দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

বাংলাদেশে উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে তরুণ-তরুণীদের মধ্যে এইচআইভি সংক্রমণ। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে দেশে নতুন করে ১ হাজার ৮৯১ জন এই মরণব্যাধিতে আক্রান্ত হয়েছেন এবং একই সময়ে প্রাণ হারিয়েছেন ২১৯ জন।
সবচেয়ে আশঙ্কার বিষয় হলো, নতুন শনাক্তদের ৪২ শতাংশই অবিবাহিত তরুণ-তরুণী, যা জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের কপালে চিন্তার ভাঁজ ফেলেছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের জাতীয় এইডস ও এসটিডি নিয়ন্ত্রণ কর্মসূচির তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, ২০২৪ সালে নতুন শনাক্তদের মধ্যে অবিবাহিতদের হার ছিল ৩১ দশমিক ৫ শতাংশ। মাত্র এক বছরের ব্যবধানে ২০২৫ সালে (২০২৪ সালের ডিসেম্বর থেকে ২০২৫ সালের নভেম্বর পর্যন্ত) এই হার বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪২ শতাংশে। অর্থাৎ, এক বছরের ব্যবধানে তরুণদের সংক্রমণের হার বেড়েছে ১০ শতাংশের বেশি।
সংক্রমণের এই বিস্তার কেবল রাজধানীকেন্দ্রিক নয়। যশোরের সিভিল সার্জন মো. মাসুদ রানা জানান, জেলাটিতে ২০২৫ সালে ৫০ জনের বেশি শনাক্ত হয়েছেন, যার মধ্যে স্কুল ও কলেজপড়ুয়া শিক্ষার্থীর সংখ্যা তুলনামূলক বেশি। তার মতে, এই বয়সে সচেতনতার চেয়ে কৌতূহল বেশি থাকে, যা তাদের ঝুঁকিপূর্ণ আচরণের দিকে ঠেলে দিচ্ছে। জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা তরুণদের মধ্যে এই সংক্রমণ বৃদ্ধির পেছনে বেশ কিছু সুনির্দিষ্ট কারণ চিহ্নিত করেছেন:
কনডম ছাড়া যৌন সম্পর্ক এবং একাধিক সঙ্গীর সঙ্গে সম্পর্ক স্থাপন।
ইনজেক্টেবল ড্রাগ ব্যবহারের সময় একই সুচ একাধিক ব্যক্তির মধ্যে ভাগাভাগি করা।
সঙ্গীর স্বাস্থ্য অবস্থা সম্পর্কে না জানা এবং যৌন স্বাস্থ্য নিয়ে অজ্ঞতা।
পরিবার বা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যৌন স্বাস্থ্য নিয়ে খোলামেলা আলোচনা না হওয়া।
ইউএনএইডস বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর সায়মা খান বলেন, ‘অবিবাহিত আক্রান্তদের বড় অংশের বয়স ২৫ বছরের নিচে। এই বয়সে রোমাঞ্চ ও ঝুঁকি নেয়ার প্রবণতা থাকে বেশি। সচেতনতার অভাবে তারা না বুঝেই ঝুঁকিপূর্ণ আচরণে জড়িয়ে পড়ছে।’
মনস্তত্ত্ববিদ অধ্যাপক হেলাল উদ্দিন আহমেদ মনে করেন, প্রযুক্তির দ্রুত বিস্তার ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের সহজলভ্যতা তরুণদের আচরণে পরিবর্তন আনছে, অথচ সেই তুলনায় সঠিক সচেতনতা বাড়ছে না।
অন্যদিকে, এনজিও প্রতিনিধি রাসেল আহমেদ (ছদ্মনাম) জানান, সামাজিক ট্যাবুর কারণে অনেকেই সুরক্ষার বিষয়গুলো এড়িয়ে চলেন এবং আক্রান্ত হওয়ার ভয় থাকলেও লোকলজ্জায় পরীক্ষা করাতে দেরি করেন। ভাইরাসবিদ অধ্যাপক নজরুল ইসলাম সংবাদমাধ্যমকে জানান, এইচআইভি পুরোপুরি নিরাময়যোগ্য না হলেও নিয়মিত চিকিৎসা ও ওষুধের মাধ্যমে আক্রান্ত ব্যক্তি প্রায় স্বাভাবিক জীবন কাটাতে পারেন এবং অন্যের মধ্যে সংক্রমণের ঝুঁকিও কমিয়ে আনতে পারেন। তবে বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, এই সংকট রুখতে কেবল চিকিৎসাই যথেষ্ট নয়। স্কুল পর্যায়ে প্রজনন ও যৌন স্বাস্থ্য শিক্ষার বিস্তার, ব্যাপক সচেতনতামূলক কর্মসূচি এবং ঝুঁকিপূর্ণ আচরণ নিয়ে খোলামেলা আলোচনা এখন সময়ের দাবি।
স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে এসব কার্যক্রমের নিয়মিত পর্যবেক্ষণ ও মূল্যায়ন জরুরি বলে তারা মনে করেন।
কে