক্ত পরিশ্রম করতেন বলে দাবি করেন তিনি।
তবে চাকরিচ্যুতির বিষয়ে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে কোনো বক্তব্য এই প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়নি।
/অ