দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

হাম একটি অত্যন্ত সংক্রামক ভাইরাসজনিত রোগ, যা মূলত নাক ও গলার সংক্রমণ থেকে ছড়ায় এবং দ্রুত গুরুতর আকার ধারণ করতে পারে। এই রোগের ফলে শুধু জ্বর বা র্যাশ নয়, ডায়রিয়া, কানের সংক্রমণ, এমনকি মস্তিষ্কের ক্ষতি, শ্রবণশক্তি হ্রাস ও অন্ধত্বের মতো জটিলতাও দেখা দিতে পারে। কিছু ক্ষেত্রে রোগটি প্রাণঘাতী হয়ে উঠতে পারে, বিশেষ করে গর্ভবতী নারী, শিশু এবং যাদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা দুর্বল।
চিকিৎসাবিজ্ঞানের মতে, হামের নির্দিষ্ট কোনো চিকিৎসা নেই প্রতিরোধই একমাত্র ভরসা।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সংক্রমিত ব্যক্তি কাশি বা হাঁচি দিলে ভাইরাসটি বাতাসের মাধ্যমে সহজেই ছড়িয়ে পড়ে। এমনকি আক্রান্ত ব্যক্তি স্থান ত্যাগ করার পরও প্রায় দুই ঘণ্টা পর্যন্ত সেই বাতাসে ভাইরাস সক্রিয় থাকতে পারে।
আরও উদ্বেগজনক বিষয় হলো, উপসর্গ প্রকাশের আগেই একজন আক্রান্ত ব্যক্তি অন্যদের মধ্যে সংক্রমণ ছড়াতে পারেন। পরিসংখ্যান বলছে, যারা টিকা নেননি, তাদের মধ্যে ১০ জনের ৯ জনই সংক্রমিত ব্যক্তির সংস্পর্শে এলে হামে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকিতে থাকেন।
হামের লক্ষণগুলো কী?
* উচ্চ জ্বর (১০১° ফারেনহাইট বা তার বেশি, যা ১০৪° ফারেনহাইটেরও বেশি হতে পারে)
* কাশি
* নাক দিয়ে পানি পড়া
* চোখ লাল হয়ে পানি পড়া
* কপলিক স্পট (মুখের ভেতরে ছোট ছোট সাদা দাগ)
* লাল দাগের র্যাশ। কিছু দাগ সামান্য উঁচু হয়। সাধারণত মুখ বা চুলের গোড়া থেকে শুরু হয়ে শরীরের বাকি অংশে ছড়িয়ে পড়ে।
যদি মনে হয় হাম হয়েছে, তাহলে কী করা উচিত?
অবিলম্বে আপনার স্বাস্থ্যসেবা প্রদানকারীর সাথে যোগাযোগ করুন এবং আপনার লক্ষণগুলো সম্পর্কে তাদের জানান, যাতে তারা আপনাকে পরবর্তী করণীয় সম্পর্কে বলতে পারেন। স্থানীয় স্বাস্থ্য বিভাগ বা আপনার চিকিৎসকের নির্দেশ ছাড়া জরুরি বিভাগ বা হাসপাতালে যাবেন না, কারণ আপনি অন্যদের সংক্রমিত করতে পারেন।
আপনার আরও যা করা উচিত
* মাস্ক পরার কথা বিবেচনা করুন, যাতে আপনি অন্যদের সংক্রমিত না করেন।
* কাশি বা হাঁচির সময় টিস্যু দিয়ে আপনার মুখ ও নাক ঢাকুন এবং ব্যবহৃত টিস্যুটি ময়লার ঝুড়িতে ফেলুন। আপনার কাছে টিস্যু না থাকলে, হাতে না ধরে জামার উপরের অংশ বা কনুইতে কাশি বা হাঁচি দিন।
* সাবান ও পানি দিয়ে ঘন ঘন হাত ধুয়ে নিন।
* পানীয় বা খাওয়ার বাসনপত্র ভাগাভাগি করে ব্যবহার করবেন না।
* ঘন ঘন স্পর্শ করা হয় এমন পৃষ্ঠতল, দরজার হাতল, টেবিল, কাউন্টার এবং ভাগাভাগি করে ব্যবহার করা ইলেকট্রনিক ডিভাইস জীবাণুমুক্ত করুন।
জে আই