দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

অক্টোবরে দেশের পাঁচটি বিভাগীয় ও জেলা শহরে পাঁচটি পূর্ণাঙ্গ শিশু হাসপাতাল চিকিৎসা কার্যক্রম শুরু করবে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ড. এম এ মুহিত।
বুধবার (১৯ আগস্ট) সকালে রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে বাংলাদেশ শিশু হাসপাতাল ও ইনস্টিটিউটে ‘হামের বিস্তার ও জিনগত নজরদারি’ বিষয়ক কর্মশালা এবং গবেষণা অনুদান প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
বাংলাদেশ শিশু হাসপাতাল ও ইনস্টিটিউটের রোগতত্ত্ব ও গবেষণা বিভাগ এবং আইসিডিডিআর,বির যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত অনুষ্ঠানে গবেষণার ফলাফল প্রকাশ করা হয়।
স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী বলেন, ২০২৪ সালের টিকাদান কর্মসূচিতে সময়মতো উদ্যোগ না নেওয়া এবং নীতিগত গাফিলতির কারণে যে অনাক্রম্যতার ঘাটতি তৈরি হয়েছিল, তার ফল হিসেবে বর্তমান হামের প্রাদুর্ভাব দেখা দিয়েছে।
তিনি বলেন, ‘হাজারটা ভেন্টিলেটর বা আইসিইউ বেড বসিয়ে এই মৃত্যুর ঢল থামানো যাবে না। প্রতিরোধ এবং টিকাদানই হামের একমাত্র সমাধান।’
অবাস্তব আশ্বাস দেওয়ার সুযোগ নেই উল্লেখ করে ড. মুহিত বলেন, টিকাদানের গতি শতভাগ বাড়ানো হলেও প্রাদুর্ভাব পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আসতে আরও দুই থেকে তিন মাস সময় লাগতে পারে। তবে এ সময়ের মধ্যে সর্বোচ্চ চিকিৎসাসেবা ও মাঠপর্যায়ের নজরদারির মাধ্যমে শিশুমৃত্যু কমিয়ে আনার চেষ্টা চলছে।
শিশু স্বাস্থ্যসেবা বিকেন্দ্রীকরণের পরিকল্পনার কথা জানিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, আগামী অক্টোবরের মধ্যেই দেশের পাঁচটি বিভাগীয় ও জেলা শহরে নবনির্মিত পাঁচটি পূর্ণাঙ্গ শিশু হাসপাতাল আনুষ্ঠানিকভাবে চিকিৎসা কার্যক্রম শুরু করবে।
তৃণমূল পর্যায়ের চিকিৎসাব্যবস্থা শক্তিশালী করতে দেশের প্রতিটি ৫০ শয্যার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সকে ১৫০ শয্যায় উন্নীত করা হচ্ছে বলেও জানান তিনি। উপজেলা পর্যায়ে শিশু চিকিৎসা, মেডিসিন, সার্জারি ও স্ত্রীরোগ—এই চারটি বিভাগকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।
স্বাস্থ্য খাতের জনবল সংকট কাটাতে বড় পরিসরে নিয়োগের কথা জানিয়ে ড. এম এ মুহিত বলেন, প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা এবং মা ও শিশুর স্বাস্থ্যসেবা মানুষের ঘরে ঘরে পৌঁছে দিতে দ্রুত এক লাখ নতুন স্বাস্থ্য মাঠকর্মী নিয়োগ দেওয়া হবে। এ ছাড়া শিগগিরই পাঁচ হাজার নতুন চিকিৎসক এবং পর্যায়ক্রমে প্রয়োজনীয় নার্স ও মেডিকেল টেকনোলজিস্ট নিয়োগের প্রক্রিয়া সম্পন্ন হবে।
স্বাস্থ্য খাতের জনবল কাঠামোকে ভারসাম্যপূর্ণ করতে চিকিৎসক, নার্স ও টেকনোলজিস্টের অনুপাত আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলেও জানান তিনি।
স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ শিশু হাসপাতাল, বারডেম ও হলি ফ্যামিলির মতো স্বায়ত্তশাসিত কিন্তু সরকার-সমর্থিত ব্যবস্থাপনা মডেল স্বাস্থ্য খাতের জন্য কার্যকর। ঢাকার বাইরে বিশেষায়িত সেবা না থাকায় সারা দেশ থেকে রোগীদের রাজধানীতে আসতে হচ্ছে, যা জাতীয় স্বাস্থ্য ব্যবস্থার একটি কাঠামোগত দুর্বলতা। এ কারণে ঢাকার ইনস্টিটিউটগুলোর মতো মানসম্পন্ন বিশেষায়িত চিকিৎসাসেবা পর্যায়ক্রমে প্রতিটি বিভাগীয় শহরে গড়ে তোলা হবে।
অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাস, পরিচালক (হাসপাতাল) ডা. মো. নুরুল ইসলাম ও আইইডিসিআর পরিচালক ডা. কাজী আহমেদ জাকি।
বাংলাদেশ শিশু হাসপাতাল ও ইনস্টিটিউটের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. এ কে এম আজিজুল হকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে গবেষণার ফলাফল ও তথ্য-উপাত্ত উপস্থাপন করেন প্রতিষ্ঠানটির অধ্যাপক ডা. মির্জা মো. জিয়াউল ইসলাম এবং আইসিডিডিআর,বির ভাইরোলজি বিভাগের প্রধান বিজ্ঞানী ড. মুস্তাফিজুর রহমান।
গবেষণায় বলা হয়েছে, ২০২৬ সালে ছড়িয়ে পড়া হামের মূল কারণ ভাইরাসের নতুন কোনো ধরন নয়; বরং বিশ্বজুড়ে প্রচলিত তীব্র সংক্রামক ‘বি৩’ ধরনের বিস্তার এবং টিকাদান ও মাতৃদুগ্ধের অ্যান্টিবডির ঘাটতি। বিশেষ করে নয় মাস বয়সের আগেই মায়ের কাছ থেকে পাওয়া রোগ প্রতিরোধক্ষমতা কমে যাওয়া এবং নিয়মিত টিকাদানে অবহেলার কারণে ছয় থেকে নয় মাস বয়সী অপুষ্ট শিশুরা আক্রান্ত ও মৃত্যুর বেশি ঝুঁকিতে পড়েছে।
এমএম/